img

৪৩৪১ হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেবে সরকার

প্রকাশিত :  ০৯:৫৫, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪৩৪১ হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেবে সরকার

সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি বছর হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেবে সরকার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ।

ধর্মমন্ত্রী জানান, হজে বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদ ব্যয় কম হওয়ায় প্যাকেজের অর্থ থেকে এই টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী প্রত্যেক হাজি যে পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন, তা ভিন্ন হবে।

হজ প্যাকেজ-১-এর আওতায় হোটেল বুলুরা আল দুররার সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।

একই প্যাকেজে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা করে পাবেন।

হজ প্যাকেজ-২-এর আওতায় ২ নম্বর বাড়ি বা হোটেল লুলুয়াত আল ভাওহীদের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাবেন ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা এবং আপগ্রেডেশনসহ শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা।

এ ছাড়া তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং একই আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন।

৩ নম্বর বাড়ি বা হোটেল রাওদাত আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা এবং দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন। এ ক্ষেত্রে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরারা পাবেন ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।

অন্যদিকে, ৪ নম্বর বাড়ি বা হোটেল মানার আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬ হাজার ২৪১ টাকা ২৪ পয়সা করে ফেরত পাবেন।

এ ছাড়া সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩-এর আওতায় হোটেল নান্দার ওয়ানে অবস্থানকারী প্রত্যেক হাজিকে ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা করে ফেরত দেওয়া হবে।

ধর্ম এর আরও খবর

img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : আমরা আমাদের মুল্যবান সময়কে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছি?

প্রকাশিত :  ১৮:৫৬, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শায়খ মুস্তফা আবদুল্লাহ

সময় আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিয়ামত। মানুষের জীবন মূলত আল্লাহর দেওয়া সময়েরই একটি সমষ্টি । তাই সময়কে অবহেলা না করে সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রত্যেকের দায়িত্ব— কথাগুলো বলেছেন শায়খ মুস্তফা আবদুল্লাহ।

২৮ আগস্ট শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবায় তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন, যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে সময় এমন একটি মৌলিক নিয়ামত, যার ওপর আমাদের শিক্ষা, ইবাদত, পরিবার, কাজ, সাফল্য ও মানুষের সেবা—সবকিছু নির্ভর করে।

তিনি বলেন, হৃদপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের আরেকটি মুহূর্ত চলে যাচ্ছে । হারিয়ে যাওয়া সময় আর কখনো ফিরে আসে না।

মোবাইল ফোন ও সোশাল মিডিয়াকে বর্তমান সময়ের বড় একটি বিভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা কয়েক মিনিটের জন্য ফোন হাতে নিই, কিন্তু অজান্তেই এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় চলে যায়। এতে শুধু মনোযোগ নষ্ট হয় না, জীবনের মূল্যবান একটি অংশও হারিয়ে যায়।

তরুণদের উদ্দেশে শায়খ মোস্তফা আবদুল্লাহ বলেন, যারা নতুন করে স্কুলে যাচ্ছে, জিসিএসই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করছে কিংবা ভবিষ্যতে কী করবে তা নিয়ে ভাবছে—তাদের উচিত কোনো কাজ শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে না রাখা।

অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার মাত্র এক বা দুই সপ্তাহ আগে পড়াশোনা শুরু করে । কিন্তু যদি বছরের শুরু থেকেই প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়া, রিভিশন বা নতুন কিছু শেখার অভ্যাস করা যায়, তাহলে পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত চাপ নিতে হয় না এবং প্রস্তুতিও অনেক ভালো হয়।

প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট পড়াশোনা হয়তো খুব সামান্য মনে হতে পারে । কিন্তু এই ১০ মিনিট যদি নিয়মিতভাবে কাজে লাগানো হয়, তাহলে কয়েক মাস বা এক বছরে তা অনেক ঘণ্টায় পরিণত হয় । একইভাবে, প্রতিদিন মাত্র দুই পৃষ্ঠা করে পড়লেও এক বছরে শত শত পৃষ্ঠা পড়া হয়ে যায়।

বড় সাফল্যের জন্য সবসময় একসঙ্গে অনেক কিছু করতে হয় না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে নিয়মিত চেষ্টা করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বড় অর্জনে পরিণত হতে পারে। তাই ভালো কোনো কাজ শুরু করার জন্য ‘পরে করব’ না ভেবে আজ থেকেই শুরু করা উচিত।

তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শক্তি ও সামর্থ্য কমে যায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, মানুষকে দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করার পর শক্তি দেন, আবার শক্তির পর দুর্বলতা ও বার্ধক্য আসে। তাই শক্তি ও সুযোগ থাকা অবস্থাতেই সময়ের সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।

পবিত্র কুরআনে সময়ের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আসরে সময়ের শপথ করেছেন। এছাড়া দিন, রাত, সকাল ও ভোরের শপথের মাধ্যমেও মানুষকে সময়ের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর হাদিস উদৃত করে তিনি বলেন, “যা তোমার উপকারে আসে, তার প্রতি আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অসহায় হয়ে বসে থেকো না।”

তিনি আরও বলেন, অলসতা মানুষের শুধু সময়ই নষ্ট করে না, জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও কেড়ে নেয়। তাই দিনকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো, সময়কে রক্ষা করা এবং ভালো কাজ দ্রুত শুরু করা উচিত।

খুতবার শেষাংশে মুসলিম কমিউনিটিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে মুসলমানদের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলিয়ে পরে সেসব বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে ব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে ইসলাম ও মুসলমানদের ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।

তিনি কমিউনিটির সদস্যদের এ ধরনের ব্যক্তিদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আলোচনায় না জড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, মসজিদ প্রাঙ্গণে এমন কিছু ঘটলে দায়িত্বশীল স্টাফদের দ্রুত জানানো উচিত।

সবশেষে শায়খ মুস্তফা আবদুল্লাহ দোয়া করেন, আল্লাহ যেন আমাদের সময়ের মধ্যে বরকত দান করেন, অলসতা ও উদাসীনতা থেকে রক্ষা করেন এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কল্যাণকর কাজে ব্যয় করার তাওফিক দেন।

(শায়খ মোস্তফা আবদুল্লাহ : অতিথি খাতিব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা, ২৮ আগস্ট ২০২৬। )