img

শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত :  ২০:০৩, ২৫ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন

সংগ্রাম দত্ত: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গল। প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনসহ নানা প্রয়োজনে এ শহর থেকে হবিগঞ্জ ও সিলেটের দিকে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের বিরতিহীন বাস সার্ভিসে শ্রীমঙ্গলে কোনো স্টপেজ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় যাত্রীরা।

এই ভোগান্তি কমাতে এবং শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের যাত্রী ওঠানামার জন্য স্টপেজ চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শ্রীমঙ্গল শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা নয়, এটি বৃহত্তর অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ ও সিলেটমুখী বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। অথচ হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বাস সার্ভিসে শ্রীমঙ্গলে স্টপেজ না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের অযথা সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ বেশি বলে জানান বক্তারা। শ্রীমঙ্গল থেকে সরাসরি বাসটিতে উঠতে না পেরে অনেক যাত্রীকে অন্য পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কেউ কেউ গন্তব্যের আগে বা পরে নেমে অতিরিক্ত যানবাহন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বাড়ছে, পাশাপাশি ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শ্রীমঙ্গলবাসী কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। তাঁরা চান স্বাভাবিক ও ন্যায্য যাতায়াতের সুযোগ। একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরীর মানুষের জন্য একটি প্রয়োজনীয় আন্তঃজেলা বাস সার্ভিসে স্টপেজ না থাকা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

সংস্কৃতিকর্মী মো. তারেক ইকবালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নিহার রঞ্জন দেবনাথ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মিতালী দত্ত, কোষাধ্যক্ষ সুলতান আহমদ, সদস্য মো. ওয়াহিদ হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. কাওছার ইকবাল, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, সিনিয়র সদস্য সৈয়দ আমিরুজ্জামান প্রমুখ।

বক্তারা আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলে একসময় বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীসেবা ও স্টপেজ সুবিধা থাকলেও বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। ফলে জনসংখ্যা, পর্যটন ও যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনসেবা সম্প্রসারণ জরুরি। হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের শ্রীমঙ্গল স্টপেজ চালু হলে প্রতিদিনের যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনের যাত্রী। আমাদের কষ্টের কথা শুনবে কে? একটি বাসে শ্রীমঙ্গলে স্টপেজ দিলে যদি শত শত মানুষের সময়, শ্রম ও অর্থ বাঁচে, তাহলে সেই দাবি বাস্তবায়নে এত অনীহা কেন?’

তাঁরা বলেন, শ্রীমঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরী হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিয়মিত হবিগঞ্জ ও সিলেটে যাতায়াত করতে হয়। তাই যাত্রীসেবা বাড়াতে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের শ্রীমঙ্গল স্টপেজ দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।

মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের শ্রীমঙ্গলে স্টপেজ চালুর জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত এ দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ছাতকের চা বিক্রেতার মেয়ে রুহি পেলো ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ

প্রকাশিত :  ১৩:৪৮, ২২ আগষ্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের মেয়ে মেরিন জামান রুহি উচ্চশিক্ষার জন্য চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW) থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের স্কলারশিপ পেয়েছেন।

এই স্কলারশিপের আওতায় আগামী চার বছর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন রুহি।

উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের মেয়ে রুহি। আব্দুল কাদির পেশায় চা বিক্রেতা। নৌকা দিয়ে চা বিক্রি করেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও তাঁর এমন অর্জন এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান রুহির উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই সীমাবদ্ধতা তাঁকে থামাতে পারেনি। নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি অর্জন করেছেন দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ।

রুহির এই সাফল্যে তাঁর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণদের কাছে তাঁর এ অর্জন অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে।

রুহির স্বজনরা জানান, সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে এসে রুহির এমন সাফল্য তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। তাঁর উচ্চশিক্ষার পথচলায় পরিবারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও দোয়া থাকবে।

স্থানীয়রা বলেন, রুহির এ অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো ছাতকবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তার সাফল্য এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর