img

সিলেটে মোটরসাইকেল ‘চুরি করতে গিয়ে’ জনতার হাতে পুলিশ সদস্য আটক

প্রকাশিত :  ০৫:১৬, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

 সিলেটে মোটরসাইকেল ‘চুরি করতে গিয়ে’ জনতার হাতে পুলিশ সদস্য আটক

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মুরসালিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় জনতা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী যুবক মছকাপুর গ্রামের মাজেদ আহমদের দাবি, তার মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন মুরসালিন। মোটরসাইকেল দেখার পর সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সন্দেহ হয়। পরে তারা পিছু নিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। পরে তাকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে পুলিশ সদস্য মুরসালিনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালিয়ে দেখার সময় স্থানীয়রা তাকে ভুল বুঝে চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন।

ঘটনার সময় মুরসালিনের সঙ্গে ওলিউর ইসলাম নামেরও একজন নিজেকে তার দাদা পরিচয় দেন। তিনি জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল কিনবে বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন। পরে মুরসালিন মোটরসাইকেল দেখার কথা বলে তাকে রেখে চলে যান। এ সময় স্থানীয়রা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ভয়ে মুরসালিনকে চেনেন না বলে জানান। এদিকে ঘটনার পর মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার পর তাদের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন মিলে তার পিছু নিয়ে তাকে আটক করেন। তখন তিনি পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, মুরসালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির বলেন, মুরসালিন এ মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়িতে যান। এরপর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দেননি।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছবেদ আলী বলেন, মুরসালিন নামের ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার জন্য হেতিমগঞ্জ বাজারে এসেছিলেন। মোটরসাইকেল ট্রায়াল দেওয়ার সময় সাধারণ মানুষ তাকে চোর সন্দেহে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখছি। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলাম নিজেকে তার দাদা পরিচয় দিলেও তার আচরণ স্বাভাবিক নয়। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

‘চাঁদা না পেয়ে’ আমেরিকা প্রবাসীর ঘর নির্মাণের যুবদল নেতার বাধার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ০৫:২০, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

হবিগঞ্জ আমেরিকা প্রবাসীর ঘর নির্মানে বাধা প্রদানের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযু্ক্ত যুবদল নেতার নাম শামসুল ইসলাম কামাল। গত ১৬ আগস্ট সকালে হবিগঞ্জের পশ্চিমবাজারাস্থ এলাকায় প্রবাসীর ঘর নির্মাণে তিনি বাধা দেন বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার ( ২৭ আগস্ট) একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন আমেরিকা প্রবাসীর পূত্র সানি আলম শ্রাবন (১৮)। অভিযােগে প্রধান অভিযুক্ত করেছেন ধর্মঘর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃত মো: হাফিজ উদ্দিনের পূত্র ও মাদবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: শামসুল ইসলাম কামালকে(৫৮)।

এছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন, মালঞ্চপুর গ্রামের মৃত সালেহ আহমদের পূত্র মো: ইমরান আহমেদ (৪০), আলীনগর গ্রামের মৃত মতিউর রহমান মাষ্টারের পূত্র মো: আশিকুর রহমান ওরফে মামুন মেম্বার (৪৫), একই গ্রামের মৃত একরাম হোসেনের পূত্র কুদ্দুছ মিয়া (৩০) ও কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার পূত্র মো: শাহ আলম (৫২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে রয়েছেন ১০/১২ জন।

স্থানীয় থানা পুলিশকে অভিযোগটি সিআরপিসির ১৫৬(৩) ধারা অনুসারে এফআইআর হিসেবে গণ্যের আদেশ দিয়েছেন হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহেদুল আলম।

আদেশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে এফআইআর হিসেবে করত: বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশও প্রদান করেছেন আদালত।

এ ব্যপারে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ৩ দিনের মধ্যে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্যের সময়সীমা দেয়া হয়েছে। তাই পুলিশ যথাসময়ে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ গ্রহণ করবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর আলম। সম্প্রতি জমি কিনে বাড়ি তৈরীর প্রস্তুতি নেন তিনি। তার অবর্তমানে সেই কাজের দায়িত্ব নেন ছেলে সানি আলম শ্রাবন। তবে যুবদল নেতা মো: শামছুল ইসলাম কামাল আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর আলমের সাথে যোগাযোগ করে বাড়ি নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে চাঁদা না দেওয়ায় ৫ সহযোগীকে নিয়ে শামসুল ইসলাম ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। এসময় শামসুল ইসলাম ও তার লোকজন মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর