img

অনলাইনে ফাঁস হলো ৪ কোটি ৮০ লাখ জিমেইল ব্যবহারকারীর তথ্য

প্রকাশিত :  ০৩:০৯, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইনে ফাঁস  হলো ৪ কোটি ৮০ লাখ জিমেইল ব্যবহারকারীর তথ্য

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই  বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি অনলাইনে একটি উন্মুক্ত ডেটাবেইজে জিমেইলের প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ ব্যবহারকারীর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ডসহ মোট ১৪ কোটির বেশি লগইন তথ্য পাওয়া গেছে। 

সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমিয়া ফাউলার এই বিশাল ডেটাবেইজটি খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে মোট ১৪ কোটি ৯৪ লাখ ৪ হাজার ৭৫৪টি ইউনিক লগইন তথ্য ছিল। 

৯৬ জিবি আকারের এই তথ্যের ভাণ্ডারে কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড সুরক্ষা বা এনক্রিপশন ছিল না, যা সাইবার অপরাধীদের জন্য এক ধরনের উন্মুক্ত গুপ্তধনে পরিণত হয়েছিল। এটি কোনো একক বড় হ্যাকিং নয়, বরং বিভিন্ন সময় ইনফোস্টিলার ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে চুরি করা তথ্যের একটি বড় সংগ্রহ।

গবেষক ফাউলারের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্ল্যাটফর্মগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে জিমেইল, যার প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়েছে। জিমেইল ছাড়াও এই ডেটাবেইজে ফেসবুকের ১ কোটি ৭০ লাখ, ইনস্টাগ্রামের ৬৫ লাখ, ইয়াহুর ৪০ লাখ, নেটফ্লিক্সের ৩৪ লাখ এবং আউটলুকের ১৫ লাখ অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য পাওয়া গেছে। 

যদিও দীর্ঘ এক মাসের প্রচেষ্টায় এই ডেটাবেইজটি এখন অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তবে এটি সরানোর আগে কতজন হ্যাকার এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সাইটিডেলের সিইও ম্যাট কনলন এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন যে, ইনফোস্টিলার ম্যালওয়্যারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, ‘কি লগার’ বা ‘ইনফোস্টিলার’ ধরনের ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীর ডিভাইসে ঢুকে টাইপ করা তথ্যগুলো রেকর্ড করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। এপিআইকনটেক্সটের সিইও মায়ুর উপাধ্যায় সতর্ক করেছেন যে, একই পাসওয়ার্ড একাধিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করার ফলে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। একে ‘ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং’ বলা হয়, যেখানে হ্যাকাররা ফাঁস হওয়া একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্যবহারকারীর অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা চালায়। 

পিক্সেল প্রাইভেসির ক্রিস হক ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা ‘HaveIBeenPwned’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের ইমেইল ঠিকানাটি আগে কখনো ফাঁস হয়েছে কি না তা যাচাই করে নেন।

বিষয়টি সম্পর্কে গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা এই ডেটাসেট সম্পর্কে অবগত এবং নিয়মিত এই ধরনের কার্যক্রম নজরদারি করে থাকে। গুগলের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়ে তারা নিশ্চিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই অ্যাকাউন্টটি লক করা হয় এবং পাসওয়ার্ড রিসেট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, এই বিশাল ডেটা লিকে সরকারি, ব্যাংকিং ও স্ট্রিমিং সেবার লগইন তথ্যও ছিল, যা অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং গুগল পাসকি ফিচারের মতো আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

সূত্র: ফোর্বস ম্যাগাজিন

img

ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়াবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১৭:০৯, ২৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৪৫, ২৬ জুন ২০২৬

উচ্চগতির ইন্টারনেট বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। অনলাইন মিটিং, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা সাধারণ ব্রাউজিং—সবকিছুর জন্যই একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, চড়া মূল্য চুকিয়ে বেশ ভালো গতির ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ ব্যবহার করার পরেও কাঙ্ক্ষিত স্পিড বা গতি পাওয়া যায় না।

ইন্টারনেট ডাউন বা ধীরগতির এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের খরচ ছাড়াই কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল অবলম্বন করে ইন্টারনেটের কার্যকারিতা এবং গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।

ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান যে কারণটি কাজ করে, তা হলো ওয়াই-ফাই রাউটারটি ঘরের ঠিক কোন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। অনেকেই রাউটারকে আলমারি, টিভির পেছন বা মোটা দেয়ালের পাশে রাখেন, যা ওয়াই-ফাই সিগন্যালের পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সংযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই রাউটার এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে চারপাশ খোলা থাকে এবং সিগন্যাল সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রাউটারটি মাসের পর মাস দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা একটানা চালু থাকার কারণে এর অভ্যন্তরীণ প্রসেসর ও মেমোরির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা ডিভাইসটির সার্বিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রাউটার বন্ধ করে পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুনরায় চালু করলে এর ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির সমস্যা দূর হয়।

রাউটারের অবস্থানও ইন্টারনেটের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসার এক কোণে রাউটার স্থাপন করলে দূরের কক্ষগুলোতে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ঘরের কেন্দ্রীয় স্থানে রাউটার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুরো বাসায় তুলনামূলকভাবে সমান সিগন্যাল পৌঁছায়।

যদি এসব পদ্ধতিতেও সমস্যার সমাধান না হয়, অন্যান্য উপায়েও ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো সম্ভব। প্রয়োজন হলে রাউটারের রিসেট অপশন ব্যবহার করা যেতে পারে। অধিকাংশ রাউটারে একটি ছোট রিসেট বাটন থাকে, যা চেপে ধরলে ডিভাইসটি ডিফল্ট সেটিংসে ফিরে যায়। এতে অনেক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর হতে পারে। তবে রিসেট করার পর পুনরায় নেটওয়ার্ক সেটআপ করতে হবে।

এ ছাড়া রাউটারের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা উন্নত করতে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে। পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ধীরগতির ইন্টারনেট মানেই যে নতুন বা আরও ব্যয়বহুল প্যাকেজ নিতে হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে রাউটারের সঠিক ব্যবহার, অবস্থান পরিবর্তন, পুনরায় চালু করা, রিসেট করা কিংবা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে সংযোগের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।


 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর