img

বড়লেখায় নারীর নেতৃত্বে পরিবেশবান্ধব চক্ষু সেবাকেন্দ্রের উদ্বোধন

প্রকাশিত :  ১৪:৫১, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

বড়লেখায় নারীর নেতৃত্বে পরিবেশবান্ধব চক্ষু সেবাকেন্দ্রের উদ্বোধন

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য চালু হয়েছে নারীর নেতৃত্বে পরিচালিত পরিবেশবান্ধব চক্ষু সেবাকেন্দ্র—‘বড়লেখা উইমেন-লেড গ্রিন ভিশন সেন্টার’। বিশেষ করে হতদরিদ্র নারীদের কাছে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দাতা সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এই সেবাকেন্দ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য ব্লাইন্ড (বিএনএসবি), মৌলভীবাজারের সভাপতি তৌহিদুজ্জামান পাভেল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম মাহবুব, বিএনএসবি মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক ডা. ছাদিক আহমদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মাহবুব। অরবিস ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া অরবিস হংকং থেকে আসা একটি ছাত্র প্রতিনিধি দলও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বড়লেখা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ অর্থনৈতিক সংকট, দূরত্ব ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগের কারণে সময়মতো চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে সহজে ও স্বল্প খরচে চক্ষু সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন এই কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেন্দ্রটির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, নিজেদের এলাকার কাছাকাছি থেকেই চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁরা ওষুধ ও চশমা পাবেন। জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে।

নারীর নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ায় কেন্দ্রটি চক্ষু সেবায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার কেন্দ্রটির পরিচালনাকে করেছে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই। প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার এই সমন্বিত উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বড়লেখা উইমেন-লেড গ্রিন ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে উপজেলার প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু সেবা আরও সহজলভ্য হবে। বিশেষ করে নারীদের চোখের সমস্যা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার আওতা বাড়বে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নারীর নেতৃত্ব, মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা আর সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সমন্বয়ে বড়লেখার এই চক্ষু সেবাকেন্দ্র তাই শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়; প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৮:৫৪, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোররাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার বিরাহিমপুর জোড়াপুলসংলগ্ন একটি গলিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রাসেল মিয়া (২৬), বানিয়াচং উপজেলার সোহেল মিয়া (২৩), শ্রীমঙ্গল উপজেলার জুয়েল মিয়া (২৮) ও রাসেল আহমেদ (৩০)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রাইভেটকারে করে কয়েকজন ব্যক্তি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ। পরে এসআই দীপংকর হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিরাহিমপুর জোড়াপুলসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও প্রাইভেটকারে থাকা চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পরে তাঁদের তল্লাশি করে একটি সুইস গিয়ার চাকু, একটি ধারালো চাকু, একটি লোহার শাবল ও দুটি স্ক্রু-ড্রাইভার উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জাম ডাকাতির কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-১৭৯৫ নম্বরের একটি টয়োটা এলিয়ন প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের আন্তজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় পেনাল কোডের ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর