img

পাঁচ লাখ জব ভিসা দেবে ইতালি

প্রকাশিত :  ১০:৪২, ০১ জুলাই ২০২৫

পাঁচ লাখ জব ভিসা দেবে ইতালি

মো : ফেরদৌস আহমেদ: শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বৈধ অভিবাসন বাড়াতে নতুন করে ৫ লাখ ‘ওয়ার্ক পারমিট ভিসা’ ইস্যু করবে ইতালি। গতকাল সোমবার (৩০ জুন) দেশটির মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈধ অভিবাসন চ্যানেল সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ হিসেবে ইতালি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের জন্য নতুন কর্ম ভিসা ইস্যু করা হবে।

আগামী বছর মোট ১৬৪,৮৫০ জনকে অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের মধ্যে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন নতুন কর্ম ভিসায় ইতালি যেতে পারবেন।

প্রায় ৩ বছর আগে ডানপন্থি জোটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ভিসা নীতি সহজ করে আসছেন। বিপুল বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে এটি তার দ্বিতীয় পদক্ষেপ। সরকার এরই মধ্যে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি অভিবাসীর জন্য পারমিট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নিয়মের পাশাপাশি মেলোনি অবৈধ আগমনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রত্যাবাসন দ্রুততর করার এবং ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের উদ্ধারকারী দাতব্য সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক অংশীদারদের দ্বারা প্রকাশিত চাহিদা এবং পূর্ববর্তী বছরগুলোতে জমা দেওয়া ওয়ার্ক পারমিটের জন্য প্রকৃত আবেদনগুলো বিবেচনা করে কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসার চাহিদা পূরণ করে এবং বাস্তবসম্মত হওয়ার লক্ষ্যে এমন একটি কর্মসূচির হাতে নেওয়া হলো।

ইতালির জনসংখ্যা দিন দিন কমছে। দেশটির প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে, শিশু জন্মহার কমছে। ২০২৪ সালে মৃত্যুর সংখ্যা জন্মের তুলনায় ২ লাখ ৮১ হাজার বেশি ছিল। সেই বছর দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩৭ হাজার কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজারে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে।

কৃষিখাতে কর্মী সংকট মোকাবিলায় সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে কৃষি লবি গ্রুপ কোলদিরেত্তি। তারা বলেছে, এই সিদ্ধান্ত মাঠে শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য উৎপাদন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেও পিয়ান্তেদোসি রোববার ইতালির দৈনিক পত্রিকা লা স্তাম্পা-কে বলেন, \'আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর জন্য বৈধ অভিবাসনের পথ চালু রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।\'

ইতালির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান \'ওসেরভাতোরিও কন্তি পাবলিচি\'-র এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে জনসংখ্যার পতন ঠেকাতে এবং জনসংখ্যা ধরে রাখতে হলে ২০৫০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১ কোটি অভিবাসীকে গ্রহণ করতে হবে।

img

৪ লাখ ৬৮ হাজার সরকারি পদ শূন্য, নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ০৯:০৮, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি চাকরির বিভিন্ন গ্রেডে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এসব শূন্যপদ পূরণে এরইমধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিএসসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুখস্থ নির্ভর সিলেবাস বাদ দিয়ে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের অনুমতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উত্থাপন করা হয়। সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে, প্রথম শ্রেণি (১ম-৯ম গ্রেড) ৬৮,৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণি (১০ম-১২তম গ্রেড) ১,২৯,১৬৬টি পদ। ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১,৪৬,৭৯৯টি পদ। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড ১,১৫,২৩৫টি পদ। অন্যান্য ৮,১৩৬টি পদ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি তদারকির জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

এমপি হারুন-অর-রশিদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ চলছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পর্যালোচনা করছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর জ্ঞান ও মনোভাব যাচাইয়ে ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ চালু এবং এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছিল। এছাড়া গত সরকারের সময় নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিষয়ে দুদক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে।

চাকরি এর আরও খবর