গোরখোদক মনু মিয়ার মৃত্যুতে আবেগাপ্লুত অভিনেতা খায়রুল বাসার
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোরখোদক সেই মনু মিয়া আর নেই। শনিবার (২৮ জুন) সকাল পনে ১০টায় নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রায় তিন হাজার মানুষের কবরখোঁড়া মানুষটি।
৬৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা মনু মিয়ার মৃত্যুতে আবেগাপ্লুত অভিনেতা খায়রুল বাসার। মনু মিয়া অসুস্থ থাকাবস্থায় তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এই অভিনেতা। এর আগে, তার ঘোড়াকে মেরে ফেললে একটি ঘোড়া কিনে দেয়ার ইচ্ছেও জানান তিনি।
মনু মিয়ার মারা যাওয়ার খবরে সোশ্যাল মিডিয়া দেয়া পোস্টে খায়রুল বাসার লেখেন, ‘মনু কাকা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এতোদিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। তিনদিন আগে উনি বাড়ি ফিরেছেন। বলছিলেন, আগের চেয়ে বেশ সুস্থ আছেন। উনার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা আল্লাহ কবুল করেছেন। সুস্থ থেকেই উনি আল্লাহর ডাকে ফিরতে চেয়েছিলেন এই দোয়াও চাইতেন-বলতেন। হয়তো নিজ গ্রাম নিজের জন্মস্থান থেকেই আল্লাহ তাকে ডেকে নিবেন এই চেয়েছেন আল্লাহ। উনার মহৎ কর্মের ফলস্বরূপ আল্লাহ নিশ্চয়ই উনাকে উনার স্বপ্নের ঘোড়া উপহার দেবেন। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন। সবাই মনু কাকার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে শান্তিতে রাখুন। আমিন।’
এর আগে, শারীরিক অসুস্থতায় হাসপাতালের ভর্তি হয়েছিলেন মনু মিয়া। সেই সময়ে কিছু দুষ্কৃতকারী মনু মিয়ার ঘোড়াটি মেরে ফেলে। এ খবর দেশের মানুষকে ব্যথিত করে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ খবর জেনে অভিনেতা খায়রুল বাসার সেই সময় মনু মিয়াকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন।
এ অভিনেতা সেসময় তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘মনু মিয়াকে আমি ঘোড়া কিনে দিতে চাই। ঘোড়া কিনে দেয়ার বিনিময়ে আমার কবর খোঁড়া পর্যন্ত আল্লাহ উনাকে বাঁচিয়ে রাখুন। কেউ যদি মনু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন কৃতজ্ঞ থাকব।’
স্ট্যাটাস দেয়ার পর খায়রুল বাসার মনু মিয়ার সন্ধান পান। তিনি হাসপাতালে মনু মিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। খায়রুল বাসার মনু মিয়ার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথাও বলেন। সেই ছবিও খায়রুল তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।



















