img

ইন্টারভিউয়ে সফল হওয়ার ১১টি সহজ কিন্তু দুর্দান্ত টিপস (নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য একদম হাতেখড়ি গাইড)

প্রকাশিত :  ০৪:৫২, ১৩ এপ্রিল ২০২৫

ইন্টারভিউয়ে সফল হওয়ার ১১টি সহজ কিন্তু দুর্দান্ত টিপস (নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য একদম হাতেখড়ি গাইড)

রেজুয়ান আহম্মেদ

চাকরির ইন্টারভিউ—শুনলেই যেন বুকের ভেতর ধুকপুক শুরু হয়, তাই না? বিশেষ করে যদি আপনি সদ্য গ্র্যাজুয়েট হন, তাহলে ব্যাপারটা আরও টেনশনের। কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। একটু পরিকল্পনা, একটু প্র্যাকটিস, আর একটু স্মার্টনেস—এই তিনটেই আপনাকে ইন্টারভিউয়ের দিনে আলাদা করে তুলবে। চলুন, একদম সহজ ভাষায় জেনে নিই নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ইন্টারভিউয়ের কিছু দুর্দান্ত টিপস:

১. কোম্পানিটাকে একটু ভালো করে চিনে নিন

ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগে অন্তত ১৫ মিনিট সময় দিন কোম্পানিটাকে জানার জন্য। তাদের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখুন, তারা কী নিয়ে কাজ করে, তাদের ক্লায়েন্ট কারা, সাম্প্রতিক কোনো বড় প্রজেক্ট ছিল কি না—এসব জানলে আপনি “সিরিয়াস ক্যান্ডিডেট” হিসেবে ধরা পড়বেন।

টিপস:

LinkedIn-এ কোম্পানির প্রোফাইল দেখুন, কেউ যদি আগে থেকে ওখানে কাজ করে—তাদের পোস্টও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।

২. নিজের সিভি একবার পড়ুন—হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়লেন!

সিভি তো আপনি নিজেই বানিয়েছেন, তাই না? কিন্তু ইন্টারভিউর সময় কেউ যদি আপনার কোনো প্রজেক্ট নিয়ে জিজ্ঞেস করে, আর আপনি যদি মুখ চাওয়া চাওয়ি করেন—তাহলে সমস্যা! তাই সিভির প্রতিটি লাইন আপনি কতটা বাস্তবিকভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, সেটাই আসল বিষয়।

মাইন্ড দিস:

“আপনার সিভিতে লেখা আছে আপনি একটা ‘ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করেছেন, কেমন ছিল অভিজ্ঞতাটা?” – এই প্রশ্নটার জন্য তৈরি থাকুন!

৩. কিছু প্রশ্ন প্রায় নিশ্চিতভাবেই আসবে—এগুলো মুখস্থ করে ফেলুন না, বোঝেন!

নিজেকে একটু পরিচয় করিয়ে দিন:

আপনার স্ট্রেংথ কী?

আপনার দুর্বলতা কী?

পাঁচ বছর পর আপনি নিজেকে কোথায় দেখেন?

আমাদের কোম্পানিতে কেন কাজ করতে চান?

এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই প্র্যাকটিস করে রাখলে ইন্টারভিউয়ের সময় ঘাবড়ে যাবেন না।

৪. পোশাক নিয়ে কনফিউশন? বেশি চিন্তা না করে ফর্মাল থাকুন

ইন্টারভিউতে আপনার পোশাকই কিন্তু প্রথম ছাপ ফেলে। তাই কাপড় হোক পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি, আর ফর্মাল। জিন্স-টি-শার্ট না পরে শার্ট-প্যান্ট বা সালোয়ার-কামিজ পরুন।

ভিডিও ইন্টারভিউ হলে?

পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড যেন পরিপাটি হয়। আর হ্যাঁ, ক্যামেরার সামনে একদম ফর্মাল পোশাকে আসুন—even if you\'re at home.

৫. বডি ল্যাংগুয়েজ দিয়েই বুঝিয়ে দিন আপনি কনফিডেন্ট

চোখে চোখ রেখে কথা বলুন.

হালকা হাসি দিন.

সোজা হয়ে বসুন,

হাত-পা বেশি নড়াচড়া না করে শান্ত থাকুন।

টিপস:

ইন্টারভিউয়ারের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং মাঝে মাঝে মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিন—“Yes, I\'m following!”

৬. আপনারও প্রশ্ন থাকতে পারে—এ সুযোগটা ছাড়বেন না!

প্রায়ই ইন্টারভিউয়ের শেষে বলা হয়, “Do you have any questions for us?” এখানেই আপনি স্মার্টলি নিজের আগ্রহ দেখাতে পারেন।

জিজ্ঞেস করতে পারেন:

এই রোলে সাফল্যের মাপকাঠি কী?

কোম্পানির আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা কী?

টিমের কাজের ধরনটা কেমন?

টাকা-পয়সা, ছুটি এসব নিয়ে না জিজ্ঞেস করাই ভালো, যদি না তারা নিজেরা কথা তোলে।

৭. যদি টেকনিক্যাল পোস্টে ইন্টারভিউ হয়—প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস!

আপনি যদি সফটওয়্যার, আইটি বা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের হন, তাহলে আগেভাগেই কিছু কোডিং প্র্যাকটিস সেরে ফেলুন।

সাইটস টু চেক:

LeetCode

HackerRank

GeeksForGeeks

আর হ্যাঁ, “এই কোডটা আমি এইভাবে লিখলাম কারণ…”—ব্যাখ্যা দেওয়াটা শিখে নিন।

৮. আচরণগত প্রশ্নে গল্প বলুন

ইন্টারভিউয়াররা জানতে চান, বাস্তব পরিস্থিতিতে আপনি কীভাবে রিঅ্যাক্ট করেন। STAR টেকনিক কাজে লাগান:

S: কী হয়েছিল?

T: আপনি কী করার দায়িত্বে ছিলেন?

A: আপনি কী করলেন?

R: রেজাল্ট কী হয়েছিল?

উদাহরণ:

\"আমার টিমমেটরা একবার ডেডলাইন মিস করার ভয় পেয়ে ছিলেন। আমি দায়িত্ব ভাগ করে কাজ শিডিউল করি, এবং আমরা নির্ধারিত সময়েই জমা দিই।\"

৯. মক ইন্টারভিউ দিন—বন্ধুর সাথে হলেও চলবে!

বাসায় বসে আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করুন বা বন্ধুদের নিয়ে একটা মক ইন্টারভিউ সেশন করুন। এতে করে ভয় কেটে যাবে।

প্ল্যাটফর্ম:

InterviewBuddy, Pramp-এর মতো ওয়েবসাইটে লাইভ মক ইন্টারভিউও পাওয়া যায়।

১০. সময়ানুবর্তিতা—ছোট একটা অভ্যাস, বড় একটা ছাপ

যেদিন ইন্টারভিউ আছে, সেদিন একটু আগে পৌঁছানোই শ্রেয়। ধরুন ১৫ মিনিট আগে। অনলাইন হলে আগে থেকেই ল্যাপটপ, ইন্টারনেট চেক করে নিন।

টিপস:

সিভি, সার্টিফিকেট, রেফারেন্স সব এক জায়গায় রাখুন। আর হ্যাঁ, ইন্টারভিউয়ারের নামটা জেনে নিন—সম্বোধনে ব্যবহার করতে পারবেন।

১১. ইন্টারভিউ শেষ? এবার ছোট্ট একটা ধন্যবাদ দিন

ইন্টারভিউ শেষ হলে একটা ধন্যবাদ মেইল পাঠিয়ে দিন। লিখুন, তাদের সময় ও সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। এতে আপনি একজন পেশাদার ও মার্জিত প্রার্থী হিসেবে মনে থেকে যাবেন।

ইন্টারভিউ কোনো যুদ্ধ নয়, বরং এটি এমন একটা সুযোগ—যেখানে আপনি নিজেকে গল্পের মতো উপস্থাপন করেন। একটু প্র্যাকটিস, একটু আন্তরিকতা আর সৎ প্রস্তুতি—এই তিনেই আপনি অনেক দূর যেতে পারবেন।

সফল হোন—নিজের মতো করে, আত্মবিশ্বাসের সাথে!

img

৪ লাখ ৬৮ হাজার সরকারি পদ শূন্য, নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ০৯:০৮, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি চাকরির বিভিন্ন গ্রেডে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এসব শূন্যপদ পূরণে এরইমধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিএসসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুখস্থ নির্ভর সিলেবাস বাদ দিয়ে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের অনুমতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উত্থাপন করা হয়। সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে, প্রথম শ্রেণি (১ম-৯ম গ্রেড) ৬৮,৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণি (১০ম-১২তম গ্রেড) ১,২৯,১৬৬টি পদ। ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১,৪৬,৭৯৯টি পদ। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড ১,১৫,২৩৫টি পদ। অন্যান্য ৮,১৩৬টি পদ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি তদারকির জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

এমপি হারুন-অর-রশিদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ চলছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পর্যালোচনা করছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর জ্ঞান ও মনোভাব যাচাইয়ে ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ চালু এবং এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছিল। এছাড়া গত সরকারের সময় নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিষয়ে দুদক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে।