img

আজ থেকে চালু এনইআইআর, অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কেই বন্ধ হবে

প্রকাশিত :  ০৭:২০, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

আজ থেকে চালু এনইআইআর, অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কেই বন্ধ হবে

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যক্রমে আসছে। এর ফলে নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন মোবাইল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

ব্যবসায়ীদের আবেদনে স্টকে থাকা ফোনের আইএমইআই জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ হবে না। ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা জমাকৃত আইএমইআই তালিকার ফোনও নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। নতুনভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া ডিভাইসগুলোই যাচাইয়ের আওতায় আসবে।’

প্রবাসীরা ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি আরও দুইটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। নিবন্ধনের জন্য সময় পাবেন তিন মাস। প্রয়োজন হবে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র।

ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানান, উপদেষ্টা পরিষদ যদি আজ মোবাইল আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এনইআইআর বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।

গত ১০ ডিসেম্বর গ্রে মার্কেটের ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ হয়। পরে কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও বিটিআরসি জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে নির্দেশনা পায়নি কমিশন।

বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ ও বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এনইআইআর চালু করা হচ্ছে। ডিভাইস শনাক্তে সিস্টেম আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই মিলিয়ে নেটওয়ার্ক সচল রাখবে। কল বা মেসেজ রেকর্ড করার ক্ষমতা নেই বলেও জানায় সংস্থাটি।

তবে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকার কারণে নজরদারির সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার সুরক্ষা দুর্বল হলে তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরকার জানায়, সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে গোপনীয়তা সুরক্ষা ও হয়রানি বন্ধে ধারা যুক্ত করা হয়েছে। লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান থাকবে।

তবে- ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় চুরি হওয়া ফোন বন্ধে আগেই এ ব্যবস্থা চালু আছে।

নিরাময় উদ্ভাবনে ব্যর্থ

img

ভারতে গোবর-গোমূত্র থেকে ক্যান্সার চিকিৎসা, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম

প্রকাশিত :  ০৫:১০, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৬, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে পঞ্চগব্য ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের একটি সরকারি গবেষণা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। 

২০১১ সালে জাবালপুরের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে গরুর গোবর, গোমূত্র এবং দুধজাতীয় সামগ্রীর মিশ্রণ বা ‘পঞ্চগব্য’ দিয়ে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসার উপায় খোঁজার কথা ছিল। 

তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গবেষণার নামে সেখানে বিপুল অর্থ অপচয় এবং বিধি বহির্ভূত কেনাকাটা করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো প্রকল্পটি এখন উচ্চপর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয়ের একাধিক ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গোবর, গোমূত্র, মাটির পাত্র এবং মেশিনারিজ কেনার নামে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, যার বাজারমূল্য বড়জোর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হতে পারে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গবেষণার অজুহাতে গোয়া ও বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ বার বিমান ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অনুমোদিত বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তদন্তকারীরা এই সফরগুলোকে ‘গবেষণার ছদ্মবেশে ভ্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঘুবার মারাভির নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদন্তে আরও দেখা গেছে, মূল বাজেটে উল্লেখ না থাকলেও এই প্রকল্পের অর্থ দিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি গাড়ি কেনা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শ্রমিকের মজুরি হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। 

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব খরচের সিংহভাগই গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এক দশকের বেশি সময় পার হলেও ক্যানসার চিকিৎসায় এই গবেষণা কোনো সুনির্দিষ্ট ফল বা নিরাময় পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার ড. এস এস তোমার দাবি করেছেন যে, গাড়ি বা মেশিনপত্রসহ সকল ক্রয়প্রক্রিয়া উন্মুক্ত টেন্ডার এবং সরকারি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তার মতে, প্রকল্পের অডিট নিয়মিত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটিকে সব নথিপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। 

তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রকল্পের আওতায় এখনো যুবক ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের ‘স্ক্যাম’ বা জালিয়াতি হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি এখন জাবালপুরের কালেক্টরের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার পর প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আপাতত এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা—উভয় দিক নিয়েই বড় ধরণের প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রইল।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর