সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
তুমুল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আগামী সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন এবং একই সঙ্গে তার পদত্যাগের চূড়ান্ত সময়সূচিও ঘোষণা করতে পারেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার।
অবজারভারের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় নেতা, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও দাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে স্টারমার বুঝতে পেরেছেন যে তার পক্ষে আর নেতৃত্ব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে স্টারমার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। সপ্তাহ শেষে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করছেন। তবে লেবার পার্টির অনেক নেতাই মনে করছেন, সোমবারই এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিতে পারেন।
এদিকে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সাবেক মন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য এখন তার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি, ৪০০-এর বেশি আসনের লেবার পার্টির মধ্যে ২০১ জনেরও বেশি এমপি তার পক্ষে রয়েছেন। ফলে স্টারমারের নেতৃত্ব এখন আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, লেবার পার্টিকে নতুন নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে হলে দ্রুত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, বার্নহ্যামই বর্তমানে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।
তবে স্টারমারের কার্যালয় থেকে এসব খবরকে এখনো ‘জল্পনা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেও স্টারমার বলেছিলেন, তিনি এখনও দলের নেতৃত্বে থাকতে চান এবং তার ‘আরও অনেক কাজ বাকি’।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির অন্যতম বড় সমর্থক শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটের প্রধান শ্যারন গ্রাহাম বলেছেন, স্টারমারের সরে দাঁড়ানো উচিত এবং দলের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।



















