img

বাংলাদেশসহ ৯৮ দেশে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে, সক্রিয় করবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১৯:০০, ২৮ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশসহ ৯৮ দেশে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে, সক্রিয় করবেন যেভাবে

ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে আছে এক দারুণ সিস্টেম। আপনার হাতের স্মার্টফোনটিই ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে বাঁচাতে পারে হাজার হাজার মানুষের জীবন। আপনি কি জানেন এই সিস্টেম সম্পর্কে?

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের স্মার্টফোনগুলোতে একধরনের অ্যাকসিলারেশন সেন্সর ব্যবহার করা হয়। এটিই ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা দেওয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই ফোনগুলো ৯৮টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষকে সফল আগাম সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

যেভাবে কাজ করে এই স্মার্ট সিস্টেম

২০২০ সাল থেকে গুগল তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতে ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম’ যুক্ত করেছে। এই সিস্টেম ফোনের ভেতরে থাকা ছোট ছোট সেন্সর (যাকে অ্যাকসিলারোমিটার বলা হয়) ব্যবহার করে মাটির কম্পন বুঝতে পারে।

যখন ভূমিকম্প শুরু হয়, তখন দুই ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়—

১. পি-ওয়েভ (P-wave): এটি দ্রুতগতিতে আসে, কিন্তু সাধারণত তেমন ক্ষতিকর হয় না।

২. এস-ওয়েভ (S-wave): এটি পি-ওয়েভের চেয়ে ধীরগতিতে আসে, কিন্তু এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা অনেক বেশি।

যখন আপনার ফোন স্থির থাকে, তখন এর অ্যাকসিলারোমিটারগুলো ভূমিকম্পের প্রাথমিক পি-ওয়েভ শনাক্ত করতে পারে। যদি একটি এলাকায় অনেক ফোন একসঙ্গে এই ধরনের কম্পন শনাক্ত করে, তখন সেই তথ্য গুগলের সার্ভারে চলে যায়। গুগল দ্রুত সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের উৎস ও মাত্রা বের করে। এরপর ধ্বংসাত্মক এস-ওয়েভ আসার আগেই এটি আশপাশের এলাকার মানুষকে সতর্ক করে দেয়।

ধরুন, আপনি ঘুমাচ্ছেন বা কাজ করছেন। যদি কোনো ভূমিকম্পের পি-ওয়েভ আপনার কাছাকাছি থাকা কয়েকটি ফোনে ধরা পড়ে, সঙ্গে সঙ্গে আপনার ফোনে একটি আগাম বার্তা আসবে। এই বার্তা আপনাকে কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত সময় দিতে পারে নিজেকে সুরক্ষিত করার জন্য। হয়তো এই কয়েক সেকেন্ডই আপনাকে টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে বা দ্রুত কোনো নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে সাহায্য করবে।

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই সিস্টেম ৯৮টি দেশে ১১ হাজার ২৩১টি ভূমিকম্পের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের তুরস্ক-সিরিয়ার ভয়াবহ ভূমিকম্প (৭ দশমিক ৮ মাত্রার), ফিলিপাইনের (৬ দশমিক ৭ মাত্রার) ও নেপালের (৫ দশমিক ৭ মাত্রার) ভূমিকম্পও ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের এপ্রিলে তুরস্কে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের আগেও এটি কার্যকর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা ১০ থেকে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছেন, যা জীবন বাঁচানোর জন্য অমূল্য সময়।

এখন পর্যন্ত এই সিস্টেম ১৮ হাজারের বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে এবং মোট ৭৯ কোটি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে করা এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় দেড় লাখ ব্যবহারকারীর ৭৯ শতাংশ বলেছে, এই সতর্কবার্তাগুলো তাদের জন্য খুবই সহায়ক ছিল।

বাংলাদেশেও চালু আছে এই সুবিধা

বাংলাদেশের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোতেও অ্যান্ড্রয়েড ভূমিকম্প সতর্কব্যবস্থা চালু রয়েছে। গুগল ২০২২ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে এই সিস্টেম চালু করেছে। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘Safety & emergency’ বা ‘Location’-এর ভেতরে ‘Location Services’— ‘Earthquake alerts’ অপশনটি চালু রয়েছে কি না, তা দেখে নিতে পারেন। এটি চালু থাকলে আপনার ফোনেও ভূমিকম্পের আগাম বার্তা চলে আসবে।

তবে গবেষকেরা বলছেন, এই সিস্টেমের কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়েছে। যেমন ভূমিকম্পের মাত্রা সব সময় খুব নিখুঁতভাবে অনুমান করা যায় না বা মাঝে মাঝে কম্পন শুরু হওয়ার পর সতর্কবার্তা পৌঁছায়। তবে গুগল এই ত্রুটিগুলো দূর করতে কাজ করছে। তারা বিশ্বাস করে, স্মার্টফোন ব্যবহার করে এই কম খরচের ব্যবস্থাটি ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। কারণ, প্রচলিত ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র বসানোর চেয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করা অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে

প্রকাশিত :  ০৫:৪০, ২৪ মে ২০২৬

রাজধানীর ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে সোহেল রানাই ধর্ষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি।

রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

রামিশা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে যে তাকে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমার জন্য যা যা কাজ আছে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার ঘোষিত রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববারের ভেতরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে, আমরা সেগুলো প্রসেস করছি। তারপর কারিগরি বিষয় আছে। অভিযোগপত্রতো আগের মতো হাতে লেখা হয় না। এইটা সিডিএমএসে এন্ট্রি দিতে হবে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ

রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শনিবার (২৩ মে) মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্ল­বী থানার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

উলে­খ্য, গত ১৯ মে পল্ল­বী থানার একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফুসে ওঠে সারা দেশ। খুনীর বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। রাজধানীসহ সারা দেশে টানা আন্দোলন চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রামিসাদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে শান্তনা দিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্ল­বী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গত বুধবার আদালতে তোলা হলে সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তিনি এও জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

একইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর