img

হামহামের দুর্গম সিতাপে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৯:৪৫, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামহামের দুর্গম সিতাপে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হামহাম ঝরনার দুর্গম সিতাপ এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। পাহাড়ি দুর্গম পথ, পাথুরে ঝিরিপথ এবং প্রবল পানির স্রোতের কারণে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কয়েকজন মাছ শিকারি হামহাম পর্যটন এলাকার মোকাম টিলার সংলগ্ন সিতাপ এলাকায় নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় তাঁরা পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। বিষয়টি জানার পর তাঁরা দ্রুত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে  শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরকারি বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিতাপ এলাকাটি পাহাড়ের ভেতরে হওয়ায় সেখানে পৌঁছানোই বেশ কঠিন। দুর্গম পাহাড়ি পথ, পাথুরে ঝিরিপথ এবং পানির প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযানে সংশ্লিষ্টদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারী দল মরদেহটি নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় ইউপি সদস্য সজয় কিশোর যাদব, চাম্পারায় চা-বাগানের বড় ম্যানেজার রাহেল রানা এবং এলাকার বাসিন্দারা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও পানির প্রবল স্রোতে মরদেহটি ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কোনো এলাকা থেকে ভেসে এসে সিতাপের পানিতে আটকে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো এবং পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।

হামহাম ঝরনা ও এর আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহটির পরিচয় সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য জানলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।




সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘নির্দেশে’ মামলা যাচ্ছে পিবিআইতে!

প্রকাশিত :  ০৬:৫৭, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের রায়নগরের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট সফরকালে নিহত সাত্তার দম্পতির দুই মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু স্বজনদের নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এসময় মন্ত্রী তাদেরকে সুষ্ঠ তদন্তের আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, এ ব্যাপারে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পক্ষপাত মুক্ত তদন্ত হবে। তার এমন আশ্বাসে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের ব্যাপারে আশায় বুক বাঁধেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, ওই দিন সিলেট সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি তুলে ধরেন সিলেট-৬ আসনের সাংসদ ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছ থেকে মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন ও দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।মানচিত্র

পরে ঢাকায় ফেরার পথে আবারও বিষয়টি তার সামনে তুলে ধরেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তখন মন্ত্রী পুলিশ মহাপরিদর্শককে কল দিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে গেল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নগরীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেরা নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন বলেছেন সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির দুই মেয়ে।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়ার বিষয়ে জানতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু জানেন না।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন ব্যবসায়ী সাত্তার এমএ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের গৃহকর্মী। ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় রঙ মিস্ত্রি বাবুলকে। তিনি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধীতে জানিয়েছেন টাকার জন্য চুরি করতে গিয়ে তাদেরকে খুন করেছেন। তবে তার এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় নিহতদের স্বজনরা। তারা এর নেপথ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরছেন। এমনকি, মরহুম সাত্তারের মেয়ে সুরাইয়া বাদী হয়ে থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন সেখানেও সে প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর