img

ঈদে চার নায়িকার প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদে চার নায়িকার প্রতিযোগিতা

ঈদের আর দুই-তিন দিন বাকি। এরই মধ্যে পাঁচটি সিনেমা মুক্তির জন্য অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড।

\r\n

অনুমোদন পাওয়া সিনেমাগুলো হলো—রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’, মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘রাক্ষস’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’, রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ এবং তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

মুক্তির সম্ভাব্য সিনেমাগুলো নিয়ে চলছে নানা আলোচনা–কেউ বলছেন রেকর্ডসংখ্যক সিনেমা আসছে, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন প্রেক্ষাগৃহের সংকট নিয়ে। তবে সব হিসাব-নিকাশের বাইরে, দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন নায়িকারা–কারা থাকছেন এবার রুপালি পর্দার আলোচনায়, সেটিই দেখে নেওয়া যাক।

বর্তমান সময়ের সফল নির্মাতাদের একজন রায়হান রাফী। তার নতুন সিনেমা মানেই দর্শকের বাড়তি আগ্রহ। এবারের ঈদে মুক্তির তালিকায় থাকতে পারে তাঁর নির্মিত ‘প্রেশার কুকার’। নায়িকাপ্রধান গল্পের এই সিনেমায় রয়েছেন একাধিক নায়িকা–শবনম বুবলি, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরী। চার নায়িকাকে ঘিরে এগিয়েছে সিনেমার গল্প, যা এটিকে অন্যরকম আকর্ষণ এনে দিয়েছে। সিনেমাটিতে নায়িকা চারজন থাকলেও ফোকাস মূলত শবনম বুবলী ও নাজিফা তুষির দিকে।

সিনেমাটি নিয়ে তুষি বলেন, ‘প্রেশার কুকারের গল্প আলাদা। যে হুইসেল (টিজার) প্রকাশিত হয়েছে। তা দেখে কিছু আন্দাজ করা গেছে। এমন গল্প খুব একটা তৈরি হয়নি। নারীকে উপজীব্য করে এমন গল্প নির্মাণ সাহসী পদক্ষেপ। সেই গল্পে আমিও আছি।’

অন্য ছবির নায়িকাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শব্দটি পছন্দ নয় তুষির। তার ভাষ্য, ‘আমি কেবল আমার কাজটা করে গিয়েছি। কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা নেই। আমার বিশ্বাস আমাদের ছবি সফল হবে। গল্প দর্শকদের পছন্দ হবে।’

তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বুবলী বললেন, সিনেমাটি গল্পপ্রধান। গল্পই প্রেশার কুকারের আসল শক্তি। এমন একটি গল্প ঈদে দর্শকদের জন্য উপহার হিসেবে দিচ্ছেন নির্মাতা রায়হান রাফী। আমার বিশ্বাস সিনেমাটি দর্শক দারুণভাবে উপভোগ করবেন।

অন্যদিকে, রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমাটিও থাকছে আলোচনায়। কাজাখস্তান ও দেশের বিভিন্ন স্থানে শুটিং হওয়া এই সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আছেন পূজা চেরি। নতুন গল্প ও চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। সিনেমাবোদ্ধারা বলছেন দম হতে পারে পূজা চেরির কামব্যাক সিনেমা। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা নিয়ে আলোচনা বা চর্চায় নেই পূজা। বড় বাজেটের বড় উৎসবে তাঁর সিনেমাও মুক্তি পাচ্ছে না। তাই দম যদি ব্যবসা সফল হয় তাহলে পূজার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিষয়টি নিয়ে পূজা চেরি বলেন, দম সিনেমায় যুক্ত হয়ে মনে হয়েছে, এটা আমার অভিনয়জীবনের পুনর্জন্ম। এতদিনের কাজের পরও এমন চিত্রনাট্য ও চরিত্র আগে পাইনি। এটা আমার জন্য একেবারে নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেকে বলবেন, এত কাজ করার পরও কেন এমন বলছি–কিন্তু দম দেখলে দর্শক নিজেরাই বুঝবেন। এটি আমার পুনর্জন্মের সিনেমা।

ঈদের বড় আকর্ষণের একটি হতে যাচ্ছে ‘প্রিন্স’। শাকিব খান-এর বিপরীতে এই সিনেমায় প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন তাসনিয়া ফারিণ। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমায় আরও থাকছেন ভারতের অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। ফলে দেশ-বিদেশের সংমিশ্রণে ‘প্রিন্স’ পাচ্ছে ভিন্নমাত্রা।

তাসনিয়া ফারিণ বলেন, প্রিন্স সিনেমা দর্শক দেখুক, কেমন করেছি সেটা তাদের থেকেই জানব। আমি শুধু দর্শকের মতামতের অপেক্ষায় থাকছি।

এবারের ঈদে মুক্তির তালিকায় থাকা আরেকটি সিনেমা ‘রাক্ষস’। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত এই সিনেমায় সিয়াম আহমেদ-এর বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভারতের অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। সেই হিসেবে এবারের ঈদে দুইজন ভারতীয় নায়িকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এছাড়া, সাবিলা নূরও থাকছেন এবারের ঈদের পর্দায়। হুমায়ূন আহমেদ-এর ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় চিত্রা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো হুমায়ূন আহমেদের গল্পে বড়পর্দার নায়িকা হিসেবে হাজির হচ্ছেন সাবিলা নূর, যা তাঁর ক্যারিয়ারে একটি নতুন সংযোজন।

সাবিলা বলেন, এই সিনেমা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে একটা চরিত্রে কাজ করতে পেরে নিজেকে আমি সৌভাগ্যবান মনে করি। চরিত্রটি আমার দারুণ পছন্দের। এই চরিত্র হয়ে উঠতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমি। এতে এত এত গুণী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কাজ আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। সব বয়সী, পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে সিনেমাটি দেখতে আসবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

সব মিলিয়ে এবারের ঈদের সিনেমাগুলোতে নায়িকাদের উপস্থিতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি শক্তিশালী। দেশীয় নায়িকাদের পাশাপাশি ভারতীয় অভিনেত্রীদের অংশগ্রহণও এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। এখন দেখার বিষয়–এই নায়িকাদের পারফরম্যান্স কতটা দর্শকের মন জয় করতে পারে।


img

প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ১১:৩৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

‘সখী, ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়...’, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখরের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি করতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন!

বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় জেলে আছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আলোচিত মামলায় এবার আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে পারেন প্রেমিকা অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এর ফলে মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অথচ গ্রেফতারের পর থেকেই নানাভাবে জ্যাকুলিনের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে আসছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। চিঠি লিখে তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিনেত্রী তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা চাননি—শুধু ভালোবাসাই চেয়েছেন।

সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের জীবন কেবল যাতনাময়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি। প্রেমিকের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি দৌড়াতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ!

অথচ জ্যাকুলিনের মন পেতে সুকেশ চন্দ্রশেখর ‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা লাগলে ছাড়ে না’- গানের মতোই আঠা হয়ে লেগে আছেন। বর্তমানে সুকেশ একাধিক জালিয়াতির মামলায় দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি রয়েছেন। জেলে বসেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ দিনে তিনি জ্যাকুলিনকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে আসছেন। দিয়ে যাচ্ছেন হেলিকপ্টারসহ দামি উপহার। তাতেও মন গলেনি প্রেমিকার। সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসেও তিনি নিজেদের ভালোবাসাকে রোমিও-জুলিয়েট, হির-রাঞ্জা এবং লাইলি-মজনুর মতো কালজয়ী প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুকেশের দাবি—কোনো কিছুই তাদের এই বন্ধন ভাঙতে পারবে না। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে খোলা চিঠিতে সুকেশ জ্যাকুলিনকে ‘বেবি বোম্মা’ বলেও সম্বোধন করেন।

একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে সুকেশ লিখেছেন— ‘লোহার গরাদ আর এই ঠান্ডা দেয়াল আমাদের আলাদা করে রেখেছে। মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মতো আমি তোমাকে প্রতি মুহূর্তে মিস করছি। আজ আমার প্রতিটি হৃদস্পন্দন আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’ 

সুকেশ বলেন, জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের জন্য দেওয়া সব উপহারই তিনি স্বেচ্ছায় দিয়েছেন। এমনকি এ মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। এবার জ্যাকুলিনের জন্য তিনি একটি বিশেষ সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো— একটি ‘এয়ারবাস এইচ সিরিজ’ লাক্সারি হেলিকপ্টার। 

সুকেশ এর আগে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি উপহার তো দিয়েছেনই। জিজ্ঞাসাবাদে সেসব বিলাসী উপহারের কথা অভিনেত্রীও স্বীকার করেছেন। এবার সেই প্রেমিকাই তার বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়—আদালতে দাঁড়িয়ে সুকেশকে নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তার সাক্ষ্যই নির্ধারণ করতে পারে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।

বিনোদন এর আরও খবর