img

ঢাকা রিজেন্সিতে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং বিজনেস ডিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ২২:২১, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা রিজেন্সিতে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং বিজনেস ডিনার অনুষ্ঠিত

ঢাকা, বাংলাদেশ, ২৮ জানুয়ারিঃ রাজধানীর পাঁচ তারকা মানের ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সম্প্রতি এক জাঁকজমকপূর্ণ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং বিজনেস ডিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা মুসলে আহমেদ। হোটেলটির মনোরম পুলসাইড রুফটপ গার্ডেনে আয়োজিত এই ডিনারে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, কৌশলগত আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, গ্রিস এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এ উপস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর যুগ্ম মহাসচিব জনাব হুমায়ুন কবির। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং এবং প্রবাসী উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


তিনি আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা তাদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বৈশ্বিক সংযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং উদ্যোগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের সম্মানিত অনারারি কনসাল জেনারেল ও ইউরোপ বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (EBFCI)-এর সভাপতি ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন এমবিই। তিনি ইউরোপ ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক মহলের মধ্যে কাঠামোবদ্ধ, ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে EBFCI-এর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI) এবং ইউরোপ বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (EBFCI)-এর প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা মহিব চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল মোমেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেসবাহ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী টিংকুসহ আরও অনেকে।


অনুষ্ঠানজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা বিনিয়োগ সম্ভাবনা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। সৌন্দর্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক পরিবেশে আয়োজিত এই মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

সফলভাবে সমাপ্ত এই আয়োজনের জন্য অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে কর্পোরেট, কূটনৈতিক ও সামাজিক উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

লন্ডনে বাংলাদেশি প্রবীণদের আবাসন বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা

img

হাউস অব লর্ডসে উন্মোচিত হলো ‘আমার বাড়ি, আমার জীবন’

প্রকাশিত :  ০৮:৪৭, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৯, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লন্ডন, ৫ ফেব্রুয়ারি: পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণদের আবাসন বাস্তবতা নিয়ে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন “আমার বাড়ি, আমার জীবন” আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে লন্ডনের হাউস অব লর্ডসের চোলমন্ডেলি রুমে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লর্ড বেস্ট, OBE, DL। তিনি গবেষণাটিকে “অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, সুসংহত ও লক্ষ্যভিত্তিক” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি এমন একটি কাজ যা সিভিল সার্ভেন্ট ও মন্ত্রীদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, গবেষণাটি বাস্তব ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

তিন বছরব্যাপী এই গবেষণাটি ভিভেনসা ফাউন্ডেশনের কমিশনে পরিচালিত হয় এবং এতে অংশীদার ছিল দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি, বাংলা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন এবং হাউজিং লার্নিং অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক (Housing LIN)। গবেষণায় টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, হ্যাকনি ও রেডব্রিজে বসবাসরত ৫০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৭৬ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

গবেষণাটি দেখিয়েছে, আজীবন চলমান আবাসন বৈষম্য বার্ধক্যে এসে আরও ঘনীভূত হয় এবং তা প্রবীণদের স্বাস্থ্য, সামাজিক কেয়ার, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অংশগ্রহণকারী অনেক প্রবীণ এমন ঘরে বসবাস করছেন, যা তাদের বয়সজনিত শারীরিক সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা কিংবা চলাফেরার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশেষ করে সোশ্যাল হাউজিং ও প্রাইভেট ভাড়া বাসায় বসবাসকারীদের মধ্যে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, বাতাস চলাচলের অভাব এবং হিটিং সমস্যার বিষয়টি ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। এসব কারণে শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ‘কার্যকরী অতিরিক্ত ভিড়’ বা জনাকীর্ণ বসবাস। অধিকাংশ বাসস্থান একক পরিবারের ধারণায় নির্মিত হলেও বাস্তবে অনেক বাংলাদেশি পরিবার যৌথ বা মাল্টি-জেনারেশনাল কাঠামোয় বসবাস করে। এর ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বাধা তৈরি হচ্ছে।

অনেক প্রবীণ অভিযোগ করেছেন, কাউন্সিল বা বাড়িওয়ালার কাছে সহায়তা চাইলে তারা ধীর বা অনুপযুক্ত সাড়া পান। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত আবেদন করা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযুক্ত পরিবেশেই তাদের বসবাস অব্যাহত থাকে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের ওপর কেয়ারের চাপও বৃদ্ধি করে।

দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটির বার্ধক্য বিষয়ক সিনিয়র লেকচারার এবং গবেষণার প্রধান গবেষক মানিক গোপীনাথ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক বাংলাদেশি মানুষরা বার্ধক্য ও আবাসন–সংক্রান্ত গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে অদৃশ্য থেকেছেন। এই গবেষণা তাদের কণ্ঠকে কেন্দ্রে এনে দেখিয়েছে—বৈষম্য কেবল বিদ্যমান নয়, বরং তা প্রতিদিনের জীবনে কীভাবে অনুভূত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আজীবন বঞ্চনার পরিণতি হিসেবে কীভাবে প্রকাশ পায়।”

বাংলা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সিইও বশির উদ্দিন বলেন, “গবেষণা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়। এটি একটি স্পষ্ট ‘কল টু অ্যাকশন’। বিদ্যমান ঘরগুলোকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করতে হবে এবং নতুন নির্মাণে বড় ও পরিবার–উপযোগী বাসস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।”

গবেষণাটি নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি সুস্পষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—জাতিগত ও বয়সভিত্তিক বিভাজিত আবাসন তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ, প্রবীণদের জন্য বাসায় বিশেষ সুবিধা সংযোজনের পথে বৈষম্যমূলক বাধা দূর করা, মাল্টি-জেনারেশনাল বসবাসকে বৈধ আবাসন পছন্দ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আবাসনকে স্বাস্থ্য ও সামাজিক কেয়ারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা।

গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০৫০ সালের আবাসনের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। ফলে বিদ্যমান বাসস্থানগুলোকে আরও নিরাপদ, প্রবেশগম্য ও বয়স-উপযোগী করে তোলা এখনই জরুরি। অন্যথায় আবাসন–সংক্রান্ত বৈষম্য ভবিষ্যতে জাতিগত, স্বাস্থ্য ও কেয়ার–সংক্রান্ত বৈষম্যকে আরও গভীর করবে।

সব মিলিয়ে,  ‘আমার বাড়ি, আমার জীবন’ শুধু একটি গবেষণা প্রতিবেদন নয়—এটি পূর্ব লন্ডনের প্রবীণ বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনসংগ্রামের এক মানবিক দলিল। গবেষণাটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: উপযুক্ত আবাসন ছাড়া মর্যাদাপূর্ণ ও সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর