img

তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, বিপাকে ৪ চা বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ০৫:৩৬, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

 তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, বিপাকে ৪ চা বাগানের শ্রমিকেরা

হবিগঞ্জ জেলার দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন ৩টি চা-বাগান ও মৌলভীবাজার জেলার মিরতিংগা চা বাগানের শ্রমিকদের টানা তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি বকেয়া পাওনা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা না হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক।

বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বাগানগুলোতে দফায় দফায় কর্মসূচি পালন করেও প্রতিকার না পেয়ে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেন চা-শ্রমিক নেতারা।

মানববন্ধনে দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মিরতিঙ্গা চা-বাগানের শ্রমিকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা বকেয়া মজুরি পরিশোধ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে শ্রমিকরা উল্লেখ করেন, বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে এরিয়ার (বকেয়া পাওনা) বাবদ প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে পাওনা রয়েছে। চারটি বাগানের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের এই খাতে মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি থেকে কর্তন করা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ এবং মালিকপক্ষের নির্ধারিত অংশসহ মোট ৪৭ মাসের টাকা জমা দেওয়া হয়নি। ফলে শ্রমিকরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শ্রমিকরা আরও জানান, বাগানগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। পাশাপাশি শ্রমিকদের বাসস্থান নির্মাণ, ঘরবাড়ি মেরামত, দরজা-জানালা ও ঘরের ছাউনি সংস্কারের কাজও বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে দেউন্দি টি কোম্পানির পঞ্চায়েত সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চা-শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দেউন্দি টি কোম্পানির চারটি বাগানে বর্তমানে তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে বকেয়া এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে জমা দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এসব দাবিতে প্রথমে নিজ নিজ বাগানে কর্মবিরতি পালন করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সিদ্ধান্ত না আজ রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে। পরে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এতেও সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

এদিকে দেউন্দি টি কোম্পানি ম্যানেজার মোঃ রিয়াজ উদ্দিন বলেন ব্যাংক লোন দিচ্ছে না। ২০১৭ সালের পর থেকে ব্যাংক লোন পাচ্ছেন। আগুন লেগে ফ্যাক্টরি বিভিন্নভাবে চা বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিন্তু ব্যাংক আসেন। সমস্যা গুলো নিয়ে কথাও বলেন নি।তবে কোম্পানি চেষ্টা করছে খুব দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে।

চা শ্রমিকদের পঞ্চায়েত সাধারণ সম্পাদক, ইউপি কাউন্সিলর দুলাল ঘোষ জানান আমাদের দাবীদাবা দ্রুত না মানলে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে নোয়াপাড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার মোঃ সোহাগ আহমেদ জানান, ৩ সপ্তাহ বেতনভাতা মঞ্জুরী আটক আছে। আমরা শ্রমিকদের কাছে সময় চেয়েছিলাম কোম্পানি চেষ্টা করছে খুব শীঘ্রই বেতনভাতা পরিশোধের উদ্যাগ নেয়া হবে।

হবিগঞ্জের লালচান্দ চা বাগানের ম্যানেজার মোঃ ফকরুল ইসলাম ফরিদি জানান আগুন লেগে ফ্যাক্টরি পুড়েগিয়েছিল ব্যাংক আসেনি। ২০১৮ থেকে লোন পাচ্ছিনা। ব্যাংক টালবাহানা করে। তথাপি উৎসব বোনাস কোম্পানি দিয়েছেন। এখন ৩ সপ্তাহের মজুরি আটক হয়েছে ব্যাংক লোন পেলে বা কোম্পানি ও চেষ্টা করছেন সমস্যা সমাধানের।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ জানান আমি উধর্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন শ্রমিকদের ঘাম শুকনোর আগে তাদের বকেয়া পরিশোধ করা প্রয়োজন কেন এমন সমস্যা হলো তিনি খুব শীগ্রই সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৃত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল পুলিশ

প্রকাশিত :  ১৫:০৪, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০৬, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুর তিনমাস পর এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

গত ২৯ এপ্রিল ওই নেতার মৃত্যু হলেও ৩১ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার তদন্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওই নেতার নাম আবুল খয়ের ইসরাইল। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ মামলায় তিনি ৫৬ নম্বর আসামি। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর মীরপুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৯ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবুল খয়ের ইসরাইলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ অভিযোগপত্র দাখিলের তিনমাস আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৭ নভেম্বর রাতে মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের হুকুম ও প্ররোচনা ছিল। তার সবুজ সংকেত ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ওই কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে মোট ৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, বাদীর এজাহার, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আবুল খয়ের ইসরাইলের মৃত্যুর বিষয়টি তার জানা নেই। মৃত্যুসনদ পেলে বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর