img

সুনামগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা

প্রকাশিত :  ১৬:৪৭, ১১ মার্চ ২০১৯

সুনামগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা

জনমত রিপোর্ট ।।  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে সুনামগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ৫টিতে আওয়ামীলীগ, ৩টিতে বিদ্রোহী ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। জেলার ৯টি উপজেলায় এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সর্বমোট ২৮ জন প্রার্থী ছিলেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান ঃ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. খায়রুল হুদা চপল নৌকা প্রতীকে ৪০ হাজার ৯৭ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিষ কান্তি দে ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৭৬ভোট। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আবুল হোসেন তালা প্রতীকে ২১ হাজার ৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন শাহীন চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৫৮৬ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিগার সুলতানা কেয়া বৈদুতিক পাখা প্রতীকে ২২ হাজার ৩৯২ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন । তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী ছাদিয়া বখত ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৪ ভোট।
রোববার দিনগত রাতে এ উপজেলার ৭৪ কেন্দ্রে ফলাফল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের ক্রিনে দেওয়া হয়েছে।
এ উপজেলার তেঘরিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র ও বড়পাড়া পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় কেন্দ্র দুটি ভোট গ্রহন করে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে তেঘরিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা হচ্ছে, ২ হাজার ৪১৮ জন এবং বড়পাড়া আব্দুর রহমান পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ২২৬ জন। এ দুটি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোট হচ্ছে ৪ হাজার ৬৪৪ জন।
ছাতক প্রতিনিধি জানানঃ ছাতক উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. ফজলুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল। মো. ফজলুর রহমানের প্রাপ্ত ভোট ৬৬ হাজার ১শ ৩০ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওলিউর রহমান বকুল। তিনি কাপপিরিচ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৭ হাজার ২শ ৮৩ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু সাদত লাহীন মিয়া (টিউবওয়েল) নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহীন চৌধুরী টিয়াপাখি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫শ ১৫ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) লিপি বেগম কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তারপ্রাপ্ত ভোট ৪৯ হাজার ১শ ৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিখা রানী দে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪শ ৬ ভোট। উপজেলায় ১০০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নাদামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ঐ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২৭০৫।
অন্যদিকে কালারুকা দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সেন্ট কুমার দাশ ও নুরুল হককে পুলিশ আটক করে। ছাতক থানার ওসি আতিকু রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিচ্ছিন্ন দুএকটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি জানান ঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩১৫৮৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ডা: আব্দুর রহিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ান তানভীর আশরাফী চৌধুরী বাবু কাপপিরিছ প্রতীকে পেয়েছেন ২০১২১ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রফিকুল ইসলাম চশমা প্রতীকে ১০১৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ৯০৮৫ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকে ১৮২৪৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হলেন ছালেহা বেগম মিনা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী সৈয়দা পারভীন সুলতানা কলস প্রতীকে পেয়েছেন ১৮০৩৭ ভোট। উপজেলার ৫৯টি কেন্দ্রে ভোটার ১লাখ ৫৪হাজার ১১৬। মোট কাষ্ট হয়েছে ৬৯৭৫৯ ভোট। বাতিল ভোট সংখ্যা ৩৪৬০।
দিরাই প্রতিনিধি জানান ঃ দিরাই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। তাঁর নিকতম প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রদীপ রায়। মাত্র ৬২ ভোটের ব্যবধানে হারতে হয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রদীপ রায়কে।
নির্বাচিত মঞ্জুর আলম চৌধুরী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২০ হাজার ৯২২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগের প্রদীপ রায় নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৬০ ভোট।অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে মো: আলতাব উদ্দিন আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯শ ২৮ ভোট ও রঞ্জন রায় ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২০ হাজার ১শ ৯৮ ভোট।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফারুক আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নুর হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দুলন রাণী তালুকদার বিজয়ী হয়েছেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মানছুরুল হক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
উপজেলা নির্বাচন সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী(আনারস) প্রতীকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো.ফারুক আহমদ ৩৫ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী(নৌকা) হাজী আবুল কালাম পেয়েছেন ২২ হাজার ২০৭ ভোট। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে মাইক প্রতিকে প্রভাষক মো. নুর হোসেন ২০হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মোশারফ হোসেন জাকির(চশমা) প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৫১ ভোট। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আতাউর রহমান(তালা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮২৭ ভোট, জমির হোসেন জালিল (টিউবওয়েল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৯ ভোট, শহিদুল ইসলাম(বৈদ্যুতিক বাল্প) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫ ভোট, সিতাংশু শেখর ধর সিতু(উড়োজাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৮৪ ভোট, কামাল পারভেজ সাজন(টিয়াপাখি) প্রতীকে ৬ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়েছেন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান(মহিলা) পদে দুলন রানী তালুকদার(পদ্মফুল) প্রতীকে ১৮ হাজার ৯৩৫ ভোট বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী রফিকা মহির(ফুটবল)প্রতিকে ১৬ হাজার ২২০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়াও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. রুবিনা বেগম(কলস)প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৪৩২ ভোট, এ্যাড. হেলিনা আক্তার পেয়েছেন ৯ হাজার ৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি জানান : উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সফর আলী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন অর রশীদ।
তাহিরপুর প্রতিনিধি জানান : তাহিরপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী করুনা সিন্ধু বাবুল জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকট প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুল হক। এরআগে বিকেলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি থেকে বহিস্কৃত আনিসুল হক।
ধর্মপাশা প্রতিনিধি জানান ধর্মপাশা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন রোখন । তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম আহমদ মুরাদ। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় এ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর