img

৬০ লাখ ডলারে গয়না লুটের মামলায় মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান

প্রকাশিত :  ১৪:০৯, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬০ লাখ ডলারে গয়না লুটের মামলায় মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান

২০১৬ সালে প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিম কার্দাশিয়ানকে মঙ্গলবার ১ ইউরো (১.১৫ ডলার) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে একটি ফরাসি আদালত। আদালতের এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণই অবশ্য কিম কার্দাশিয়ানের দাবি ছিল। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডাকাতির এই ঘটনাটিকে কার্দাশিয়ান তার 'জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা' বলে বর্ণনা করেছিলেন। গত বছর আদালত এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। 

এরপর থেকেই কার্দাশিয়ান এই স্মৃতি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তিনি ও তার স্টাইলিস্ট সিমন হারুশ ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সংবাদ সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, 'অভিজ্ঞতাটি ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ছিল। এর প্রভাব এখনো আমাদের মনে রয়ে গেছে। আজকের এই রায় শুধু ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি জবাবদিহি ও স্বীকৃতির প্রমাণ।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আদালত এবং এই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে যারা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি, এখন এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারব।'

ওই মামলার এক আইনজীবী জানান, আদালত হোটেল দ্য পোরতালেস-এর একজন সাবেক রিসেপশনিস্টকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ডাকাত দল যখন কার্দাশিয়ানকে টার্গেট করে, তখন তিনি ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন।

ওই রিসেপশনিস্ট জানান, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর 'ফ্যাশন উইক' চলাকালে গয়না ডাকাতির ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি ক্ষতিপূরণ ও সুদ বাবদ সাড়ে ৫ লাখ ইউরো দাবি করেছিলেন। তার আইনজীবী মোহান্দ উইদজা এই রায়কে বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন।

কার্দাশিয়ান ও অন্যদের বিষয়ে দেওয়া আদালতের লিখিত রায়গুলো এপি-র সাংবাদিকের সামনে পড়ে শোনান এই আইনজীবী।

আদালত ওই হোটেলকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। এছাড়া ডাকাতির সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কার্দাশিয়ানের স্টাইলিস্ট হারুশকেও তার দাবি করা ১ ইউরো দেওয়া হয়েছে।

বিচার চলাকালে কার্দাশিয়ানের পক্ষে কাজ করা ফরাসি আইনজীবীরা চলতি সপ্তাহে এপি-র পক্ষ থেকে করা টেক্সট মেসেজ ও ফোনকলের সাড়া দেননি।

ডাকাতদের মধ্যে দুজন পুলিশের ছদ্মবেশে জোরপূর্বক কার্দাশিয়ানের স্যুইটে প্রবেশ করে। তারা জিপ টাই ও টেপ দিয়ে কার্দাশিয়ানকে বেঁধে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া গয়নার মধ্যে একটি হীরার আংটিও ছিল; সেটি তিনি ওই রাতে গিভেঞ্চির এক শোতে পরেছিলেন।

বয়সের কারণে ফ্রান্সে এই ডাকাতরা 'গ্র্যান্ডপা রবার্স' নামে পরিচিতি পান। সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অন্যান্য অভিযোগে যখন তাদের বিচার হয়, তখন তাদের ছয়জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০-এর কোঠায়।

বিচার-পূর্ব আটকাবস্থায় এরইমধ্যে সাজা ভোগ করে ফেলায় দোষী সাব্যস্ত কাউকেই আর নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। তাদের কেউ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেননি।

ডাকাতদের দোষী সাব্যস্ত করার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্দাশিয়ান বলেন, 'এই মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।'

এই তারকা বলেন, 'ডাকাতির এই ঘটনা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা, যা আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। যা ঘটেছে, তা আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তবে আমি মানুষের মানসিক উত্তরণ ও জবাবদিহির শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং সবার ক্ষত সেরে ওঠার জন্য প্রার্থনা করি।'

img

ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার মার্কিন র‌্যাপার, দান করবেন ১০ লাখ ডলার

প্রকাশিত :  ০৮:৫২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৯, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনকে ১০ লাখ ডলার দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‌্যাপার ম্যাকলমোর। তিনি জানিয়েছেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া পুরো অর্থই এই ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দেওয়া হবে।

মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলার কয়েক দিন পর ওই সফর থেকে তাকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণা দেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যাকলমোর যার আসল নাম বেন হ্যাগার্টি, বলেন, এড শিরানের লুপ ট্যুর থেকে পাওয়া আমার পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনি জনগণকে সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংগঠনকে দান করব।

তিনি নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের ধনকুবের মালিক রবার্ট ক্র্যাফটকেও একই পরিমাণ অর্থ দানের আহ্বান জানান।

ম্যাকলমোর বলেন, আমাদের মতপার্থক্য যাই হোক না কেন, অন্তত এ বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি যে ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষা করা মূল্যবান।

ক্র্যাফট নিশ্চিত করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দিতে তিনি শিরানের ওপর চাপ দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, ম্যাকলমোরের ‘ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীকের দীর্ঘ ইতিহাস’ রয়েছে। এ কারণে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিকানাধীন গিলেট স্টেডিয়ামে তাকে অনুষ্ঠান করার সুযোগ না দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে ম্যাকলমোর বলেন, তার এই অর্থ দান নিজের বা চলমান বিতর্ককে কেন্দ্র করে নয়। তিনি বলেন, তিনি তাদের কথা সামনে আনতে চান, যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়াই সন্তানদের কোলে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন। পাশাপাশি চিকিৎসক, প্যারামেডিক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের কথাও উল্লেখ করেন, যারা বারবার ঝুঁকি নিয়ে সেখানে ফিরে যাচ্ছেন।

এক দিন আগে ইসরাইলি হামলায় আহত এক ব্যক্তিকে সহায়তা করতে গিয়ে নিহত ফিলিস্তিনি কিশোর মুহাম্মদ আল-জিনাতির কথাও উল্লেখ করেন ম্যাকলমোর। তিনি বলেন, সে একজন শিশু ছিল। দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ত্রাণ দিয়ে এমন পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব নয়। এটি মানুষের তৈরি অবিচার এবং এর জন্য দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। ফিলিস্তিনিদের আর এক দিনও স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষা করতে হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি মাসের শুরুতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের সঙ্গে কনসার্টে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন ম্যাকলমোর। পাশাপাশি তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন। এরপর শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

ম্যাকলমোর দাবি করেন, ১৩ বছরের বন্ধু শিরান তাকে জানিয়েছিলেন, তাকে সফর থেকে বাদ না দিলে অন্য স্টেডিয়াম মালিকদের বয়কট সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ক্র্যাফট। তবে শিরান বলেন, তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সফরের আয়োজক ও ভেন্যুগুলো, তিনি নন।

শিরান ইনস্টাগ্রামে বলেন, আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। এই ভয়াবহ সংঘাত নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। আমি প্রকাশ্যে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলেই যে আমার মতামত নেই, তা নয়।

তিনি আরও বলেন, নিজের মঞ্চকে তিনি রাজনৈতিক ফোরাম নয়, বরং নিরাপদ ও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে রাখতে চান।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


বিনোদন এর আরও খবর