শ্রীমঙ্গলে কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বিষধর শঙ্খিনী উদ্ধার
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮ নং কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতর থেকে একটি বিষধর শঙ্খিনী (ব্যান্ডেড ক্রেইট) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটি অক্ষত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার ৮ নম্বর কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালে শ্রমিকেরা হঠাৎ সাপটি দেখতে পান। এতে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
পরে শ্রমিকেরা বিষয়টি পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. কালাম মিয়াকে জানান। তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দিলে সংস্থাটির পরিচালক সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি শনাক্ত করেন। তাঁরা জানান, এটি শঙ্খিনী বা ব্যান্ডেড ক্রেইট (Banded Krait) প্রজাতির একটি অত্যন্ত বিষধর সাপ।
সাপটির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এ সময় সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাঁদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়। পরে সাপটিকে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সাপসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হচ্ছে। লেক, হাওর, পাহাড়-টিলা, ঝোপঝাড়, বনাঞ্চল ও চা-বাগানবেষ্টিত শ্রীমঙ্গলের পাশে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তবে বনভূমি সংকুচিত হওয়া, জনবসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠার কারণে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস কমে যাচ্ছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে অনেক প্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা মানুষের হাতে ধরা পড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
সংস্থাটির দাবি, গত দুই দশকে তারা প্রায় দুই হাজারের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করেছে।



















