আশা’র মৃত্যুতে রুনা

img

চোখের পানি থামাতে পারছি না

প্রকাশিত :  ০৮:৩২, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

চোখের পানি থামাতে পারছি না

আশা ভোঁসলের গান ভালোবাসেন না– এমন শ্রোতার সংখ্যা সত্যিই বিরল। তিনি সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি ও বাংলা গানের জগতে রাজত্ব করেছেন। কঠিন রাগ থেকে শুরু করে হালকা ধ্রুপদি সুর, সেই সঙ্গে চিত্তাকর্ষক চলচ্চিত্রের গান–সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ছিলেন সুরের সম্রাজ্ঞী। তাঁর প্রতিভা, দক্ষতা আর শ্রোতাদের বিমোহিত করার ক্ষমতা ছিল প্রশ্নাতীত।

ছোটবেলা থেকে তাঁর গান শুনে বড় হয়েছি। তাঁর কণ্ঠ আমার মতো লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বছরের পর বছর ধরে তাঁর সঙ্গে আমার এক সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একসময় আমি শুধু তাঁর ভক্তই ছিলাম না, তাঁর বন্ধুও হয়ে উঠেছিলাম। তাই তো তাঁর চলে যাওয়ার খবর শুনে যেন ভেতরটা একেবারে ভেঙে পড়ল। মনে হলো, খুব কাছের কাউকে হারিয়ে ফেললাম। বারবার শুধু একটি কথাই মনে ভেসে উঠছে– ‘উফ্‌ আল্লাহ, এ আমি কী শুনলাম!’

এই তো গতকাল (শনিবার) রাতে তাঁর ভাইয়ের ছেলে বৈদ্যনাথ মঙ্গেশকরের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওর কাছ থেকেই জানতে পারি, আশাজির (আশা ভোঁসলে) শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তখন থেকেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। কিন্তু কোথাও একটা আশা ছিল– তিনি ঠিকই আবার উঠে দাঁড়াবেন। কারণ, তিনি এমন মানুষ, যিনি সব বাধা জয় করে এগিয়ে যেতে জানেন।

আমাদের সম্পর্ক কিন্তু শুরু থেকেই এতটা ঘনিষ্ঠ ছিল না। ২০১২ সালে বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানের প্রতিযোগীদের নিয়ে ২০১২ সালে দুবাইয়ে আয়োজন করা হয় রিয়েলিটি শো ‘সুরক্ষেত্র’। এই রিয়েলিটি শোতে আমি, আশা ভোঁসলে আর আবিদা পারভীন একসঙ্গে বিচারকের দায়িত্ব পালন করি। সেই অনুষ্ঠান থেকেই আমাদের প্রথম পরিচয়, আর ধীরে ধীরে তা গড়ে ওঠে এক আন্তরিক বন্ধুত্বে। শুটিং সেটে কত আড্ডা, কত হাসি! সেই মুহূর্তগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে।

img

আসল রাজনীতিটা বুঝতে শিখলাম পরে: প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

প্রকাশিত :  ১২:৩৯, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বলিউডে তুমুল জনপ্রিয়তার পর হলিউডেও বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কেরিয়ারের শুরুতে কোনো ধরনের স্বজনপোষণ ছাড়াই নিজ দক্ষতায় বলিউডে শক্ত জায়গা তৈরি করেছেন এ অভিনেত্রী। যদিও সেক্ষেত্রে নাকি নানা ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রিয়াঙ্কাকে। 

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের অনুযায়ী, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা কথা বলেছেন বলিউডের পর্দার আড়ালের ‘রাজনীতি’ এবং তাকে নিয়ে হওয়া নানা ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে।

প্রিয়াঙ্কা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বলিউডের রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন আসি, তখন ‘নেপোটিজম’ বা স্বজনপ্রীতি শব্দটার মানেই বুঝতাম না। ভাবতাম, আমার বাবা-মা যেমন চাইতেন আমি সফল হই, তেমনি বড় তারকাও তার ছেলেমেয়ের সাফল্য চাইবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু পরে আসল রাজনীতিটা বুঝতে শিখলাম।’

প্রিয়াঙ্কা জানান, যখন ‘সালাম-এ-ইশ্‌ক’ ছবির শুটিং করছিলেন, তখন একটি বড় হিন্দি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান এবং চুক্তিতে সইও করেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তাকে সেখান থেকে বাদ দেওয়া হয় তাকে। 

অভিনেত্রীর দাবি করেন, তার সেই সিনেমার সহ-অভিনেতা সেটে এসে তাকে সরাসরি জানান যে, তাকে আর এ সিনেমায় রাখা হচ্ছে না। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও এমন অপমানে রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে প্রিয়াঙ্কাকে জানানো হয়েছিল যে, একটি সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের কথা থাকলেও তাকে সরিয়ে অন্য কাউকে নেওয়া হয়েছে। 

সেই সিনেমাতে দুজন অভিনেত্রী থাকার কথা থাকলেও কৌশলে প্রিয়াঙ্কাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। 

বলিউডে পা রাখার পর থেকে একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেতে পেতে এমন অবস্থা হয়েছিল যে, প্রিয়াঙ্কা একসময় অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্য কোনো পেশায় যাওয়ার চিন্তাভাবনাও শুরু করেছিলেন তিনি। 

তবে শেষ পর্যন্ত তাই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়েছিলেন। আজ তাই শুধু বলিউডেই নয় হলিউডেও কাজ করছেন নিয়মিত। দেশি গার্ল আজ গ্লোবাল স্টারে পরিণত হয়েছে।