img

মৃত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল পুলিশ

প্রকাশিত :  ১৫:০৪, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০৬, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

 মৃত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল পুলিশ

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুর তিনমাস পর এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

গত ২৯ এপ্রিল ওই নেতার মৃত্যু হলেও ৩১ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার তদন্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওই নেতার নাম আবুল খয়ের ইসরাইল। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ মামলায় তিনি ৫৬ নম্বর আসামি। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর মীরপুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৯ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবুল খয়ের ইসরাইলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ অভিযোগপত্র দাখিলের তিনমাস আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৭ নভেম্বর রাতে মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের হুকুম ও প্ররোচনা ছিল। তার সবুজ সংকেত ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ওই কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে মোট ৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, বাদীর এজাহার, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আবুল খয়ের ইসরাইলের মৃত্যুর বিষয়টি তার জানা নেই। মৃত্যুসনদ পেলে বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৪:৫১, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)–এর বিরুদ্ধে সিলেট সাইবার আদালতে করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে প্রেসক্লাবের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাংবাদিক এহসানুল হক শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সদস্য সচিব এবং দৈনিক খোলা কাগজের মৌলভীবাজার স্টাফ রিপোর্টার। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখি, শিক্ষা উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সদস্য সচিব রুবেল আহমদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, কাওছার ইকবাল, সৈয়দ আমিরুজ্জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুজার বাবলা এবং প্রেসক্লাবের সদস্য এম এ রকিব, সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ ছায়েদ আহমদ।
 
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শামসুল ইসলাম শামীম এবং সদস্য কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েল, মুসলিম চৌধুরী, মামুন আহমেদ, মিজানুর রহমান আলম ও সুলতান মাহমুদ।
সভায় সাংবাদিক এহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
 এদিকে, সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন ও সদস্য সচিব রুবেল আহমেদ।
 
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ডা. সিনথিয়া তাসনিম সাংবাদিক মো. এহসানুল হকের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে যে মামলা করেছেন, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনিয়ম নিয়ে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রবণতা মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
 
বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তাঁরা।
জরুরি সভা ও যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিক এহসানুল হকসহ সব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তাঁরা।
দাবি মানা না হলে সাংবাদিক সমাজ নিজেদের অধিকার আদায়ে কঠোর আন্দোলনে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রেসক্লাব নেতারা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর