img

চাকুরির পেছনে না ছুটে নিজেকে তৈরি করুন, চাকুরি আপনাকেই খুঁজে নেবে!

প্রকাশিত :  ১১:৪৫, ২২ নভেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৬, ২২ নভেম্বর ২০২৪

চাকুরির পেছনে না ছুটে নিজেকে তৈরি করুন, চাকুরি আপনাকেই খুঁজে নেবে!

রেজুয়ান আহম্মেদ

আজকের চাকুরির বাজারে প্রবেশ করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে চাকরির খোঁজে মাঠে নামে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, চাকুরির চাহিদা এবং যোগানের মধ্যে একটি বিশাল ফারাক রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরির পদ যতটা রয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রার্থী আবেদন করে। ফলে, যথেষ্ট পরিশ্রম করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত চাকুরি পায় না। তবে এই পরিস্থিতি বদলানোর উপায় রয়েছে, এবং তা হলো—চাকুরির পেছনে না ছুটে নিজেকে এমনভাবে তৈরি করা যেন চাকুরি আপনার পেছনে ছুটে আসে।

আজকাল আমরা প্রায়ই মনে করি যে, কেবল চাকুরি পাওয়ার জন্য শিক্ষা অর্জন করলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তবে, বাস্তবে শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করে চাকুরি পাওয়া সম্ভব নয়। চাকুরিদাতারা শুধুমাত্র ডিগ্রিধারী প্রার্থী খোঁজেন না, তারা এমন প্রার্থী খোঁজেন যারা সৃজনশীল, সমস্যা সমাধানে সক্ষম এবং সময়োপযোগী দক্ষতা রাখে। সুতরাং, চাকরি পাওয়ার জন্য আপনাকে নিজের দক্ষতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। যদি আপনি নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারেন, তবে চাকুরির বাজারে আপনার একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরি হবে, এবং একসময় চাকুরি নিজে আপনার পেছনে ছুটে আসবে।

আজকের চাকুরির বাজারে শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই যথেষ্ট নয়, আরও অনেক কিছু প্রয়োজন। যেমন, সফট স্কিল এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা। যদি আপনি কোনো টেকনিক্যাল দিক যেমন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, বা গ্রাফিক ডিজাইনে দক্ষ হন, তবে আপনি চাকুরিদাতাদের কাছে অধিক আকর্ষণীয় প্রার্থী হয়ে উঠবেন। তবে, শুধুমাত্র টেকনিক্যাল দক্ষতা যথেষ্ট নয়। কিছু সফট স্কিল যেমন যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলবদ্ধভাবে কাজ করার ক্ষমতা এবং সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আমাদের আরও উন্নত করবে।

কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ না থেকে, আজকের যুগে আমাদের অনলাইন শিক্ষার সুবিধা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন Coursera, Udemy, এবং LinkedIn Learning রয়েছে, যেখানে আপনি বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করে আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারেন। এই কোর্সগুলো আপনাকে সঠিক দক্ষতা শেখাবে, যা বর্তমান চাকুরি বাজারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আমরা প্রায়ই মনে করি যে শুধুমাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জন করলেই চাকুরি পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক ধাপ। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা অর্জন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই আপনি একটি বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকরি পেতে পারেন, যা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ করে তোলে।

একজন ভালো কর্মী হওয়ার জন্য কেবল দক্ষতা বা মনোভাবই যথেষ্ট নয়, তার পেশাগত নেটওয়ার্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি পেশাগত সম্পর্ক তৈরি না করেন, তবে আপনার দক্ষতা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন না। আজকের ডিজিটাল যুগে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন LinkedIn-এ সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন, যা আপনাকে চাকুরির বাজারে আরও শক্তিশালী করবে।

একজন সফল কর্মী হওয়ার জন্য শুধুমাত্র চাকুরির খোঁজে ছুটে না গিয়ে উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তা মনোভাব আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, এবং আপনার কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান করবে। এটি কেবল আপনাকে চাকুরির খোঁজে থাকতে বাধ্য করবে না, বরং নিজের উদ্যোগে সফল হতে সহায়ক হবে।

একজন পেশাদার ব্যক্তি কেবল চাকুরির খোঁজে না থেকে, নিজের দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে এমনভাবে নিজেকে তৈরি করবে যাতে চাকুরি নিজেই তাকে খুঁজে নেবে। যখন আপনি নিজের দক্ষতা, উদ্যম এবং আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ হবেন, তখন চাকুরির জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না।

অতএব, চাকুরির পেছনে না ছুটে বরং নিজেকে দক্ষ এবং সৃজনশীলভাবে গড়ে তুলুন। যদি আপনি নিজের দক্ষতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেন, তাহলে একসময় চাকুরি আপনাকে খুঁজে নেবে। এটি শুধু আপনার জীবনকেই বদলে দেবে না, বরং সমাজে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং দিশা তৈরি করবে।


রেজুয়ান আহম্মেদ: কলামিস্ট, বিশ্লেষক; সম্পাদক অর্থনীতি ডটকম
img

৪ লাখ ৬৮ হাজার সরকারি পদ শূন্য, নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ০৯:০৮, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি চাকরির বিভিন্ন গ্রেডে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এসব শূন্যপদ পূরণে এরইমধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিএসসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুখস্থ নির্ভর সিলেবাস বাদ দিয়ে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের অনুমতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উত্থাপন করা হয়। সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে, প্রথম শ্রেণি (১ম-৯ম গ্রেড) ৬৮,৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণি (১০ম-১২তম গ্রেড) ১,২৯,১৬৬টি পদ। ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১,৪৬,৭৯৯টি পদ। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড ১,১৫,২৩৫টি পদ। অন্যান্য ৮,১৩৬টি পদ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি তদারকির জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

এমপি হারুন-অর-রশিদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ চলছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পর্যালোচনা করছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর জ্ঞান ও মনোভাব যাচাইয়ে ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ চালু এবং এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছিল। এছাড়া গত সরকারের সময় নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিষয়ে দুদক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে।

চাকরি এর আরও খবর