img

শায়েস্তাগঞ্জের জান্নাতুলের ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি অর্জন

প্রকাশিত :  ১৮:৪০, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

শায়েস্তাগঞ্জের জান্নাতুলের ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি অর্জন

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ এর শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি) চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার তথ্য জানান।

জান্নাতুল শায়েস্তাগঞ্জের জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা আফজল আলী উপজেলার পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের আর্থিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জান্নাতুল পড়াশোনা চালিয়ে যান।

২০২৫ সালে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের এ সামার স্কুলে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করেন তিনি।

সামার স্কুল প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান জান্নাতুল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে চার বছরের জন্য ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জান্নাতুল বলেন, “এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।”

মেয়ের এ অর্জনে উচ্ছ্বসিত বাবা আফজল আলী। মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ায় তিনি অনেকটাই চিন্তামুক্ত হয়েছেন। এখন তাঁর মেয়ে ভালো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। মেয়ের এ অর্জনে তিনি গর্বিত।

জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জান্নাতুলের এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার। সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব— জান্নাতুল তার উজ্জ্বল প্রমাণ।

শায়েস্তাগঞ্জের একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে জান্নাতুলের এ সাফল্যে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা যে মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না, জান্নাতুলের অর্জন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ জগন্নাথপুরের ৩ যুবক

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ২০ আগষ্ট ২০২৬

লিবিয়া থেকে গ্রিসে অবৈধভাবে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ নৌকা ট্র্যাজেডির ঘটনায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার তিন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। খাবার ও পানির সংকটে নৌকাটি দীর্ঘ ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। 

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন- উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের আখল মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ টিপু (২৫), গন্ধর্বপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে হাবিব উল্লাহ (২৮) এবং হিজলা গ্রামের ছালিক মিয়ার ছেলে ইউসুফ আলী (২০)।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য মতে, নিখোঁজ যুবকদের বিদেশ পাঠাতে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের সাথে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি হয়েছিল। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে ওমান হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট রাতে তিনি লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে গেইম দেন। অপরদিকে হিজলা গ্রামের ইউসুফ আলী পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে চিলাউড়ার করিম দালালের মাধ্যমে গত ১ জুলাই বাড়ি ছাড়েন এবং লিবিয়া পৌঁছে গ্রিসের উদ্দেশে গেইমে অংশ নেন। বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু চিলাউড়ার করিম দালাল ও দোয়ারাবাজারের জসিম দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে গেইম দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে নিখোঁজদের স্বজনরা কোনোভাবেই এই নির্মম সত্যি মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিখোঁজ ইউসুফ আলীর সম্পর্কে চাচা সাদিক আলম জানান, অভাব-অনটনের কারণে বাবার সাথে কৃষিকাজ করতো ইউসুফ। খুবই নিরীহ ও নম্র প্রকৃতির ছেলেটিকে অনেক কষ্ট করে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। করিম দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহর ছোট ভাই জহুর উল্লাহ ও প্রবাসে থাকা বড় ভাই আব্দুল ওয়াহিদ জানান, তারা পাঁচ ভাই ও এক বোন, যার মধ্যে হাবিব সবার ছোট। দালাল আজিজের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি ওমান হয়ে লিবিয়া যান। লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে ৩টি বোট রওনা হয়েছিল, যার মধ্যে ২টি পৌছালেও অপর বোটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নিখোঁজদের পরিবারে কান্নার রোল পড়লেও স্বজনরা এখনো বিশ্বাস করেন তাদের সন্তানরা জীবিত আছেন। স্বজনদের ধারণা, গ্রিসে না পৌঁছানো বোটটির কোনো একটি স্থানে তারা এখনও বেঁচে আছেন এবং শিগগিরই ভালো কোনো খবর আসবে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে একটি রাবার নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক। নৌকাটি একটি স্পিডবোট ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না, ফলে এটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। সমুদ্রের মাঝপথে নৌকাটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। অনাহার, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ ও চরম পানিশূন্যতায় টানা ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার সময় অন্তত ১১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানির মরদেহ বাধ্য হয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট স্রোতের টানে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ৩০ জনের মধ্যে মারাত্মক অসুস্থদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তাদের অনেকের শরীরে পচন ধরেছে।

ভূমধ্যসাগরে যুবকদের নিখোঁজের বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রিসে যাওয়ার পথে এলাকার কেউ নিখোঁজ হয়েছেন বলে পুলিশকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বা অভিযোগ করা হয়নি।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর