img

শ্রমবাজার কি এখনো অদৃশ্যই থাকবে?

প্রকাশিত :  ১৯:৩৯, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ডিজিটাল বাংলাদেশের এক উপেক্ষিত বাস্তবতা

শ্রমবাজার কি এখনো অদৃশ্যই থাকবে?

বাংলাদেশ উন্নয়নের গল্প বলতে ভালোবাসে। প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো, মেগাপ্রকল্প—সবই আমাদের দৃশ্যপটে উজ্জ্বল। কিন্তু যে শ্রমশক্তি এই উন্নয়নের মূল কারিগর, তাদের \'দৃশ্যমানতা\' আজও প্রশ্নের মুখে।

দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে। তারা জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ অবদান রাখলেও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ, ডিজিটাল কাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষার বলয় থেকে এখনো অনেক দূরে। অধিকাংশ শ্রমিকের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নেই, নেই কাজের ইতিহাসের স্বীকৃত কোনো নথি। এর ফলে শ্রমিকরা যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তেমনি নিয়োগকর্তারাও দক্ষ জনবল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—ডিজিটাল বাংলাদেশ কি কেবল অবকাঠামো আর নাগরিক সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

সরদারি ব্যবস্থার খেসারত

বাংলাদেশের নির্মাণ ও শিল্পখাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো অনেকাংশে মধ্যস্বত্বভোগী বা ‘সরদারি’ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক সমাধান দিলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে অস্বচ্ছতা ও শোষণ।

এখানে দক্ষতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে একজন দক্ষ শ্রমিক প্রায়ই ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন, আর নিয়োগকর্তাও কাজের মান নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন না। দীর্ঘমেয়াদে এই অনানুষ্ঠানিকতার খেসারত দিতে হয় পুরো অর্থনীতিকে।

প্রযুক্তি কি সমাধান দিতে পারে?

এই প্রেক্ষাপটে Kormi24.com-এর মতো ডিজিটাল উদ্যোগগুলো শ্রমবাজারকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটি কেবল প্রচলিত কোনো চাকরির বিজ্ঞাপনের সাইট নয়; বরং যাচাইকৃত পরিচয়, অবস্থানভিত্তিক তথ্য ও রেটিংনির্ভর একটি ‘স্কিল মার্কেটপ্লেস’।

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) যাচাই, কাজের ইতিহাস সংরক্ষণ ও দ্বিমুখী রেটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন শ্রমিক এখানে একটি দৃশ্যমান ডিজিটাল পরিচয় পাচ্ছেন। নিয়োগকর্তার জন্য এটি যেমন আস্থার পরিবেশ তৈরি করে, শ্রমিকের জন্যও তৈরি করে ন্যায্য দরকষাকষির সুযোগ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই প্ল্যাটফর্মটি শ্রমিকের মজুরি থেকে কোনো কমিশন নেয় না। এটি একটি বলিষ্ঠ নীতিগত অবস্থান, যা একে প্রচলিত ‘গিগ ইকোনমি’ মডেল থেকে আলাদা ও মানবিক করে তুলেছে।

বাজার বড়, কিন্তু কাঠামো দুর্বল

বাংলাদেশের নির্মাণ খাত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে এই খাতের বাজারমূল্য ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, অনলাইন গিগ ইকোনমিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শ্রম সরবরাহকারী দেশ।

এত সম্ভাবনা সত্ত্বেও নির্মাণ শ্রমিকদের বড় অংশের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা দক্ষতার স্বীকৃত ডেটাবেজ নেই। ফলে একটি বিশাল শ্রমবাজার কার্যত তথ্যহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে—যেখানে দক্ষতা থাকলেও তার প্রমাণ নেই এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কোনো মজবুত ভিত্তি নেই। এই শূন্যস্থান পূরণে ডিজিটাল স্টাফিং প্ল্যাটফর্মগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এটি কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিরও বিষয়।

রাষ্ট্রের করণীয়

ডিজিটাল শ্রমবাজারের সুফল কেবল উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শ্রমিকের কাজের ইতিহাস, আয় ও রেটিং ভবিষ্যতে তাদের ঋণপ্রাপ্তি, বীমা সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষার মানদণ্ড হতে পারে।

এজন্য প্রয়োজন নীতিগত স্বীকৃতি। ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্মগুলোকে শ্রম আইন ও জাতীয় নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, দক্ষতার প্রত্যয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির (Financial Inclusion) সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সংযোগ ঘটাতে না পারলে প্রযুক্তির প্রকৃত সুফল সাধারণ শ্রমিকের কাছে পৌঁছাবে না।

ডিজিটাল বাংলাদেশ যদি কেবল অ্যাপ ও অবকাঠামোর গল্পে আটকে থাকে, তবে উন্নয়নের একটি বিশাল অংশ অদৃশ্যই থেকে যাবে। শ্রমিকের পরিচয়, দক্ষতা ও মর্যাদা নিশ্চিত না করে টেকসই প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন দেখা অনেকটা বিভ্রমের মতো।

Kormi24-এর মতো উদ্যোগগুলো পথ দেখাচ্ছে যে, শ্রমবাজারকে সুশৃঙ্খল ও ডিজিটাল করা সম্ভব। এখন প্রশ্ন একটাই: রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকেরা কি এই পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত? এই প্রশ্নের উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের উন্নয়ন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক হবে।

img

ব্যবসায়ী অংশীদারি চুক্তিপত্র

প্রকাশিত :  ২০:৩৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


                                                                                    ব্যবসায়ী অংশীদারি চুক্তিপত্র

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

অদ্য ১০ জুন ২০২৪ ইং রোজ সোমবার বিকাল ৫ ঘটিকায় আমরা নিম্নবর্ণিত পক্ষগণ পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে একটি যৌথ অংশীদারি ব্যবসা পরিচালনার নিমিত্তে এই চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হলাম।

প্রথম পক্ষ (অংশীদার ১):

নাম: ..............................................................পিতা: .............................................................মাতা: .............................................................জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ............................................ঠিকানা: ............................................................

দ্বিতীয় পক্ষ (অংশীদার ২):

নাম: ..............................................................পিতা: .............................................................মাতা: .............................................................জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ............................................ঠিকানা: ............................................................

পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরণ করিয়া অত্র অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিলের আইনানুগ বয়ান আরম্ভ করিতেছি। যেহেতু আমরা সকল পক্ষগণ পরস্পর পরস্পরকে দীর্ঘ দিন যাবত চিনি ও জানি। এমতাবস্থায় আমরা সকল পক্ষগণ একত্রে ব্যবসা পরিচালনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আমরা উপরোক্ত পক্ষগণ একমত হইয়া আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জটিলতা নিরসনকল্পে অদ্য হাজিরান মজলিশে স্বাক্ষীগণের মোকাবেলায় এই মর্মে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে নিম্ন লিখিত শর্তাবলীর উপর আস্থা রাখিয়া ভবিষ্যৎ জটিলতা নিরসনকল্পে অত্র ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র দলিলে আমরা সকল পক্ষগণ সহি স্বাক্ষর করিয়া অত্র ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র দলিলে আবদ্ধ হইলাম।

শর্তবলীঃ

১. ব্যবসার নাম ও প্রধান কার্যালয়: ব্যবসার নাম: অত্র অংশীদারি প্রতিষ্ঠানটি “............................................” নামে পরিচালিত হবে।প্রধান কার্যালয়: ব্যবসার প্রধান কার্যালয় বা অফিস ............................................ ঠিকানায় অবস্থিত হবে। পক্ষগণের সর্বসম্মতিক্রমে পরবর্তীতে শাখা অফিস খোলা যেতে পারে।

২. ব্যবসার ধরণ ও উদ্দেশ্যএই প্রতিষ্ঠানটি মূলত ............................................ (যেমন: আমদানি-রপ্তানি, আইটি সেবা, বুটিক, কনস্ট্রাকশন ইত্যাদি) সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

৩. চুক্তির মেয়াদএই অংশীদারি চুক্তিপত্র অদ্য ............. তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং পক্ষগণের যৌথ সিদ্ধান্ত বা বিলুপ্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

৪. মূলধন বা পুঁজি বিনিয়োগব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পক্ষগণ নিম্নোক্ত হারে মোট মূলধন সরবরাহ করবেন:প্রথম পক্ষ: .................... টাকা (মোট মূলধনের .........%)দ্বিতীয় পক্ষ: .................... টাকা (মোট মূলধনের .........%)

৫. লাভ-ক্ষতি বণ্টনব্যবসার অর্জিত মোট লাভ অথবা লোকসান পক্ষগণের নিজ নিজ বিনিয়োগকৃত মূলধনের অনুপাত অনুযায়ী (অথবা সমান হারে) বণ্টন করা হবে।প্রতি ইংরেজি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে বা বছর শেষে ব্যবসার আর্থিক হিসাব সম্পন্ন করে লাভ-ক্ষতি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

৬. পরিচালনা ও দায়িত্বব্যবসার দৈনন্দিন পরিচালনা, হিসাব-নিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে থাকবেন ............................ পক্ষ।তবে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বা নতুন চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সকল পক্ষের লিখিত সম্মতি আবশ্যক।

৭. ব্যাংক হিসাব পরিচালনাযেকোনো তফশিলী ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানের নামে একটি চলতি (Current) অ্যাকাউন্ট খোলা হবে।উক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি প্রথম পক্ষ এবং দ্বিতীয় পক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে (অথবা যেকোনো একক স্বাক্ষরে) পরিচালিত হবে।

৮. নতুন অংশীদার গ্রহণ ও অংশীদারত্ব বাতিলসকল বর্তমান অংশীদারের লিখিত সম্মতি ছাড়া ব্যবসায় নতুন কোনো অংশীদার অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।কোনো অংশীদার ব্যবসা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করতে চাইলে তাকে কমপক্ষে ............. মাস পূর্বে অন্য পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে।

৯. বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধ প্রথমে নিজেদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।তাতে সমাধান না হলে দেশের প্রচলিত সালিশি আইন (Arbitration Act) অনুযায়ী একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করা হবে।

উপসংহার: আমরা পক্ষগণ অত্র চুক্তিপত্রের সকল শর্তাবলী ভালোভাবে পড়িয়া, বুঝিয়া এবং ইহার আইনগত ফলাফল সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন হইয়া স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং অন্যের প্ররোচনা ছাড়া নিচে স্বাক্ষর করিলাম।১ম পক্ষের স্বাক্ষর: ______________________তারিখ:২য় পক্ষের স্বাক্ষর: ______________________তারিখ:সাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:১. নাম: .......................................... স্বাক্ষর: ..........................................২. নাম: .......................................... স্বাক্ষর: ..........................................

চাকরি এর আরও খবর