img

আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মে রেজুয়ান আহম্মেদের বই: ১১ দেশে একযোগে সংস্করণ

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ১৭ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২২, ১৭ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মে রেজুয়ান আহম্মেদের বই: ১১ দেশে একযোগে সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবাদক: একসময় আন্তর্জাতিক পাঠকের হাতে একটি বাংলা বই পৌঁছে দেওয়া ছিল দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত এক প্রক্রিয়া। বিদেশি প্রকাশকের অনীহা, আন্তর্জাতিক পরিবেশকদের জটিলতা, মুদ্রণব্যয় ও বিপণনের কঠিন বাধা পেরিয়ে তবেই কোনো লেখকের সৃষ্টি সীমান্ত অতিক্রম করতে পারত। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই পুরোনো বাস্তবতা আজ অতীত। ডিজিটাল প্রকাশনা ও ‘প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড’ (চাহিদামাফিক মুদ্রণ) ব্যবস্থার কল্যাণে একটি বই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অনায়াসেই পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে।

এই যুগান্তকারী রূপান্তরকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের আসন সুসংহত করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট রেজুয়ান আহম্মেদ। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই তাঁর প্রকাশিত বইগুলো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত। বর্তমানে তাঁর ৬টি ইংরেজি ও ৯টি বাংলা গ্রন্থ বিশ্বের কমপক্ষে ১১টি দেশে হার্ডকভার, পেপারব্যাক ও ই-বুক সংস্করণে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এটি কেবল একজন লেখকের ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়; বরং ডিজিটাল প্রকাশনা কীভাবে এ দেশের প্রতিভাবান লেখকদের জন্য বিশ্বদুয়ার উন্মোচন করতে পারে, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আন্তর্জাতিক বাজারে সরব উপস্থিতি

বিশ্বজুড়ে বই প্রকাশ ও বিতরণের সনাতন প্রক্রিয়া গত এক দশকে আমূল বদলে গেছে। প্রথাগত প্রকাশনা সংস্থার মুখাপেক্ষী না হয়ে লেখকেরা এখন সরাসরি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের সৃষ্টিকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যাচ্ছেন। ‘অ্যামাজন কেডিপি’ (Amazon Kindle Direct Publishing) এই নীরব বিপ্লবের অন্যতম চালিকা শক্তি। বই একবার এই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হলে তা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মুদ্রণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠকের চাহিদামাত্র মুদ্রিত হয়। ফলে পাঠককে দূরদেশ থেকে বই আমদানির জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হয় না, আবার লেখকেরও বড় অঙ্কের আগাম মুদ্রণব্যয়ের ঝুঁকি থাকে না।

এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ছায়ায় রেজুয়ান আহম্মেদের বইগুলোও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পাঠকদের বুকশেলফে জায়গা করে নিয়েছে। কেবল অ্যামাজনই নয়, তাঁর বইগুলো ওয়ালমার্ট, বুকটোপিয়া, রাকুটেন কোবো, রাকুটেন বুকস ও ফনাকের (Fnac) মতো নামী বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোতেও সগৌরবে লভ্য। এই ডিজিটাল বিপণন মডেল একদিকে যেমন বিদেশি পাঠকদের কাছে তাঁর সাহিত্যিক ভাবনা তুলে ধরছে, অন্যদিকে প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাঙালি প্রজন্মের জন্য মাতৃভাষার বই সংগ্রহকে সহজ করে তুলেছে।

দুই ভাষায় সমান্তরাল সাহিত্যচর্চা ও মানবিক আখ্যান

রেজুয়ান আহম্মেদের কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ দিক হলো বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় সমান্তরালভাবে লেখনী পরিচালনা। বাংলায় তিনি যখন সমাজ, মনস্তত্ত্ব, যাপিত জীবন ও মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন নিয়ে কাজ করেন, ঠিক তখনই ইংরেজিতে তিনি বুনে চলেন যুদ্ধ, মানবিক সংকট, দর্শন, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ও শাশ্বত মূল্যবোধের গল্প।

তাঁর ইংরেজি উপন্যাসগুলোর মূল সুর হলো—যুদ্ধকে সামরিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে না দেখে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতার আলোয় পর্যবেক্ষণ করা।

The Shadow of War: ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের পটভূমি থাকলেও এর কেন্দ্রবিন্দু কোনো যুদ্ধবিগ্রহ নয়; বরং যুদ্ধের করাল গ্রাসে পিষ্ট সাধারণ মানুষের পরিবার, বিচ্ছেদ, অনিশ্চয়তা, ভয় এবং একবুক শান্তির আকুতি।

The Days of Gaza: যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদের ক্ষতবিক্ষত জীবন, টিকে থাকার আদিম সংগ্রাম এবং চরম মানবিক সংকটকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গ্রন্থে।

Death Break: বিজ্ঞানকল্পকাহিনির আবহে জীবন, মৃত্যু ও মানবচেতনার গভীর দার্শনিক প্রশ্নগুলোকে নাড়া দেয় এই উপন্যাস।

Love of the Forest Bird: প্রকৃতি, প্রেম এবং মানুষের অন্তরের গহীন সুকুমার অনুভূতিগুলোকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে এর গল্পপট।

ভিন্ন ভিন্ন পটভূমিতে রচিত হলেও প্রতিটি বইয়ের মূল সুর এক জায়গায় এসে মিলেছে—তা হলো মানুষের অভিজ্ঞতা, সহমর্মিতা ও সুদৃঢ় আশাবাদ।

শেকড়ের গল্প, মানুষের গল্প: বাংলা সাহিত্যে রেজুয়ান আহম্মেদের পথচলা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইংরেজি লেখার পাশাপাশি রেজুয়ান আহম্মেদের কথাসাহিত্যের এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর বাংলা ভাষার গ্রন্থসমূহ। বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যে ভরপুর এই সৃষ্টিগুলোর মূল উপজীব্য হলো মানুষ এবং তার যাপিত জীবনের টানাপোড়েন। গ্রাম থেকে শহর, মধ্যবিত্তের টানাপোড়েন থেকে প্রান্তিক মানুষের টিকে থাকার লড়াই—সবকিছুই তিনি ফুটিয়ে তোলেন গভীর মমতায়। বড় কোনো ঘটনার চেয়ে ছোট ছোট মানবিক মুহূর্তগুলোকে তিনি যেভাবে তুলে ধরেন, তাতে প্রতিটি চরিত্র বাস্তব মানুষের খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়।

শব্দে তুমি: এটি মূলত সম্পর্ক, নীরবতা ও না-বলা অনুভূতির এক মনস্তাত্ত্বিক রূপায়ণ। এখানে ভাষা কেবল যোগাযোগের অনুষঙ্গ নয়, বরং চরিত্রের ভেতরের নিঃসঙ্গতা ও ভালোবাসার এক অপ্রকাশিত রূপ।

মায়াবী মুহূর্ত ও অভাগী: সামাজিক বাস্তবতা, নারীর অধিকার ও সংগ্রাম এবং মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের জীবনের স্বপ্নভঙ্গের মুহূর্তগুলোকে সহজ অথচ গভীর গদ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।

সন্দেহের ছায়া ও শঙ্খের শপথ: মানব মনের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল, পারিবারিক সংকট ও নৈতিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস দুটি।

একমুঠো গল্প ও আলোকছায়া: প্রাত্যহিক জীবনের ধূলিমলিন ক্যানভাস থেকে কুড়িয়ে নেওয়া ছোটগল্পের এমন দুটি সংকলন, যা পাঠককে নিজের জীবনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

গাজার দিনগুলো: বৈশ্বিক মানবিক সংকটকে বাংলাভাষী পাঠকদের সংবেদনশীল হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার এক সার্থক অনুবাদ বা রূপান্তর।

স্বপ্নের চাকরি: চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য জীবনসংগ্রামের নানা ব্যবহারিক পরামর্শ ও অনুপ্রেরণাদায়ী এক অনন্য দিকনির্দেশক গ্রন্থ।

সাহিত্য ও সাংবাদিকতার যুগলবন্দী: তিন দশকের নিরলস যাত্রা

রেজুয়ান আহম্মেদের পেশাগত পরিচয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সাংবাদিকতা। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে তিনি অর্থনীতি, পুঁজিবাজার, ব্যবসা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখে আসছেন। বর্তমানে তিনি অর্থনীতি ও বাণিজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘অর্থনীতি.কম’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাংবাদিকতার এই অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যিক চেতনাকে আরও শাণিত করেছে। বাস্তব ঘটনার নির্মোহ পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মানুষের জীবনের ওপর অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রত্যক্ষ প্রভাব তাঁর প্রতিটি গল্প ও উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর গল্পের কোনো চরিত্রের ব্যক্তিগত সংকট কখনো কেবল ব্যক্তিগত স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় সমাজ, অর্থনীতি ও বৈষম্যের মতো বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে।

১৯৯৬ সালে লেখালেখির জগতে পা রাখার পর থেকে আজ অবধি তিনি একনিষ্ঠভাবে সাহিত্যসাধনা করে চলেছেন। কাগজের বইয়ের নস্টালজিয়া পেরিয়ে ই-বুক এবং আন্তর্জাতিক প্রিন্ট-অন-ডিমান্ডের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে চমৎকারভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই নিরলস সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির চেয়েও লেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলাকেই তিনি পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন।

সীমান্তহীন আগামী: বিশ্বের পাঠকের কাছে বাংলা সাহিত্যের নতুন সম্ভাবনা

ডিজিটাল প্রকাশনা বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রকে একসূত্রে বেঁধে দিয়েছে। আজ একজন লেখক নিজের পড়ার ঘরে বসেই বৈশ্বিক পাঠকের দরবারে কড়া নাড়তে পারেন। এই যুগান্তকারী পরিবর্তন বাংলা সাহিত্যের সামনেও এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, বহুভাষিক সংস্করণ এবং বৈশ্বিক অনলাইন বাজারের কল্যাণে বাংলা সাহিত্য এখন আরও বড় ক্যানভাসে ডানা মেলার সুযোগ পাচ্ছে।

রেজুয়ান আহম্মেদ মনে করেন, প্রযুক্তি হয়তো লেখকের পথকে সহজ করতে পারে, কিন্তু পাঠকের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো লেখার গুণগত মান। তাই নিয়মিত সাহিত্যচর্চা, নিবিড় গবেষণা এবং নিত্যনতুন বিষয় নিয়ে কাজ করাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের সাহিত্যভুবন আজ এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ভৌগোলিক দূরত্ব কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। রেজুয়ান আহম্মেদের প্রকাশিত বইগুলোর বৈশ্বিক সংস্করণ সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই এক উজ্জ্বল দর্পণ। তাঁর এই দ্বিভাষিক সৃজনশীল যাত্রা দেখায় যে, নিষ্ঠা, প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রকাশনা ব্যবস্থার সুষ্ঠু সমন্বয়ে বাংলাদেশের সাহিত্যও বিশ্বমঞ্চে স্বমহিমায় ভাস্বর হতে পারে।

সময়ের স্রোতে কোন বই স্থায়ী জায়গা করে নেবে, তা হয়তো মহাকালই নির্ধারণ করবে। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, প্রযুক্তির এই নতুন অধ্যায় বাংলা ভাষার লেখকদের জন্য বিশ্বদরজার অর্গল খুলে দিয়েছে; আর সেই খোলা দুয়ার দিয়ে রেজুয়ান আহম্মেদের কলমের শব্দমালা সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের কোটি পাঠকের অন্তরে।

img

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

প্রকাশিত :  ১২:৩৪, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্যে তার সাহসী ও নতুন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

অ্যান কার্সন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ক্লাসিকস বিষয়ে ‘ওদি এত আমো এরগো সুম’ নামে ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন। এই ল্যাটিন বাক্যাংশটির শাব্দিক অর্থ, ‘আমি ঘৃণা করি এবং আমি ভালোবাসি, সুতরাং আমি আছি’।

তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বই অনুবাদ করেছেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অ্যান কার্সনের বেশিরভাগ সাহিত্যকর্মে ভাষা ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে। নতুন অর্থ ও ভাবনা তৈরির জন্য তিনি শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। তার অনেক লেখার শুরুই শব্দের ব্যুৎপত্তি থেকে।

অ্যান কার্সন তার পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এর একটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট রচনা রয়েছে। এগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।

এ ছাড়া দৃশ্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে অ্যান কার্সনের যৌথ কাজ তার ভিন্নধর্মী চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তিনি প্রচলিত সাহিত্যিক নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’তেও কার্সনের এই বৈচিত্র্যময় লেখার ধরন দেখা যায়। বইটিতে বিভিন্ন ধরনের রচনা রয়েছে এবং এতে অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার উপাদানও রয়েছে। একই সঙ্গে সাহিত্য, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের নানা বিষয় তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে তার করা অনুবাদগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে কাজ এবং ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইফ নট, উইন্টার’ উল্লেখযোগ্য। তিনি গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগোন’ এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্কাই’ নাটকও অনুবাদ করেছেন। এসব অনুবাদ যথাক্রমে ২০০১ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ কাব্যগ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’। এই দীর্ঘ কবিতায় কবিতা, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সাহিত্যধারার মিশেল দেখা যায়। এর মাধ্যমে কার্সন দীর্ঘ কবিতার একটি নতুন ধরনের রূপ তুলে ধরেছেন, যেখানে বিভিন্ন সাহিত্যধারার সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : আ নভেল ইন ভার্স’। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে তার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হয়। বইটিতে কার্সন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক জীবন ও ভাষার সঙ্গে মিলিয়েছেন। এর মূল চরিত্র গেরিয়ন—ডানাওয়ালা এক লাল দানব।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গ্রিক কবি স্টেসিখোরোসের গেরিয়নকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার খণ্ডাংশ থেকেই কার্সন এই বইয়ের ভাবনা নিয়েছেন। প্রাচীন এই গল্পকে আধুনিক ভাষা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্সন বইটিতে একটি নতুন ধরনের সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছেন।