img

শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে

প্রকাশিত :  ১৫:৩৩, ১৯ আগষ্ট ২০২২

শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিদেশি বিনিয়োগ অবস্থান করছে গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম অবস্থানে। সাত বছরের মধ্যে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগ বাজার মূলধনের সর্বোচ্চ ৬.৮ শতাংশ থেকে কমে সর্বনিন্ম ৩.৯ শতাংশে অবস্থান করছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চলতি বছরের জুনের শেষে ডিএসইতে বিদেশী যে পরিমাণ বিনিয়োগ এসে নেমেছে, তা ২০১৫ সালের পর থেকে সর্বনিন্ম। ২০১৯ সালে বাজার মূলধন হিসেবে বিদেশির বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ছিলো। বুধবার ডিএসই মার্কেট মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ০৮ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদেশী মালিকানাসহ সমস্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকে। প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বোচ্চ ৩৬.১০ শতাংশ বিদেশী শেয়ার রয়েছে। তারপরে বেক্সিমকো ফার্মার ২৮.৬ শতাংশ। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে ২৫.৭ শতাংশ বিদেশী মালিকানা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

এছাড়াও, রেনাটা লিমিটেডে ২২.৯ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকে ২০.৬ শতাংশ, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে (ডিবিএইচ) ১৯.৩ শতাংশ, বিএসআরএম লিমিটেডে ১৭.৫ শতাংশ, স্কয়ার ফার্মায় ১৩.৯ শতাংশ, রিং শাইন টেক্সটাইলে ১০.২ শতাংশ এবং শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজে ৯.৪ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্টক ব্রোকার বলেছেন, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাবের ফলে স্থানীয় এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের একইভাবে শেয়ার বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব ছিল, যা বাজারকে প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই সুশাসনের অভাবে ভুগছে। এসব কোম্পানির স্পন্সর ডিরেক্টররা প্রায়ই সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে বেনামে শেয়ার লেনদেন করছে।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলোর পর্ষদ মিথ্যা আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। যে কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আস্থা হারাচ্ছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে এবং তাদের ধরে রাখতে হলে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। আর ভালো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে হলে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

বন্ধ চিনিকল ফের চালুতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : শিল্পমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১২:২৩, ০৯ মে ২০২৬

শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো ফের চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় আখ চাষি, শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ শনিবার (৯ মে) পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত আখ চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মিলগুলো বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ।

তাই এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা চাই, বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি নিয়ে আসুক।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে এবং চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর অতিক্রম করেছে।

ফলে আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চালু করতে হবে, কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখ চাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং লাভজনক পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি শিল্প-কারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরো অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

ফলে বন্ধ মিলগুলো ফের সচল করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে এবং দারিদ্র্য কমবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)-এর চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন এবং পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষী প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনীতি এর আরও খবর