img

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় ভাইরাস, ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ০৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১০, ০৪ মে ২০২৬

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় ভাইরাস, ৩ জনের মৃত্যু

 হঠাৎ আতঙ্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে  আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ভেসে চলা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী। অজানা উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের মধ্যে পরে শনাক্ত হয়েছে বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ। ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি সতর্কতা জারি করেছে, আর সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হয়েছে ব্যাপক তদন্ত ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটলান্টিক মহাসাগরে একটি প্রমোদতরীতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়া একটি বিরল রোগ। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরীতে সম্ভাব্য এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে তদন্ত করছে। প্রমোদতরীটি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

রোববার (৩ মে) এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, একজনের শরীরে ভাইরাসটি নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে এবং আরও অন্তত পাঁচ যাত্রী আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ডব্লিউএইচও জানায়, আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

সংস্থাটি জানায়, বিস্তারিত তদন্ত চলছে, যার মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও মহামারিবিদ্যাগত বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাত্রী ও ক্রুদের চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণও চলমান রয়েছে। 

ডব্লিউএইচও আরও জানায়, আরও দুই যাত্রীর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

মূলত হান্টাভাইরাস একটি বিরল রোগ। এটি সংক্রমিত ইঁদুরের মল বা মূত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের কারণ হতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ রোববার জানায়, প্রমোদতরীটিতে ‘তীব্র শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতার’ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন মারা গেছেন এবং আরেকজন জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যায় আছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে নিশ্চিত করেন, জোহানেসবার্গে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রথমে ৭০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি অসুস্থ হন। তিনি প্রমোদতরীতেই মারা যান। তার লাশ বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র।

পরে তার ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হয়। পরে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মোহালে এএফপিকে জানান, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা ৬৯ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি একজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে এএফপি জানিয়েছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

জলবায়ু গত পরিবর্তনে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হবে, যাদের প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৪:৫৭, ০২ মে ২০২৬

সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ আমান উল্লাহ: বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত অভিবাসনের অভিযোজন চ্যালেঞ্জ স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধান বিষয়ক কর্মশালয় হয়েছে রাজধানী সিডাপ মিলনায়তনে। সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেট মুভমেন্ট রিসার্চ ( রামরু) এই আয়োজনে, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে,

রামরুর নির্বাহী পরিচালক ডক্টর তাসলিম সিদ্দিক বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ ২৫ কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হবে, যার ৪ কোটি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়, এরমধ্যে বাংলাদেশে স্থানচ্যুত হবে ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ, তিনি বলেন যেখানে ইন্ডাস্ট্রি সেখানে কাজয়, সেখানে লো রেন্টাল হাউজিং দরকার, আর কিচ্ছু দরকার নাই।  তার চেয়ে আমরা যদি লো রেন্টালে তাদের, যেখানে ইন্ডাস্ট্রি সেখানে হাউসিং প্রোভাইড করতে পারি, তাহলে কিন্তু হচ্ছে। তাহলে আমাদের হাউসিং তৈরি করতে হবে, সরকার বলতে পারে আমাদের টাকা নাই, তাহলে গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ন কেন বানাচ্ছো, তা না বানিয়ে এইখানে বানান। আর এ থেকে উত্তরণের জন্য গ্রাম ও শহর ভিত্তিক সঠিক ব্যবস্থাপনা নেওয়ার খুব জরুরী।

সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে জলবায়ু অভিবাসীদের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি, 

মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদেরকে ক্লাইমেট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, বিজ্ঞান এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে এমন কোন গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি, যে এখানে সমস্যা হলে সবাই মিলে সেই গ্রহে চলে যাব , বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত এতটা শক্তিশালী হয়নি, অতএব আমাদের জন্য পথ একটাই খোলা আছে এই গ্রহকে বাসযোগ্য করতে হবে, বাসযোগ্য রাখতে হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি  বলেন, স্থানীয় মানুষদের নিয়ে পরিকল্পনা নেই বলে তারা শহরে পেট্টন প্লান    সংকটে পড়ে, সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার বলেও উল্লেখ করেন ।

তিনি আরো বলেন, সরকার শেষ চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য সর্বোত্তম ভাবে চেষ্টা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে, যারা মূলত ‘জলবায়ু-প্ররোচিত’ আয়ের ক্ষতির কারণে দারিদ্র্যের নতুন শিকার হবে।

শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৪ কোটি ৮৮ লাখে।

বিশ্বব্যাংক আর জানিয়েছে, সাহারা-উপসাহারীয় আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল হবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব অঞ্চলের দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো, সীমিত সামাজিক সুরক্ষা এবং বারবার চরম আবহাওয়ার ধাক্কায় পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। স্থানীয় সরকার ও নাগরিকদের পক্ষে এই অভিঘাত সামলানো হয়ে উঠবে চরম দুরূহ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী এই দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অভিযোজনে সাহায্য করতে হবে।

বিশ্বব্যাংক সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে—জলবায়ু পরিবর্তন যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য হ্রাসের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর