img

মাতৃত্বের পর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

প্রকাশিত :  ০৮:৩২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাতৃত্বের পর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

জনপ্রিয় অীভনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ মাতৃত্বের কারণে অনেক দিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন । যে কারণে অনেকের অজানা সন্তান জন্মের কারণে কতটা শারীরিক পরিবর্তন ঘটেছে এই বলিউড তারকার। তাই বহুদিন পর ক্যাটরিনাকে দেখতে পেয়ে চমকে গেছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ অভিনেত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করতেও দ্বিধা করেননি। 

বিষয়টি আঁচড় কেটেছে ক্যাটরিনার মনে। যেজন্য এবার কটাক্ষের জবাব দিলেন হিন্দি সিনেমার নন্দিত এই তারকা।

এই সময়সহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, মাতৃত্বের কারণে ক্যাটরিনার শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দিনের পর দিন নেটিজেনরা নেতিবাচক মন্তব্য করে চলেছেন। এটি নিয়ে এবার খোলাখুলি কথা বলেছেন অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আগে ও পরে তাঁর ছবি পাশাপাশি রেখে কটাক্ষ, বডি শেমিংও করা হয়েছে বহুবার।

বিষয়টি নিয়ে আলি জাফর, সোনারিকা ভাদোরিয়া, শিবালিকা ওবেরয়ের মতো একাধিক তারকা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এই ধরনের মন্তব্য ও আচরণের সমালোচনা করেছেন। 

ক্যাটরিনার কথায়, সন্তান জন্মের পর তাঁর ত্বক আগের তুলনায় আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। ফলে কোন প্রসাধনী তাঁর ত্বকের জন্য উপযুক্ত, তা বুঝতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। সেই সময়ে তিনি ত্বকের যত্নের জন্য এমন কিছু সামগ্রী বেছে নিয়েছিলেন, যা আরাম দেয়। তবে শুধু ত্বকের যত্ন নয়, সময়ের সঙ্গে সৌন্দর্য সম্পর্কে ধারণাও বদলেছে তাঁর।

মডেলিং ও অভিনয়ের শুরুর দিকে সৌন্দর্যের কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি নিয়ে চাপ ছিল। এখন তাঁর কাছে সুন্দর দেখানোর অর্থ হলো নিজের মধ্যে ভালো থাকা। তাই চেহারা নিয়ে যারা নেতিবাচক কথা বলছেন তাদের সৌন্দর্য সম্পর্কে সত্যিকারের কোনো ধারণা নেই। কারণ বিভিন্ন বয়স এবং মাতৃত্বের আগে ও পরের সৌন্দর্য আলাদা–এ কথা জানা নেই নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের।    


img

৬০ লাখ ডলারে গয়না লুটের মামলায় মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান

প্রকাশিত :  ১৪:০৯, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০১৬ সালে প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিম কার্দাশিয়ানকে মঙ্গলবার ১ ইউরো (১.১৫ ডলার) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে একটি ফরাসি আদালত। আদালতের এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণই অবশ্য কিম কার্দাশিয়ানের দাবি ছিল। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডাকাতির এই ঘটনাটিকে কার্দাশিয়ান তার 'জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা' বলে বর্ণনা করেছিলেন। গত বছর আদালত এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। 

এরপর থেকেই কার্দাশিয়ান এই স্মৃতি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তিনি ও তার স্টাইলিস্ট সিমন হারুশ ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সংবাদ সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, 'অভিজ্ঞতাটি ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ছিল। এর প্রভাব এখনো আমাদের মনে রয়ে গেছে। আজকের এই রায় শুধু ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি জবাবদিহি ও স্বীকৃতির প্রমাণ।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আদালত এবং এই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে যারা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি, এখন এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারব।'

ওই মামলার এক আইনজীবী জানান, আদালত হোটেল দ্য পোরতালেস-এর একজন সাবেক রিসেপশনিস্টকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ডাকাত দল যখন কার্দাশিয়ানকে টার্গেট করে, তখন তিনি ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন।

ওই রিসেপশনিস্ট জানান, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর 'ফ্যাশন উইক' চলাকালে গয়না ডাকাতির ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি ক্ষতিপূরণ ও সুদ বাবদ সাড়ে ৫ লাখ ইউরো দাবি করেছিলেন। তার আইনজীবী মোহান্দ উইদজা এই রায়কে বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন।

কার্দাশিয়ান ও অন্যদের বিষয়ে দেওয়া আদালতের লিখিত রায়গুলো এপি-র সাংবাদিকের সামনে পড়ে শোনান এই আইনজীবী।

আদালত ওই হোটেলকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। এছাড়া ডাকাতির সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কার্দাশিয়ানের স্টাইলিস্ট হারুশকেও তার দাবি করা ১ ইউরো দেওয়া হয়েছে।

বিচার চলাকালে কার্দাশিয়ানের পক্ষে কাজ করা ফরাসি আইনজীবীরা চলতি সপ্তাহে এপি-র পক্ষ থেকে করা টেক্সট মেসেজ ও ফোনকলের সাড়া দেননি।

ডাকাতদের মধ্যে দুজন পুলিশের ছদ্মবেশে জোরপূর্বক কার্দাশিয়ানের স্যুইটে প্রবেশ করে। তারা জিপ টাই ও টেপ দিয়ে কার্দাশিয়ানকে বেঁধে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া গয়নার মধ্যে একটি হীরার আংটিও ছিল; সেটি তিনি ওই রাতে গিভেঞ্চির এক শোতে পরেছিলেন।

বয়সের কারণে ফ্রান্সে এই ডাকাতরা 'গ্র্যান্ডপা রবার্স' নামে পরিচিতি পান। সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অন্যান্য অভিযোগে যখন তাদের বিচার হয়, তখন তাদের ছয়জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০-এর কোঠায়।

বিচার-পূর্ব আটকাবস্থায় এরইমধ্যে সাজা ভোগ করে ফেলায় দোষী সাব্যস্ত কাউকেই আর নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। তাদের কেউ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেননি।

ডাকাতদের দোষী সাব্যস্ত করার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্দাশিয়ান বলেন, 'এই মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।'

এই তারকা বলেন, 'ডাকাতির এই ঘটনা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা, যা আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। যা ঘটেছে, তা আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তবে আমি মানুষের মানসিক উত্তরণ ও জবাবদিহির শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং সবার ক্ষত সেরে ওঠার জন্য প্রার্থনা করি।'

বিনোদন এর আরও খবর