img

বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৫:২৫, ৩০ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৫১, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
বাহুবল উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রসারে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকা-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টায় ঢাকার ৪৮, নয়াপল্টনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব পারভেজ চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।
সভায় বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন, গঠনতন্ত্র সংশোধন, ব্যাংক হিসাব, সদস্য সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাহী কমিটির নির্বাচন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন ঢাকা-এর সাধারণ সম্পাদক ড. সৈয়দ শাহ এমরান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক লায়ন প্রমোদ পাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. নাজমুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহ আলম কবির, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নেওয়াজ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক শাহ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ কামরুল হোসেন ও নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বাহুবল উপজেলার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রসার এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আগামী ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সংগঠনের নির্বাচন ও বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের লক্ষ্যে দুটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটি
আহ্বায়ক: পারভেজ চৌধুরী
সদস্য সচিব: ড. নাজমুল ইসলাম
সদস্য: শাহ আলম কবির, মোহাম্মদ কামরুল হোসেন ও সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ।

সদস্য সংগ্রহ উপ-কমিটি
আহ্বায়ক: শাহ আলম কবির
সদস্য সচিব: নেওয়াজ চৌধুরী
সদস্য: শাহ আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ কামরুল হোসেন ও আব্দুর রব।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে যারা সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ করবেন, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সংগঠনের নির্বাচন ও সাধারণ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া আগামী ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনসহ নির্বাচন সংক্রান্ত সকল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জনাব পারভেজ চৌধুরী ও জাকির হোসেনের আজীবন সদস্যপদের আবেদন অনুমোদন করা হয়।
সভা শুরুর আগে অর্থ সম্পাদক লায়ন প্রমোদ পাল-এর সৌজন্যে উপস্থিত সদস্যদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

এদিকে, ঢাকায় বসবাসকারী বাহুবল উপজেলার আগ্রহী ব্যক্তিদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার সদস্যপদ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের আজীবন সদস্য ফি ৩,১০০ টাকা এবং সাধারণ সদস্য ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনের যেকোনো নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে সদস্যপদের জন্য আবেদন করা যাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ১০

প্রকাশিত :  ০৭:৫৫, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে লেবার হাউসের সড়কে আন্দোলনকারীদের উপর চা শ্রমিক নেতাদের হামলার অভিযোগ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মধ্যে দুই থেকে তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধন শেষে লেবার হাউসের দিকে র‍্যালি নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানি কানু অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রথমে র‍্যালি নিয়ে ডিডিএল ও ইউএনও অফিসের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। এমনকি এই বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। পরে চা শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের সামনে দিয়ে র‍্যালী করে সড়কের বিপরীত পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, তারা আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর শুরু করে। এটি প্রথমবার নয়, দ্বিতীয়বারের মতো তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে।

গীতা রানি কানু আরও বলেন, চা শ্রমিকদের মজুরি দাবি করা যদি আমাদের অপরাধ হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে চা শ্রমিক নেতা আকাশ দোষাদ বলেন, তাঁরা বিভিন্ন চা বাগানে প্রচারণা চালিয়ে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনার সামনে বড় মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। কর্মসূচি শেষে তাঁরা র‍্যালি নিয়ে লেবার হাউসের সামনে যান। রাস্তা পার হয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে আবার ফেরার সময় পরেশ কালিন্দি, বিজয় হাজরাসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

আকাশ দোষাদ বলেন, তারা আমাদের ধরে লেবার হাউসের গেটের সামনে নিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনার যথেষ্ট ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে পুলিশ অবস্থান করলেও আমাদের কেউ বাচায় নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে চা শ্রমিক নেতা দুলাল হাজরা তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী ও নেতা সুবাস রবিদাস আন্দোলনকারীদের ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের গেইটে নিয়ে আসেন। এরপর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা, সুমন হাজরা ও সুমন তাঁতীসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীদের ধরে মারধর শুরু করেন।

তিনি দাবি করেন, হামলায় তাঁদের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জনকলাল দেশোয়ারা, রাধামোহন নুনিয়া, গীতা রানী কানুকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবি করায় মালিকপক্ষের দালাল চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের একটি অংশ তাঁদের ওপর হামলা করেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পরেশ কালিন্দি দাবি করেন, মানববন্ধন শেষে একটি পক্ষ লেবার হাউসের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও গালাগাল করে। ওই সময় তাঁরা ভবনের ওপরের তলায় একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। পরে ওই পক্ষ নিচে নেমে বাইরে আসার সময় রাস্তা পার হয়ে চলে যায়।

পরেশ কালিন্দির দাবি, অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের পর তাঁদের লোকজন ধাওয়া দিলে ওই পক্ষ পালিয়ে যায়। পুলিশের সামনে কাউকে ধরে এনে মারধরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

ব্যানার ছেঁড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই পক্ষ রাস্তার ওপারে যাওয়ার সময় তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এরপর তাঁর লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করে বাইরে বের হন। তবে অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন চা শ্রমিক নেতা আন্দোলনকারীদের ধরে ধরে মারধর করছেন। ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। বরং কর্মসূচি শেষে তাঁদের রাস্তার ওপারে চলে যেতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, চা শ্রমিক নেতাদের কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে আন্দোলনকারীদের ধরে ফেলেন। এ সময় তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা যায়। ঘটনাটি পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটেছে বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গীতা রানী কানুসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তাঁরা লেবার অফিসের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল দল রয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর