img

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোয় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের দুই দূত

প্রকাশিত :  ১৪:৫০, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোয় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের দুই দূত

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার মস্কোয় পৌঁছেছেন। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

মস্কো বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। পরে তারা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, উইটকফ ও কুশনার যুদ্ধ বন্ধের একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন উদ্যোগে শান্তি আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

মস্কো সফরের পর রোববার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে দুই মার্কিন দূতের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন। এটি কুশনার ও উইটকফের প্রথম কিয়েভ সফর হতে যাচ্ছে।

এদিকে দুই দূতের সফরের আগে কিয়েভের দুটি বিমানবন্দরে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। একই সময়ে রাশিয়া জানিয়েছে, মার্কিন দূতদের কিয়েভ সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার মধ্যরাত থেকে তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন।

তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি করছে। ইউক্রেন এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরস্পরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে নতুন মার্কিন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নতুন বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকা বড়, ইউরোপ ছোট

প্রকাশিত :  ০৬:৩৪, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বইয়ের পাতা, শ্রেণিকক্ষের দেয়াল কিংবা গুগল ম্যাপে বিশ্ব মানচিত্র দেখলে পৃথিবীকে আমরা যেভাবে দেখি, বাস্তবে তা তেমন নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে যে আয়তনে দেখানো হয়, প্রকৃতপক্ষে এর আয়তন তার চেয়ে অনেক বেশি।

সাড়ে চারশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বৈশ্বিক ভৌগোলিক ভুল ও ঐতিহাসিক বিকৃতি সংশোধনে এবার পদক্ষেপ নিয়েছে জাতিসংঘ। বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে একটি নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে প্রস্তাব পাস হয়েছে।

‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ বা ‘মানচিত্র সংশোধন করো’ শীর্ষক এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪ ভোটে পাস হয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। 

আফ্রিকার দেশ টোগোর নেতৃত্বে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং বাহামাস প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। এর লক্ষ্য হলো, প্রচলিত মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশের আয়তন নিয়ে যে ভারসাম্যহীন উপস্থাপন রয়েছে, তা সংশোধন করে একটি ন্যায্য এবং সঠিক বিশ্ব মানচিত্র নিশ্চিত করা। যদিও জাতিসংঘের এই প্রস্তাব কোনো দেশের জন্য আইনত বাধ্যতামূলক নয়। তবে এর ফলে বিশ্বজুড়ে মানচিত্র প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ব্যবহৃত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানচিত্রগুলোর একটি হলো ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রকার জেরার্ডাস মারকেটরের তৈরি ‘মারকেটর প্রজেকশন’। সমুদ্রপথে নেভিগেশনের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও পুরো পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে দেখানোর কারণে এতে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনে বড় ধরনের বিকৃতি দেখা যায়। এতে বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলগুলো তুলনামূলক ছোট এবং মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলগুলো অনেক বড় দেখায়। ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি মনে হয়। বিপরীতে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার মতো অঞ্চল ছোট দেখায়। 

উদাহরণ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের প্রকৃত আয়তন মাত্র ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও সাধারণ মানচিত্রে এটিকে প্রায় ৩০৪ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আফ্রিকার সমান দেখায়। অথচ আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। 

এই বিকৃতি দূর করতে ২০১৮ সালে এক দল মানচিত্রবিদ ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে নতুন একটি মানচিত্র প্রজেকশন তৈরি করেন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক অনুপাত অনেক বেশি সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়। নতুন এই মানচিত্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। 

মানচিত্র বদলে প্রতিক্রিয়া 

জাতিসংঘে ভোটাভুটির আগে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে বলেন, ‘একটি ন্যায্য পৃথিবী শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্রের মাধ্যমে। মানচিত্র কখনোই নিরপেক্ষ নয়, এটি মানুষের মানসিকতা তৈরি করে।’ 

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক জাতিসংঘের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মানচিত্র পরিবর্তনের এই লড়াই কেবল ভূগোলের নয়; এটি মনস্তাত্ত্বিক আভিজাত্য ভাঙার লড়াই। কেনিয়ার ভূগোলবিদ কিওকো মুয়েন্দো উল্লেখ করেন, মানচিত্র শুধু পর্যটকদের গাইড নয়, এটি রাজনীতি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। নতুন মানচিত্র বিশ্বদরবারে আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশাল জনসংখ্যা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর