সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদ উদযাপন
প্রকাশিত :
০৫:৫৭, ২৭ মে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৩০, ২৭ মে ২০২৬
আজ বুধবার (২৭ মে) সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হচ্ছে। ঢাকা, সাতক্ষীরা, বগুড়া, পটুয়াখালী, দিনাজপুর, চাঁদপুর ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার কয়েকটি এলাকায় মুসল্লিরা ঈদের জামাতে অংশ নেন। এসব এলাকার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরও উযাপন করে থাকেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানী ঢাকায়ও পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন একদল মুসল্লি। রাজধানীর পান্থপথের সামুরাই কনভেনশন সেন্টারে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ মুসল্লি অংশ নেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করছে পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামে ২৫ হাজার মানুষ। সকাল সাড়ে ৮টায় বদরপুর দরবার শরীফ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন পটুয়াখালী বদরপুর দরবার শরীফের মাওলানা আব্দুল গনি।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী ও শিশুসহ নানা বয়সের মুসল্লিরা অংশ নেন।
মৌলভীবাজারে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল আজহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় এ জামাতের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ মুসল্লি অংশ নেন। জামাতে ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। আজ সকাল ৮টায় উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠসংলগ্ন দুলদুলের ধানের চাতাল ঘরে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : আমরা আমাদের মুল্যবান সময়কে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছি?
প্রকাশিত :
১৮:৫৬, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শায়খ মুস্তফা আবদুল্লাহ
সময় আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিয়ামত। মানুষের জীবন মূলত আল্লাহর দেওয়া সময়েরই একটি সমষ্টি । তাই সময়কে অবহেলা না করে সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রত্যেকের দায়িত্ব— কথাগুলো বলেছেন শায়খ মুস্তফা আবদুল্লাহ।
২৮ আগস্ট শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবায় তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন, যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে সময় এমন একটি মৌলিক নিয়ামত, যার ওপর আমাদের শিক্ষা, ইবাদত, পরিবার, কাজ, সাফল্য ও মানুষের সেবা—সবকিছু নির্ভর করে।
তিনি বলেন, হৃদপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের আরেকটি মুহূর্ত চলে যাচ্ছে । হারিয়ে যাওয়া সময় আর কখনো ফিরে আসে না।
মোবাইল ফোন ও সোশাল মিডিয়াকে বর্তমান সময়ের বড় একটি বিভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা কয়েক মিনিটের জন্য ফোন হাতে নিই, কিন্তু অজান্তেই এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় চলে যায়। এতে শুধু মনোযোগ নষ্ট হয় না, জীবনের মূল্যবান একটি অংশও হারিয়ে যায়।
তরুণদের উদ্দেশে শায়খ মোস্তফা আবদুল্লাহ বলেন, যারা নতুন করে স্কুলে যাচ্ছে, জিসিএসই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করছে কিংবা ভবিষ্যতে কী করবে তা নিয়ে ভাবছে—তাদের উচিত কোনো কাজ শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে না রাখা।
অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার মাত্র এক বা দুই সপ্তাহ আগে পড়াশোনা শুরু করে । কিন্তু যদি বছরের শুরু থেকেই প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়া, রিভিশন বা নতুন কিছু শেখার অভ্যাস করা যায়, তাহলে পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত চাপ নিতে হয় না এবং প্রস্তুতিও অনেক ভালো হয়।
প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট পড়াশোনা হয়তো খুব সামান্য মনে হতে পারে । কিন্তু এই ১০ মিনিট যদি নিয়মিতভাবে কাজে লাগানো হয়, তাহলে কয়েক মাস বা এক বছরে তা অনেক ঘণ্টায় পরিণত হয় । একইভাবে, প্রতিদিন মাত্র দুই পৃষ্ঠা করে পড়লেও এক বছরে শত শত পৃষ্ঠা পড়া হয়ে যায়।
বড় সাফল্যের জন্য সবসময় একসঙ্গে অনেক কিছু করতে হয় না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে নিয়মিত চেষ্টা করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বড় অর্জনে পরিণত হতে পারে। তাই ভালো কোনো কাজ শুরু করার জন্য ‘পরে করব’ না ভেবে আজ থেকেই শুরু করা উচিত।
তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শক্তি ও সামর্থ্য কমে যায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, মানুষকে দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করার পর শক্তি দেন, আবার শক্তির পর দুর্বলতা ও বার্ধক্য আসে। তাই শক্তি ও সুযোগ থাকা অবস্থাতেই সময়ের সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।
পবিত্র কুরআনে সময়ের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আসরে সময়ের শপথ করেছেন। এছাড়া দিন, রাত, সকাল ও ভোরের শপথের মাধ্যমেও মানুষকে সময়ের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর হাদিস উদৃত করে তিনি বলেন, “যা তোমার উপকারে আসে, তার প্রতি আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অসহায় হয়ে বসে থেকো না।”
তিনি আরও বলেন, অলসতা মানুষের শুধু সময়ই নষ্ট করে না, জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও কেড়ে নেয়। তাই দিনকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো, সময়কে রক্ষা করা এবং ভালো কাজ দ্রুত শুরু করা উচিত।
খুতবার শেষাংশে মুসলিম কমিউনিটিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে মুসলমানদের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলিয়ে পরে সেসব বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে ব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে ইসলাম ও মুসলমানদের ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।
তিনি কমিউনিটির সদস্যদের এ ধরনের ব্যক্তিদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আলোচনায় না জড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, মসজিদ প্রাঙ্গণে এমন কিছু ঘটলে দায়িত্বশীল স্টাফদের দ্রুত জানানো উচিত।
সবশেষে শায়খ মুস্তফা আবদুল্লাহ দোয়া করেন, আল্লাহ যেন আমাদের সময়ের মধ্যে বরকত দান করেন, অলসতা ও উদাসীনতা থেকে রক্ষা করেন এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কল্যাণকর কাজে ব্যয় করার তাওফিক দেন।
(শায়খ মোস্তফা আবদুল্লাহ : অতিথি খাতিব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা, ২৮ আগস্ট ২০২৬। )