img

সারাদেশে মোবাইলের নেটওয়ার্ক সমস্যা, যা বলছে অপারেটররা

প্রকাশিত :  ১৬:৩০, ০১ জুলাই ২০২২

সারাদেশে মোবাইলের নেটওয়ার্ক সমস্যা, যা বলছে অপারেটররা

বাংলাদেশের শীর্ষ টেলিকম অপারেটর গ্রামীণ ফোনের নতুন সিম (টেলিফোন সংযোগ) বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। 

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বা বিটিআরসি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, গ্রামীণ ফোনের সেবার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে ।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান মতে বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। যার মধ্যে গ্রামীণ ফোনের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট কোটি।

বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিস্তর অভিযোগ। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- কল ড্রপ হওয়া, কথা কেটে যাওয়া, প্রায়শই ফোনে নেটওয়ার্ক ওঠানামা করা, ইন্টারনেটের গতি ধীর হওয়া, অনেক সময় ইন্টারনেট না থাকা ইত্যাদি।

ঢাকার বাসিন্দা তামান্না সুরাইয়া বলেন, বিষয়টি বিরক্তিকর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে তিনি এখন কল ড্রপের আতঙ্কে থাকেন। কথা বলার সময় কল কেটে যায় প্রায়ই। ঠিক মতো শোনা যায় না।

ঢাকার আরেক বাসিন্দা দিলরুবা ইয়াসমিন জিনিয়া বলেন, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সার্ভিসের মান এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে বলে মনে হচ্ছে। আমি ভীষণ বিরক্ত হই। তারা সার্ভিস ঠিকমতো দিচ্ছে না।

মোবাইল কোম্পানিগুলো কী বলছে?

সিম বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা দেবার পর গ্রামীণ ফোনের তরফ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিটিআরসির এই নিষেধাজ্ঞাকে তারা অপ্রত্যাশিত বলে বর্ণনা করেছে।

গ্রামীণ ফোন দাবি করছে, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড থেকেও তারা এগিয়ে আছে।

বিবৃতিতে আরেও বলা হয়, ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক ও সেবার মানোন্নয়নে আমরা বিটিআরসি\'র সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

অন্যদিকে দেশের আরেকটি শীর্ষ টেলিকম অপারেটর রবি বলছে, নেটওয়ার্ক নিয়ে গ্রাহকদের যেসব অভিযোগ আছে সেগুলো নিরসনের জন্য সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

রবির হেড অব কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স-এর প্রধান সাহেদ আলম বলেন, টেলিফোন সেবার মানের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, আইটিইউ\'র মানদণ্ড অনুযায়ী কল-ড্রপ দুই শতাংশের বেশি হলে নেটওয়ার্ক সেবা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রবির ক্ষেত্রে সেটি দুই শতাংশের নিচে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন সংযোগের ভালো সেবা নিশ্চিত করতে হলে শুধু সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরই দায়ী হয়। এর সাথে আরো অনেক জড়িত আছে। তারা ঠিকমতো সেবা দিতে না পারে তাহলে সমস্যা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।বর্তমানে মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন করতে পারছে না। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক দুর্বল হবার পেছনে এটিও অন্যতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরে বর্তমানে তারা এক হাজারের বেশি নেটওয়ার্ক টাওয়ারে স্থাপন করতে পারছেন না নানাবিধ বিধিনিষেধ এবং স্থান সংকটের কারণে। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল এবং নানা স্থাপনার ভেতরে ভালো নেটওয়ার্কের জন্য \'ইন-বিল্ডিং সলিউশন\' (আইবিএস) দরকার। কিন্তু নানা বিধি-নিষেধের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বিবিসি বাংলা 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে

প্রকাশিত :  ০৫:৪০, ২৪ মে ২০২৬

রাজধানীর ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে সোহেল রানাই ধর্ষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি।

রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

রামিশা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে যে তাকে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমার জন্য যা যা কাজ আছে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার ঘোষিত রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববারের ভেতরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে, আমরা সেগুলো প্রসেস করছি। তারপর কারিগরি বিষয় আছে। অভিযোগপত্রতো আগের মতো হাতে লেখা হয় না। এইটা সিডিএমএসে এন্ট্রি দিতে হবে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ

রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শনিবার (২৩ মে) মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্ল­বী থানার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

উলে­খ্য, গত ১৯ মে পল্ল­বী থানার একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফুসে ওঠে সারা দেশ। খুনীর বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। রাজধানীসহ সারা দেশে টানা আন্দোলন চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রামিসাদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে শান্তনা দিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্ল­বী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গত বুধবার আদালতে তোলা হলে সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তিনি এও জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

একইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর