img

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৩:৫১, ১৯ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে নরেন ধর নামে এক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খুলশী এলাকায় অবস্থিত ওই কার্যালয় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ (মিডিয়া ও জনসংযোগ) বলেন, নরেন ধর (৩৮) ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।


img

শিশু রামিসাকে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা, মূল সন্দেহভাজন আটক

প্রকাশিত :  ১৮:৪২, ১৯ মে ২০২৬

সাত বছরের ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তার স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পথে প্রতিবেশীর লালসার শিকার হলেন। নিজ ফ্ল্যাটে ঢোকার আগেই পাশের ফ্ল্যাটের মাদকাসক্ত সোহেল রানা টেনে বাথ রুমে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তাকে। হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয় বলে ধারণা পুলিশের। 

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ঘটে নৃশংস এ হত্যার ঘটনা। অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩২) রিক্সা মেকানিক। শিশুটাকে হত্যা করে পালায় সোহেল। সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। তবে এর আগেই তার স্ত্রী সম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। 

সোহেল-সম্পা দম্পতির ঘরে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসা ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল। 

রামিসা মিরপুর পল্লবীর পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার সকালে রামিসা বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাইরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী সোহেলের বাসার বন্ধ দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কারও সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ এ বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। 

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বন্ধ দরজা ভেঙে পুলিশ বাসায় ঢুকে সোহেলের ঘরে রক্ত দেখতে পায়। এর পর প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। শরীর বিববস্ত্র ছিল। খাটের নিচে এক কোণায় রঙয়ের খালি প্লাস্টিক বালতির মধ্যে কাটা মাথার সন্ধান মেলে। 

সোহেলের স্ত্রী সম্পা রান্না ঘরে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগেই সোহেল পালিয়ে যান। অপর দুটি কক্ষে তালাবদ্ধ ছিল। 

পল্লবী থানা পুলিশ ছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারি আব্দুল হান্নান পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্লাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। এর পাশের ফ্ল্যাটের তিনটি কক্ষে আলাদা তিন পরিবার বাস করে।

একটি ঘরে বাস করে সোহেল-সম্পা দম্পতি। ওই ঘর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় শিশুটির মাথা শরীর বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। পুলিশের প্রাথমিকভাবে ধারণা, ধর্ষণের পর রামিসাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। 

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, শিশুটি স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। তাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকত ঘাতক মাদকাসক্ত সোহেল। দুই ফ্ল্যাটের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থেকে সোহেল শিশুটিকে টেনে রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়। পরে বাথরুমে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। আমাদের ধারণা ধর্ষণ করে মিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করেছে। 

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় সোহেলের বউ ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। 

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটির লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রথমে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই বাসার ভেতরে একটি বালতির মধ্যে মাথাটি পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, প্রতিবেশী সোহেল শিশুটিকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেলের স্ত্রীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনের কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন সোহেলকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 


বাংলাদেশ এর আরও খবর