img

সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত হওয়ায় রোবটের সঙ্গে নেচে উচ্ছ্বাস ইলন মাস্কের

প্রকাশিত :  ০৯:১২, ০৮ নভেম্বর ২০২৫

সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত হওয়ায় রোবটের সঙ্গে নেচে উচ্ছ্বাস ইলন মাস্কের

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা চলাকালে রোবটের সঙ্গে নেচে উদ্‌যাপন করেছেন। 

টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা এক ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে মাস্কের জন্য প্রায় ‘১ ট্রিলিয়ন ডলারের’ (এক লাখ কোটি ডলারের) বেতন প্যাকেজ অনুমোদন করার পরই তিনি মঞ্চে উঠে নেচে নেচে তার আনন্দ প্রকাশ করেন। টেক্সাসের অস্টিনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার ভোটাভুটিতে টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা যে বেতন প্যাকেজ অনুমোদন করেন, তার আওতায় আগামী এক দশকে ধাপে ধাপে তাকে শেয়ার আকারে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ (প্রায় ৮৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার নিট মূল্য) দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নতুন বেতন প্যাকেজ অনুমোদনের পর মুহূর্তের মধ্যেই মাস্ক মঞ্চে উঠে আসেন, যেখানে উপস্থিত থাকা মানুষেরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। মাস্ক মঞ্চে নাচতে শুরু করলে পাশে থাকা রোবটও তার নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করে নাচতে থাকে। 

মাস্ক দর্শকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডারদের অন্য সভাগুলো একঘেয়ে, কিন্তু আমাদের সভাগুলো দারুণ। দেখুন না, এটা কত চমৎকার।’ এরপর মাস্ক ঘোষণা করেন যে টেসলা একটি ‘নতুন যুগে’ প্রবেশ করছে এবং এই নতুন যুগ শুধু গাড়িতে নয়, ‘রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাতেও’ শুরু হচ্ছে। তিনি তখন ইশারায় পাশে থাকা মানবসদৃশ রোবটকে দেখান।

এই বেতন প্যাকেজ মাস্কের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শেয়ারহোল্ডাররা মাস্কের টেসলাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। টেসলা কর্তৃপক্ষ এবং নতুন বেতন প্যাকেজ অনুমোদনকারী বিনিয়োগকারীরা বলেছেন, প্রায় ‘১ ট্রিলিয়ন ডলারের’ এই বেতন প্যাকেজ দীর্ঘ মেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের জন্যই লাভজনক। কারণ, মাস্ককে বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে টেসলার জন্য নির্ধারিত কিছু যুগান্তকারী লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। 

মাস্ককে আগামী ১০ বছরের জন্য যে লক্ষ্যগুলো বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—২ কোটি গাড়ি সরবরাহ করা, ১০ লাখ রোবোট্যাক্সি চালু করা, ১০ লাখ রোবট বিক্রি এবং ৪০ হাজার কোটি ডলারের মতো নিট মুনাফা করা। মাস্ককে বেতন পেতে হলে, টেসলার বাজারমূল্যও বর্তমান ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার থেকে প্রথমে ২ লাখ কোটি ডলারে এবং এরপর ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে হবে।

সূত্: এনডিটিভি


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে

প্রকাশিত :  ০৫:৪০, ২৪ মে ২০২৬

রাজধানীর ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে সোহেল রানাই ধর্ষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি।

রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

রামিশা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে যে তাকে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমার জন্য যা যা কাজ আছে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার ঘোষিত রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববারের ভেতরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে, আমরা সেগুলো প্রসেস করছি। তারপর কারিগরি বিষয় আছে। অভিযোগপত্রতো আগের মতো হাতে লেখা হয় না। এইটা সিডিএমএসে এন্ট্রি দিতে হবে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ

রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শনিবার (২৩ মে) মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্ল­বী থানার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

উলে­খ্য, গত ১৯ মে পল্ল­বী থানার একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফুসে ওঠে সারা দেশ। খুনীর বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। রাজধানীসহ সারা দেশে টানা আন্দোলন চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রামিসাদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে শান্তনা দিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্ল­বী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গত বুধবার আদালতে তোলা হলে সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তিনি এও জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

একইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর