প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

img

‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে

প্রকাশিত :  ১৮:৫২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে

লন্ডন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬:  ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের ৫০ বছরের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন, ত্যাগ ও সাফল্যের ইতিহাস নিয়ে রচিত ‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের জীবনসংগ্রামের ইতিহাস স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করলে সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে যাওয়ার কিংবা বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূর্বসূরিদের প্রকৃত অবদান সম্পর্কে জানতে পারে না। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে।

১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মোশতাক আহমদ, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা রাজন উদ্দিন জালাল, ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিন  এবং কমিউনিটি নেত্রী আলমা চৌধুরী।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জেরেমি করবিন এমপির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি। তাঁর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন তাঁর কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজার তালাল কারিম।

ইস্ট এন্ড কানেকশনের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান সয়ফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ট্রাস্টি বদরুল আলম এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আহমদ উল্লাহ দোলা। শেষদিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন সিরাজুল ইসলাম জোয়ার্দার।  

স্পিকার মোশতাক আহমদ বইটির প্রকাশনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। এমন সব স্মৃতিকে সংরক্ষণ করেছেন, যেগুলো হয়তো একদিন হারিয়ে যেত। সেগুলোকে বেঁচে থাকার একটি স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছেন।” এ উদ্যোগে সহায়তার জন্য তিনি ন্যাশনাল লটারি হেরিটেজ ফান্ডকেও ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, “আজ রাতে আমরা শুধু একটি বইয়ের প্রকাশনা উদযাপন করছি না; আমরা স্মৃতি সংরক্ষণ করছি। আমরা বলছি—এই জীবনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এই সংগ্রামগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এই ত্যাগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসব গল্প পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “আসুন আমরা সংগ্রামকে উদযাপন করি, অগ্রযাত্রাকে উদযাপন করি, আমাদের পূর্বসূরিদের সম্মান জানাই এবং নিশ্চিত করি—তাঁদের গল্প যেন বলা হতে থাকে। আসুন, টাওয়ার হ্যামলেটসকে ভালোবাসি, টাওয়ার হ্যামলেটসকে নিয়ে গর্ব করি। আমরা অতীতেও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, ভবিষ্যতেও হবো; তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবো।

রাজন উদ্দিন জালাল বলেন,  বাংলাদেশিরা একসময় কঠিন সময় পার করেছেন। তারা প্রতিদিন বর্ণবাদী হামলার শিকার হতেন। নিজেদের ঘর, রাস্তা, স্কুল কিংবা কর্মস্থল—কোথাও তারা নিরাপদ ছিলেন না। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করত এবং বর্ণবাদী সহিংসতার শিকারদেরই অপরাধী হিসেবে দেখত।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনে বর্ণবাদীদের বড় সমাবেশ হয়েছে। এতে পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো বর্ণবাদী বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক । সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প, ইলন মাস্ক ইউকেতে বর্ণবাদ ও ঘৃণাজনিত মতবাদ রপ্তানি করছে । নাইজেল ফারাজ  ঘৃণা ও ইসলাম বিদ্বেষকে উসকে দিতে ইডিএলকে ফিরিয়ে আনছে। তাদের সবচেয়ে বড় সমর্থক হচ্ছে মুলধারার রাজনীতি ও মিডিয়া। তবে আমাদের কমিউনিটি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এখনও সোচ্চার। ২০২৫ সালে যখন বর্ণবাদীরা হোয়াটচ্যাপেলে আসার হুমকি দেয় তখন কমিউনিটির দশ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করে তাদের হুমকি রুখে দিয়েছিলো । এরপর পুলিশ তাদেরকে ফিরে আসার অনুমতি দেয়নি । সুতরা, আমাদেরকে সবসময়ই বর্ণবাদ, ফ্যাসিজম ও ইসলাম বিদ্বেষ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের কমিউনিটিকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

বদরুল আলম বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসও অনেক সময় বদলে যায়। তাই ইতিহাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে। ইতিহাস যেন পরিবর্তিত না হয়, প্রত্যেকের অবদান যেন সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয় এবং পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারে—কমিউনিটি গড়ে তুলতে কার কী অবদান ছিল।”

উল্লেখ্য, ৬৬৮ পৃষ্ঠার বইটির মোড়ক উন্মোচনের পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের একটি করে কপি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৪ শত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টাউন হলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, জীবনসংগ্রাম ও কমিউনিটি গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডন মহানগর জমিয়তের উদ্যোগে শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

প্রকাশিত :  ১৯:৩০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে, লন্ডন মহানগর শাখার উদ্যোগে শায়খে কাতিয়া রহ.-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র, হযরত ফেদায়ে মিল্লাত রহ.-এর খলিফা, জগন্নাথপুর উপজেলা জমিয়তের সাবেক সহ-সভাপতি এবং কাতিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জীবন, ইলমি ও দ্বীনি খেদমত এবং বহুমুখী কর্মময় জীবন নিয়ে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে, লন্ডন মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা আশফাকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন লন্ডন মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রিয়াজ আহমদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা মরহুম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর বর্ণাঢ্য জীবন, ইলমি মেহনত, দ্বীনি খেদমত, আখলাক, আমল, বিনয়, ইখলাস এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ. ছিলেন পদ-পদবির প্রতি সম্পূর্ণ অনাসক্ত, অত্যন্ত মুখলিস, পরহেজগার ও আল্লাহওয়ালা একজন বুযুর্গ। ইলম ও আমলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর জীবন ছিল সুন্নাতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও পাবন্দির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি তাঁর পিতা, আশিকে মাদানি রহ. মাওলানা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া রহ.-এর সুন্নতি আমল, আদর্শ ও দ্বীনি মেজাজকে নিজের জীবনে ধারণ করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বক্তারা আরও বলেন, শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জীবন ছিল নীরব দ্বীনি খেদমত, ইখলাস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি মাদরাসা, তালিম-তরবিয়ত ও দ্বীনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় মানুষের মাঝে দ্বীনের খেদমত করে গেছেন। তাঁর ইন্তেকালে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ছাত্র-শিষ্য এবং বৃহত্তর উলামায়ে কেরাম ও জমিয়তের অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন—জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ইউকে জমিয়তের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা শায়খ আসগর হোসাইন; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া; কেন্দ্রীয় জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের সভাপতি ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ; শায়খে কাতিয়া রহ.-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি মাওলানা ইউসুফ আমিনী; জগন্নাথপুর উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ মাসরুর আহমদ ক্বাসেমী; কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ; ইউকে জমিয়তের সহ-সভাপতি হাফিজ হোসাইন আহমদ বিশ্বনাথী; ইউকে জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ওমান শাখার সভাপতি মাওলানা রশীদ আহমদ; সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালীম সাতবাকী এবং সেক্রেটারি মাওলানা জাহেদ নাসির।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন মহানগর জমিয়তের উপদেষ্টা মাস্টার আব্দুর রউফ, সহ-সভাপতি হাফিজ জিয়াউদ্দীন, সহ-সভাপতি হাফিজ রশীদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হাসান, তাফসিরুল কুরআন বিষয়ক সম্পাদক মুফতি ওলিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই, সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাবির হুসাইন, ওয়েলফেয়ার সম্পাদক মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন, সৈয়দ আল আমীন, হাফিজ মাওলানা সৈয়দ সোহাইল, মাওলানা আমিনুল ইসলাম রাজু, শায়খে কাতিয়ার সুযোগ্য নাতি মাওলানা নোমান আহমদ, মরহুম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা মুবাশ্বির আহমদ ও মেঝো পুত্র মাওলানা মুদ্দাসসির আহমদসহ জমিয়তের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, উলামায়ে কেরাম ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর রূহের মাগফিরাত, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাঁর সকল দ্বীনি খেদমত কবুলের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ছাত্র-শিষ্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও সবর ও উত্তম প্রতিদানের দোয়া করা হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর