img

মৌলভীবাজারে কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের ব্যবসার ফাঁদ, কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৪৩, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজারে কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের ব্যবসার ফাঁদ, কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

সংগ্রাম দত্ত: কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েন কেনাবেচার মাধ্যমে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এস এম ইলিয়াছুর রহমান (৩৬), মো. ইকরাম মিয়া (২৮), তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান (৬১) ও মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৭)। তাঁদের মধ্যে ইলিয়াছুর রহমান রাজনগর উপজেলার বাংলা টিলা (পণ্ডিত নগর) গ্রামের, ইকরাম মিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের এবং তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান ও ইব্রাহিম বেপারী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্যের দিকনির্দেশনায় ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। এসআই আহলাদ ইবনে জামিল পিপিএমের নেতৃত্বে এসআই সঞ্জয় শর্মা, এসআই হীরক চক্রবর্তী, এসআই মোহাম্মদ আজিজুল গাফফার, এএসআই মো. রাজিব, এএসআই মো. মাহাবুব আলম, এএসআই মো. এনামুল হক, এএসআই মো. মাহমুদুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানে শ্রীমঙ্গল এলাকা থেকে এস এম ইলিয়াছুর রহমান ও মো. ইকরাম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাহের-উল-ইসলাম ওরফে আখতারুজ্জামান, ওরফে মিজানুর রহমান মজন এবং মো. ইব্রাহিম বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার কাজে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আসছিলেন। তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন নামীদামি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। এর মধ্যে Heritage Auction, Lockheed Martin, BlackRock ও Microsoft-এর মতো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘২০০ কোটি টাকার’ কয়েন

গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি ‘এন্টিক পাওয়ার কয়েন’ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রতারকেরা ওই কয়েনটির কথিত মূল্য ২০০ কোটি টাকা বলে প্রচার করতেন। পাশাপাশি প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি নোহা গাড়ি, একটি পকেট রাউটার ও আটটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন নামে তৈরি ৫০০টি ভিজিটিং কার্ড, ৯৪ পাতার ভুয়া বিজনেস এগ্রিমেন্ট, তিনটি চেকবই, একটি কয়েন ব্ল্যাংক অ্যালবাম ও একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১০টি সিমকার্ড, ১০০ টাকা মূল্যমানের ছয়টি ভুয়া স্ট্যাম্প এবং ‘এন্টিক গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া সার্টিফিকেটও জব্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের কেনাবেচায় বিপুল লাভের সুযোগ রয়েছে—এমন বিশ্বাস তৈরি করে সম্ভাব্য ক্রেতা বা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। এভাবে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন একজন

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তাহের-উল-ইসলাম ওরফে আখতারুজ্জামান ওরফে মিজানুর রহমান মজন এর আগেও একই ধরনের প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে তিনি আরও তিনজনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক বা দ্রুত বড় অঙ্কের লাভের প্রলোভনে পড়ে অপরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কথিত মূল্যবান পুরোনো বস্তু কেনাবেচায় অর্থ বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

৬ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক-শূন্য জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত :  ০৮:২৬, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৯, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এই পদে একজন প্রধান শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতায় এত দিন তার যোগদান হয়নি। সম্প্রতি মামলার নিষ্পত্তির পর যোগদানের জন্য আবেদন করেছেন ওই শিক্ষক। তবে এখনো তাকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে বদলির জন্য ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর রতিয়ারপাড়া বাদশা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণেশ চক্রবর্তীকে আদেশ দেওয়া হয়। এর পরদিন, ১০ ডিসেম্বর একই পদে দক্ষিণ হবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র দাসকেও বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

একই পদে দুজনকে বদলির আদেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গোপাল চন্দ্র দাস প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট শাখার পরিচালক, সিলেটের উপপরিচালক, সুনামগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জগন্নাথপুরের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং গণেশ চক্রবর্তীকে বিবাদী করা হয়।

মামলার পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গণেশ চক্রবর্তীর বদলির আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম চলতে থাকে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৫ মে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন গণেশ চক্রবর্তী।

জানা যায়, দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট আপিল বিভাগ গোপাল চন্দ্র দাসের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর ওই রায়ের ভিত্তিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে আবেদন করেন গণেশ চক্রবর্তী। তবে এখন পর্যন্ত তার যোগদান নেওয়া হয়নি।

গণেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে বদলির জন্য আমি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেছিলাম। মহাপরিচালক আমাকে বদলির আদেশ দেন। পরে গোপাল দাস ওই আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ছয় বছর পর মামলাটি খারিজ হয়ে আমার পক্ষে রায় এসেছে। এখন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমার যোগদান নিচ্ছেন না।’

মামলার বাদী গোপাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তিরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা এবং আদালতের জটিলতা শেষ হওয়ার পরও যোগদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া দুঃখজনক।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য, এটা শুনেছি। যোগদানের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মতামতের জন্য বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠিয়েছেন।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, রায়ের আলোকে প্রধান শিক্ষক গণেশ চক্রবর্তীর যোগদানে বাধা নেই।’

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, ‘মামলার রায় পেয়েছি। রায়ের বিষয়ে এবং যোগদানের বিষয়ে মতামত চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মতামত পাওয়া গেলে যোগদানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’


সিলেটের খবর এর আরও খবর