img

কর্মসংস্থানই দেশপ্রেম: কর্মী২৪.কম-এর আলোর মশাল

প্রকাশিত :  ১৮:১৩, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২৩, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কর্মসংস্থানই দেশপ্রেম: কর্মী২৪.কম-এর আলোর মশাল

সকালের প্রথম আলো যখন শহরের পাকা রাস্তায় পড়ে, তখনই শুরু হয় নতুন এক দিনের সংগ্রাম। এক হাতে সার্টিফিকেট, আরেক হাতে কাজের স্বপ্ন নিয়ে তরুণ-তরুণীরা ছুটে চলে নানা অফিসে, নানা কারখানায়। কিন্তু এই শহর কি সবার জন্য সমান? অফিসের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা চাকরিপ্রত্যাশীদের ক্লান্ত মুখগুলো যেন একটাই প্রশ্ন করে—"আমার জন্য কি কোনো সুযোগ আছে?"

এমনই এক সময়ে আশার আলো হয়ে এসেছে কর্মী২৪.কম। কর্মসংস্থানের সংকট দূর করার দৃঢ় প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মটি শুধু চাকরি খোঁজার মাধ্যম নয়, এটি একটি বিপ্লব, একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন!

দেশপ্রেম মানে দায়িত্ব নেওয়া...

অনেকেই দেশপ্রেমের সংজ্ঞা দেয় যুদ্ধ, রাজনীতি বা কেবল দেশকে ভালোবাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে। কিন্তু প্রকৃত দেশপ্রেম হলো দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের জীবনের উন্নতির জন্য কাজ করা। কর্মী২৪.কম এই দেশপ্রেমের এক জীবন্ত উদাহরণ।

একজন বাবা যখন তার সন্তানের স্কুলের ফি দিতে পারেন না, তখন তার হৃদয়ে যে বেদনা জাগে, সেটি কেবল তিনিই বোঝেন। একজন মা যখন সন্তানের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে না পেরে নির্ঘুম রাত কাটান, তখন তার চোখের জল বোঝে এই দেশপ্রেমিক উদ্যোগ। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা মানে শুধু চাকরি দেওয়া নয়, বরং একটি পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখানো।

কর্মসংস্থান মানে নতুন স্বপ্নের জন্ম...

একসময় এই দেশের বহু মেধাবী তরুণ বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমাতেন, শুধুমাত্র কাজের অভাবে। নিজের মাটি ছেড়ে, মায়ের মুখ থেকে দূরে গিয়ে পরের দেশে কষ্ট করে জীবন চালাতে হতো। কিন্তু কর্মী২৪.কম এসেছে এই বাস্তবতা বদলে দিতে।

একজন নবীন গ্র্যাজুয়েট যখন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রথম চাকরির চিঠি হাতে পান, তার সেই মুহূর্তের আনন্দ কি কোনো শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব? তার বাবা-মায়ের মুখের হাসি, ছোট ভাই-বোনের চোখের উজ্জ্বলতা—এসবই তো সত্যিকারের দেশপ্রেমের চিত্র।

মেহনতি মানুষদের স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকার...

শুধু শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের জন্যই নয়, *কর্মী২৪.কম* কাজ করছে দিনমজুর, শ্রমিক, কারিগর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সব শ্রেণির মানুষের জন্য। একটি দেশের উন্নয়ন কেবল বড় অফিস আর কর্পোরেট চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর হাতে যদি কাজ না থাকে, তাহলে সেই দেশ উন্নত হতে পারে না।

এই প্ল্যাটফর্মে একজন রিকশাচালক সহজেই জানতে পারেন কোথায় তিনি আরও ভালো আয় করতে পারেন। একজন গার্মেন্টস শ্রমিক জানতে পারেন কোন ফ্যাক্টরিতে তার দক্ষতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ আছে। একজন অভিজ্ঞ কারিগর খুঁজে পান উপযুক্ত কোম্পানি, যারা তার কাজকে সম্মান দেবে।

একটি উদ্যোগ, এক নতুন বাংলাদেশ...

আজ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা মানেই শুধু চাকরি দেওয়া নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এক বিশাল পদক্ষেপ। একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল জাতি গড়তে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কর্মসংস্থান। কর্মী২৪.কম সেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে, যেখানে প্রতিটি তরুণের হাতে কাজ থাকবে, যেখানে কেউ বেকারত্বের গ্লানিতে ভুগবে না।

এই উদ্যোগ শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়, এটি এক প্রতিজ্ঞা—একটি প্রতিশ্রুতি যে, বাংলাদেশ একদিন আত্মনির্ভরশীল হবে। একদিন আর কোনো মা তার সন্তানের ক্ষুধার কান্না সহ্য করতে হবে না, একদিন আর কোনো বাবা মাথা নিচু করে বলতে বাধ্য হবেন না—"আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"

দেশ গড়ার শপথ...

আজ যদি আমরা সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেম দেখাতে চাই, তবে আমাদের উচিত কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করা, উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা, নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। আমাদের সবার একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত—একটি উন্নত, কর্মক্ষম, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

কর্মী২৪.কম সেই স্বপ্নেরই এক আলোকবর্তিকা!

img

ইতালির স্পন্সর ভিসা: ‘ক্লিক ডে’ ত্রুটিতে মিলছে না ভিসা, বাড়ছে অবৈধ শ্রমিক

প্রকাশিত :  ০৫:১৮, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪৫, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইতালিতে ২০২৬–২৮ মেয়াদের তিন বছরের কর্মসূচির অধীনে পাঁচ লাখ বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের ‘ক্লিক ডে’ সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জনের কোটায় বিভিন্ন খাতে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে।

এবার কঠোর শর্ত ও জটিল আবেদনপদ্ধতির কারণে প্রত্যাশার তুলনায় আবেদন সংখ্যা কম হয়েছে। এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধারণা, যারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করতে পেরেছেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

এদিকে প্রশাসনিক জটিলতা এবং ক্লিক ডের ত্রুটির কারণে ইতালিতে বহু বিদেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে উপস্থাপিত এক বার্ষিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রতি বছর কোটা নির্ধারণ করে স্পন্সর ভিসায় বিদেশি শ্রমিক প্রবেশের অনুমোদন দিয়ে থাকে ইতালি সরকার। যদিও বাস্তবে অনুমোদনের হার খুবই কম। প্রশাসনিক জটিলতা ও ক্লিক ডের ত্রুটিতে অবৈধ হয়ে থাকছেন বহু শ্রমিক।

দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে ‘এরো স্ত্রানিয়েরো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের স্পন্সর ভিসার কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০টি। তবে সফলভাবে ইতালিতে থাকার অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ২৪ হাজার ৮৫৮ জন। চূড়ান্ত অনুমোদনের হার ছিল ১৬ দশমিক ৯ ভাগ।

২০২৫ সালের কোটা বাড়িয়ে করা হয় ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৫০। কিন্তু মাত্র ১৪ হাজার ৩৪৯ জন অনুমোদন পেয়েছেন। শতকরা হার মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইতালিতে আসা এসব শ্রমিক দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও অনুমোদনপ্রক্রিয়ার জটিলতায় অনেকে অবৈধ থেকেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সঠিক উপায়ে ভিসা ও থাকার অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশটির নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

তারা বলছেন, ইতালিতে আসার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সরকারকে এ বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তা না হলে ইতালিতে অবৈধ লোকের সংখ্যা বাড়বেই।

ইতালিতে বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ শুধু একটি অভিবাসন ইস্যু নয়। এটি দেশের অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ শ্রম বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সিনেটে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী কোটা নির্ধারণ, আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও দ্রুত করা, মৌসুমি কাজের শ্রমিকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে ইতালিতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিচার বিভাগের কয়েকজন সদস্য অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসী-সম্পর্কিত অপরাধ দমনে সরকারের প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ জানানা।


চাকরি এর আরও খবর