img

রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৮:৪২, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:০৩, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

১৪ বছরের কার্যক্রম শেষে নতুন কমিটি ঘোষণা। গত ৬ বছরে বাংলাদেশে ৩৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ

রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত রাজনগর উপজেলার প্রবাসীদের সংগঠন রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ সভায় সংগঠনের বিগত ৬ বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা, বিদায়ী কমিটির বিলুপ্তি, নতুন আংশিক কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা এবং সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুল হান্নান। রুহুল ইসলাম রুলুর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন তফজু খান। সংগঠনের দীর্ঘ ছয় বছরের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বিদায়ী কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করেন সাবেক সভাপতি আব্দুল হান্নান। পরে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন চৌধুরী জেরিছ এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য শামীম আহমেদ।

ঘোষিত ২০২৬ সালের নতুন আংশিক কার্যনির্বাহী কমিটিতে ময়না মিয়াকে সভাপতি, আবুল কালামকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং রুহুল ইসলাম রুলুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন রুহুল ইসলাম (দুদু), আজিজুল হক ঝুনু, সৈয়দ আশরাফ আলী ফুয়াদ, দুলু চৌধুরী ও শাহজাহান চৌধুরী। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সোয়ালিন করিম চৌধুরী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. জাকির হোসেন ও জগলু চৌধুরী এবং সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সুজা খান। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শাহ মহসিন আলী মিটু, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তফজু খান এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে কয়েছ মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় সংগঠনের বিগত দিনের কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন রুহুল ইসলাম রুলু। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সংগঠনটি প্রবাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি রাজনগরের দলের নির্যাতিত নেতা কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহযোগিতা ও অসহায়, দরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের ঘর মেরামত, টিনের চালা বিতরণ ও গৃহনির্মাণে সহযোগিতা, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এসব মানবিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিগত ছয় বছরে মোট ৩৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

এসব অনুষ্ঠানের ভেন্যু, ব্যানার, সাজসজ্জা, খাবার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ যুক্তরাজ্যে মোট ৪ হাজার ৫৬০ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে মানবিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ হিসাব সভায় উপস্থাপন করা হয়।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম, রুহুল ইসলাম দুদু, সহ-সভাপতি আজিজুল হক ঝুনু, সংগঠনের উপদেষ্টা ময়নুল ইসলাম বুধু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোয়ালিন করিম চৌধুরী, শাহ মহসিন আলী মিটু, মোত্তাকিম শিবলু, পোর্টসমাউথ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, শাহীন চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, পোর্টসমাউথ বিএনপির সভাপতি দেলওয়ার হোসেন আহাদ, জাকির হোসেন জিতু, সুজা খান, বিএনপি নেতা হাজি সেলিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জুয়েল জামান ও শাহজাহান চৌধুরীসহ অনেকে।

বক্তারা সংগঠনের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা রাজনগরের মানুষের কল্যাণে সংগঠনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং প্রবাসে সংগঠনের ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন চৌধুরী জেরিছ এবং সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি আব্দুল হান্নানকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সভায় রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষে লন্ডনে গীতবীণার বিশেষ গীতি-আলেখ্য

প্রকাশিত :  ০৬:০৬, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে লন্ডনের গীতবীণা, স্বাধীনতা ট্রাস্ট এবং কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিন্টার স্টুডিওতে পরিবেশিত হয় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের সূচনায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা বাতিরুল হক সরদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক অ্যালেস্টার ওয়েনস। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সুনীতা চৌধুরী ও রুমী হক যথাক্রমে বাংলা ও ইংরেজিতে গীতবীণার বিশেষ গীতি-আলেখ্য ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ পরিবেশনার ঘোষণা দেন। মূল সাংস্কৃতিক পর্বের প্রারম্ভে স্বাধীনতা ট্রাস্টের সহসভাপতি ভ্যালেন্টাইন হার্ডিং কবিগুরুর রচনা থেকে পাঠ করে শোনান।

গীতবীণার বিশেষ নিবেদন ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ গীতি-আলেখ্যের সূচনায় ড. শ্যামল চৌধুরী গীতবীণার একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষী, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব অরিজিৎ চৌধুরীর আকস্মিক ও অকালপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং গীতবীণার প্রতি তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রবীন্দ্র-গবেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পীতম সেনগুপ্তের ধারাবর্ণনা এবং গীতবীণার সদস্য রুমী হকের ইংরেজি অনুবাদ পাঠের মধ্য দিয়ে গীতি-আলেখ্যটি এগিয়ে চলে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণকালে রচিত একাধিক গান। সমবেত ও দ্বৈত কণ্ঠে মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনায় অংশ নেন রুমী হক, মিতালী বনোয়ারি ও সুনীতা চৌধুরী। রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক নির্ধারিত রাগাংশ পরিবেশন করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সদস্য বুধাদিত্য ভট্টাচার্য। সব গানের সঙ্গে তবলা সংগত করেন সন্দীপ চক্রবর্তী। শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আলোক প্রক্ষেপণের দায়িত্বে ছিলেন কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলস।

গীতি-আলেখ্যটির মূল ভাবনা, গবেষণা ও ধারাবর্ণনায় ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট রবীন্দ্র-গবেষক, লেখক ও প্রাবন্ধিক এবং এই প্রতিবেদক। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯২৬ সালে ইউরোপ সফরকালে রবীন্দ্রনাথ যতসংখ্যক গান রচনা করেছিলেন, তাঁর অন্য কোনো বিদেশ সফরে তেমনটি ঘটেনি। ৬৫ বছরে পদার্পণের পর ১৯২৬ সালের ১২ মে শান্তিনিকেতন থেকে নবমবারের মতো সপরিবারে বিদেশ সফরে যাত্রা করেন কবি। দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। কবির এই দীর্ঘ সফর শুধু ভৌগোলিক পরিসরেই বিস্তৃত ছিল না; তাঁর সৃজনশীল জীবনেও তা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সফরকালে রচিত গানগুলোর মধ্য দিয়ে সেই সময়ের অনুভব, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় তুলে ধরাই ছিল এই গীতি-আলেখ্যের অন্যতম উদ্দেশ্য।

গীতি-আলেখ্যের পর্ব শেষ হলে স্বাধীনতা ট্রাস্টের পরিচালক ড. আনসার আহমেদ উল্লাহ অনুষ্ঠানের আয়োজক, শিল্পীবৃন্দ, কলাকুশলী, সাংবাদিক এবং উপস্থিত দর্শকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গীতবীণার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় স্বাধীনতা ট্রাস্টের সভাপতি জনাব জামিল ইকবাল, সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক ড. শ্যামল চৌধুরী এবং পীতম সেনগুপ্তকে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতা ও মিলনায়তন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জনাব সাদেক আহমেদ চৌধুরী, মৃন্ময় রায় চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন ও আফরিন।

কমিউনিটি এর আরও খবর