img

‘তৌহিদী জনতা’র বাধা উপক্ষো করে বিয়ানীবাজারে জমজমাট নৌকাবাইচ

প্রকাশিত :  ১৫:২৭, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

 ‘তৌহিদী জনতা’র বাধা উপক্ষো করে বিয়ানীবাজারে জমজমাট নৌকাবাইচ

সিলেটের বিয়ানীবাজারে আপত্তি আর বাধা উপক্ষো করে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

বাইচ দেখতে দুপুর থেকেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নদীর দুই তীরে ভীড় করেন। বাইচ শেষে সন্ধ্যায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

জানা গেছে, লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তবে এবার বাইচ আয়োজনে আপত্তি জানায় স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’।

‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে। এছাড়া বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি করে তারা।

এরপর ২২ আগস্ট দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৈঠক শেষে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর যথাসময়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারা আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করবে না।

তবে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। বাধার কারণে এ আয়োজনটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। ফলে দুর দূরান্ত থেকেও অনেকে এই বাইচ দেখতে জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ানবাজার থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী তীরবর্তী এলাকায় নিয়োজিত ছিল।

বিকেলে নানা রঙ বেরঙে সজ্জিত নৌকা দিয়ে বাইচ শুরু হয়। বাইচে ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’ এমন বাহারি নামের নৌকা অংশ নেয়। ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ এমন নানা গান গেয়ে গেছে মাঝিমাল্লারা বাইচকে আরও জমিয়ে তুলেন।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাধা সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর বাইচ দেখতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আগামীতে বাইচ হবে কী না তা স্থানীয় জনতাই সিদ্ধান্ত নেবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

‘চাঁদা না পেয়ে’ আমেরিকা প্রবাসীর ঘর নির্মাণের যুবদল নেতার বাধার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ০৫:২০, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

হবিগঞ্জ আমেরিকা প্রবাসীর ঘর নির্মানে বাধা প্রদানের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযু্ক্ত যুবদল নেতার নাম শামসুল ইসলাম কামাল। গত ১৬ আগস্ট সকালে হবিগঞ্জের পশ্চিমবাজারাস্থ এলাকায় প্রবাসীর ঘর নির্মাণে তিনি বাধা দেন বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার ( ২৭ আগস্ট) একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন আমেরিকা প্রবাসীর পূত্র সানি আলম শ্রাবন (১৮)। অভিযােগে প্রধান অভিযুক্ত করেছেন ধর্মঘর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃত মো: হাফিজ উদ্দিনের পূত্র ও মাদবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: শামসুল ইসলাম কামালকে(৫৮)।

এছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন, মালঞ্চপুর গ্রামের মৃত সালেহ আহমদের পূত্র মো: ইমরান আহমেদ (৪০), আলীনগর গ্রামের মৃত মতিউর রহমান মাষ্টারের পূত্র মো: আশিকুর রহমান ওরফে মামুন মেম্বার (৪৫), একই গ্রামের মৃত একরাম হোসেনের পূত্র কুদ্দুছ মিয়া (৩০) ও কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার পূত্র মো: শাহ আলম (৫২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে রয়েছেন ১০/১২ জন।

স্থানীয় থানা পুলিশকে অভিযোগটি সিআরপিসির ১৫৬(৩) ধারা অনুসারে এফআইআর হিসেবে গণ্যের আদেশ দিয়েছেন হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহেদুল আলম।

আদেশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে এফআইআর হিসেবে করত: বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশও প্রদান করেছেন আদালত।

এ ব্যপারে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ৩ দিনের মধ্যে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্যের সময়সীমা দেয়া হয়েছে। তাই পুলিশ যথাসময়ে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ গ্রহণ করবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর আলম। সম্প্রতি জমি কিনে বাড়ি তৈরীর প্রস্তুতি নেন তিনি। তার অবর্তমানে সেই কাজের দায়িত্ব নেন ছেলে সানি আলম শ্রাবন। তবে যুবদল নেতা মো: শামছুল ইসলাম কামাল আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর আলমের সাথে যোগাযোগ করে বাড়ি নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে চাঁদা না দেওয়ায় ৫ সহযোগীকে নিয়ে শামসুল ইসলাম ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। এসময় শামসুল ইসলাম ও তার লোকজন মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর