img

চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড শনাক্ত করবে সফোস

প্রকাশিত :  ০৮:৩৪, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড শনাক্ত করবে সফোস

বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস সম্প্রতি সফোস আইডেন্টিটি থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (আইটিডিআর) পরিষেবা চালু করেছে। নতুন এই পরিষেবাটি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিস্টেমে সফোস এক্সডিআর এবং সফোস এমডিআরের ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চুরি ও ভুল কনফিগারেশন এই পরিষেবাটির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া, চুরি হওয়া পাসওয়ার্ডের জন্য ডার্ক ওয়েবও স্ক্যান করা যাবে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচয়ের তথ্য ভিত্তিতে হওয়া কোনো সাইবার হামলা দ্রুত চিহ্নিত করতে পারবে এবং সিস্টেমে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপও শনাক্ত করতে পারবে। বর্তমান সময়ে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চুরি করে সাইবার হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সফোস এক্স-অপস কাউন্টার থ্রেট ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী,

২০২৪ সালের জুন মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত চুরি হওয়া পাসওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ শতাংশ। এই পাসওয়ার্ডগুলো মূলত ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করা হয়।

সফোস অ্যাকটিভ অ্যাডভার্সারি রিপোর্টে দেখা গেছে, সফোস এমডিআর এবং ইন্সিডেন্ট রেসপন্সের ঘটনায় দ্বিতীয় বছর সাইবার হামলার সবচেয়ে বেশি হওয়ার কারণ ছিল পাসওয়ার্ড চুরি। আর এর ৫৬ শতাংশ ঘটনায় আক্রমণকারীরা বৈধ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে রিমোট সার্ভিসে লগইন করেছে। সফোস আইটিডিআর পরিষেবায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার রয়েছে। যেমন এর আইডেন্টিটি ক্যাটালগ সব সিস্টেমের পরিচয় তথ্য একত্রে দেখিয়ে ব্লাইন্ড স্পট কমায় এবং আইডেন্টিটি ড্যাশবোর্ড গুরুত্ব অনুযায়ী পরিচয় ঝুঁকি ও ডার্ক ওয়েব থেকে পাওয়া চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড দেখিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এছাড়া, এসেসমেন্ট ফিচার ভুল কনফিগারেশন, অকার্যকর অ্যাকাউন্ট ও সিস্টেম দুর্বলতা নিয়মিতভাবে চিহ্নিত করে। আর কম্প্রোমাইজড ক্রেডেনশিয়াল মনিটরিং চুরি হওয়া তথ্য নজরে রেখে ইউজারদের তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাঠায়।

এই পরিষেবায় আরও রয়েছে ফাঁস হওয়া তথ্য পর্যবেক্ষণের জন্য ডার্ক ওয়েব ইন্টেলিজেন্স, অস্বাভাবিক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ হুমকি শনাক্তর জন্য ইউজার বিহেভিয়ার এনালিটিক্স ফিচার এবং অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া, সেশন বা পাসওয়ার্ড রিসেট করা এবং মাইক্রোসফট ইন্ট্রো আইডিতে ইউজার ঝুঁকি চিহ্নিত\'র জন্য আইডেন্টিটি রেসপন্স অ্যাকশনস ফিচার।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

সমুদ্রের নিচের ভূমিকম্পে বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি কতটা?

প্রকাশিত :  ১০:২৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

সম্প্রতি দেশে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মাঝে বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে বঙ্গোপসাগরে চার মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ৬ দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। এর কারণে বড় কোনো সুনামির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইন্দোনেশিয়ায় অথবা আন্দামান নিকবোর দ্বীপের দিকে বড় ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশেও সুনামির ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেমন, ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় নয় দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্পে যেখানে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেই সুনামি আফ্রিকার দেশগুলো পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। সেই সুনামির ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছিল এবং তাতে দুইজনের মৃত্যুর খবর জানা যায়।

ভূমিকম্প ও সুনামি

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলছেন, ‘সাগরে যদি ভূমিকম্প ছয় দশমিক পাঁচ মাত্রার উপরে যায় তারপর সে সুনামি হবে কি না, সুনামি সার্ভিস প্রোভাইডাররা সেটা পর্যবেক্ষণ করেন। কোন জায়গায় কখন হিট করতে পারে, পানির উচ্চতা কতটা হতে পারে, সেটা তারা অ্যালার্ট করেন। এটা আমরা সবময়ই টেস্ট বেসিসে করে আসছি।’

তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরে প্রায়শই ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তবে চার মাত্রা বা এর চেয়ে দুর্বল সেসব ভূমিকম্প থেকে বড় পর্যায়ে ক্ষতির শঙ্কা থাকে না।’

আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভূমিতে বড় ভূমিকম্প হলেও উপকূলে সুনামির শঙ্কা থাকে। আমাদের পৃথিবীর ওপরের অংশ বা ভূপৃষ্ঠ বিভিন্ন প্লেটে ভাগ করা। এই প্লেটগুলো সবসময় নড়াচড়া করে। কোথাও প্লেট একে অপরকে ঠেলে দেয়, কোথাও পাশ কাটিয়ে যায়, আবার কোথাও নিচে ঢুকে যায়। এমন ক্ষেত্রে যেমন ভূমিকম্প হয়, তেমন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকেও ভূপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি হতে পারে। এটি মাটির ওপরে বা পানির নিচে যে কোনো জায়গায় হতে পারে।

২৩ কোটি থেকে ২৮ কোটি বছর আগেও পৃথিবীর সব মহাদেশ মিলে এ রকম একক ভূখণ্ড ছিল বলে তত্ত্ব রয়েছে। এটিকে বলা হয় প্যাঞ্জিয়া। টেকটনিক প্লেটের ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক ভূখণ্ড হয়েছিল বলে জানা যায়। এর সপক্ষে অনেক ধরনের প্রমাণও রয়েছে। এর মাঝে একটি পানির নিচে থাকা দীর্ঘতম পর্বতমালা মিড আটলান্টিক রিজ যেভাবে পৃথিবীকে ভাগ করেছে। এর মাত্র ১০ শতাংশ মাটির ওপরে যা আইসল্যান্ডে পরিষ্কার দেখা যায়।

সুনামি তৈরি হয় কীভাবে

সুনামি অনেকটা বিশাল আকারের জলোচ্ছ্বাসের মতো। সাধারণত ভূমিকম্প হলেই সুনামি হয় না। সুনামির জন্য ভূমিকম্প খুব শক্তিশালী হতে হয়। এ ছাড়া মোটামুটি অগভীর সমুদ্রতলে এরকম কম্পন সৃষ্টি হওয়াটাও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। আর এমন কম্পন সমুদ্রের তলদেশকে ওপরে বা নিচে ঠেলে দিলে, বিশাল পরিমাণ পানি সরে গেলে সেটি সুনামি ঘটাতে পারে। এমন বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় থেকে সুনামি হতে পারে।

বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি কতটা?

এমনিতে প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীতে ভূতাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল যেটাকে রিং অফ ফায়ার বলা হয়। এরম বিভিন্ন সক্রিয় অঞ্চল বা সাবডাকশন জোন থাকে। বড় সুনামি সৃষ্টিকারী সাবডাকশন জোনগুলো বাংলাদেশ থেকে বেশ দূরে। বাংলাদেশ দুইটা বড় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে, যা চট্টগ্রাম-আরাকান থেকে আন্দামানের দিকে চলে গেছে। তবে বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি নিয়ে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি, সাগরের নিচে খুব নিকটবর্তী সময়ে বড় ভূমিকম্প এবং তা থেকে সুনামির শঙ্কা নেই।

ফারজানা সুলতানা বলেন, ‘নরমালি ভূমিকম্প থেকে ওইরকম সুনামির ঝুঁকি নেই, কিন্তু আন্দামান নিকোবরে হলেও ওটা আমাদের জন্য একটা সোর্স অঞ্চল। আমরা টেস্ট বেসিসে সবসময় রেডি থাকি, এটা হলে যেন আমরা সঙ্গে সঙ্গেই সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি।’

অতীতের নানা নথিপত্রের তথ্যানুযায়ী, এই অঞ্চলে ১৯৬২ সালে আরাকান কোস্টে প্রায় সাড়ে আট মাত্রার একটি ভূমিকম্প থেকে বড় সুনামি হয়েছিল।

বিবিসির এর আগের একটি প্রতিবেদনে ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছিলেন, এই প্লেটে ভূমিকম্প হলে অবশ্যই বড় সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখানে খুব তাড়াতাড়ি এই বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সে সময়কার তথ্যে জানা যায়, তখন বড় ধরনের সুনামির তৈরি হয়েছি, যা উপকূল থেকে অনেকদূর পর্যন্ত ভেতরে এসে পৌঁছেছিল। যদিও তখন মানুষ কম ছিল বলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয়তো তত বেশি হয়নি। তবে ঢাকায় নদীর পানি বেড়ে গিয়ে পাঁচশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়।

সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘এরপর আর এই অঞ্চলে এত বড় ভূমিকম্প বা সুনামির তথ্য পাওয়া যায় না। আমাদের হিসাবে, একবার ভূমিকম্প হওয়ার পর ওই প্লেটে শক্তি সঞ্চয় হয়ে পরবর্তী ভূমিকম্প হতে আরও ৫০০-৯০০ বছর লেগে যায়। সেই হিসাবে এখানে ওই প্লেটে (আরাকান প্লেটে) ভূমিকম্প হতে আরও ২০০-২৫০ বছর বাকি আছে।’

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ‘ফানেল শেপ’ অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়ে গেছে।

সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেছিলেন, ‘আন্দামান বা ভারত মহাসাগরে যদি বড় সুনামি তৈরি হয়, ফানেল শেপ হওয়ার কারণে তার প্রভাব কিছুটা বাংলাদেশে এসেও লাগবে। যদিও সেটা হয়তো ইন্দোনেশিয়ার মতো অতটা ভয়ানক হবে না। ভূমিকম্প সম্পর্কে খুব আগেভাগে সতর্ক করা সম্ভব না হলেও যেহেতু ভূমিকম্পের পরে পানিতে সুনামির সৃষ্টি হয়, ফলে সুনামি সম্পর্কে আগেভাগে সতর্ক করা যায়।’

তবে বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রে ভূমিকম্পের চেয়ে ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে যে ভূমিকম্পের যে ঝুঁকি রয়েছে, সেটিই এখন বেশি শঙ্কার জায়গা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : বিবিসি