এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে যুক্ত হলো আরও একদিন। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাহী আদেশে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ছুটির অনুমোদন দেন। বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ড. সালেহ শিবলী।
সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মহানবমী উপলক্ষে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এর পরের দুদিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। এ দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।
ফলে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবার আর আলাদা করে কোনো ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি শেষ হবে শনিবার।
চলতি বছর মহালয়া হবে ১০ অক্টোবর। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।
সরকারি ছুটির আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ছুটির প্রভাব পড়বে। তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : আসুন, হৃদয়ের সুস্থতার জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসি
প্রকাশিত :
০৬:৫৫, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শায়খ মুস্তাফা আবদুল্লাহ
মানুষ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এমনভাবে জীবনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যেন এই পৃথিবীই তার স্থায়ী ঠিকানা । কর্মস্থল, যাতায়াত, বিল, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিড়ে মানুষ প্রায়ই ভুলে যায়—একদিন কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তার রূহ এই দুর্বল শরীর থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।
১৮ সেপ্টেম্বর ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবায় কথাগুলো বলেছেন শায়খ মোস্তাফা আবদুল্লাহ। তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উদৃত করে বলেন, “হে মানুষ! তোমাকে কোন জিনিসটি তোমার মহানুভব রব সম্পর্কে প্রতারিত (গাফেল) করেছে?” —সুরা আল-ইনফিতার, ৮২:৬।
শায়খ মোস্তাফা বলেন, একজন আলেম এই আয়াত শুনে বলেছিলেন, মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রতারিত করে তার অজ্ঞতা। কারণ অজ্ঞতাই মানুষকে গাফেল ও উদাসীন করে তোলে।
তিনি বলেন, আয়াতটিতে আল্লাহ নিজেকে ‘আল-কারিম’ বা মহানুভব ও পরম উদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উদারতা শুধু সম্পদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং হৃদয়ের প্রশস্ততাও এর অংশ । একজন মানুষ অন্যের ভুল ক্ষমা করতে পারে কি না, অতীতকে পেছনে ফেলতে পারে কি না এবং মানুষের ত্রুটির পাশাপাশি তার ভালো দিকও দেখতে পারে কি না—এসবও উদারতার অংশ।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “পার্থিব জীবন তো প্রতারণার ভোগসামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।” সুরা আলে ইমরান। তাই যে দুনিয়াকে আল্লাহ নিজেই প্রতারণার সামগ্রী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেই দুনিয়ার মোহে মানুষের অতিরিক্ত আসক্ত হওয়া উচিত নয়।
শায়খ মুস্তাফা আবদুল্লাহ বলেন, প্রথম যুগের এক ইমাম তাঁর এক ভাইকে উপদেশ দিয়েছিলেন—এই পৃথিবীতে যা নির্মিত হয়, একদিন তা ধ্বংস হবে; যা একত্রিত হয়, তা বিচ্ছিন্ন হবে; আর মানুষ শেষ পর্যন্ত কবরের যাত্রী হবে। তাই আল্লাহর দিকে দ্রুত ফিরে যাওয়া, তাঁর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা, আমল বাড়ানো এবং দুনিয়াবি আশা-আকাঙ্ক্ষা সীমিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, এখান থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। প্রথমত, মানুষের আকাঙ্ক্ষা সীমিত করা দরকার। প্রতি বছর নতুন ফোন, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও নতুন গাড়ি কিংবা আরও বড় বাড়ির পেছনে ছোটা সবসময় হারাম নয়। তবে মানুষকে নিজের কাছে প্রশ্ন করতে হবে—এসব কি প্রকৃত প্রয়োজন, নাকি শুধু আকাঙ্ক্ষা? আখিরাতের জন্য সে কী প্রস্তুতি নিয়েছি?
দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকের উচিত নিজের হিসাব নিজেই নেওয়া। তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর উক্তি উল্লেখ করে বলেন, “আজ আমলের সময়, হিসাব নেই; আর আগামীকাল হিসাব হবে, কিন্তু আমলের সুযোগ থাকবে না।”
অর্থাত, দুনিয়ার জীবন হচ্ছে কাজ করার সময়, আর আখিরাত হচ্ছে সেই কাজের হিসাব দেওয়ার সময়।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) জানিয়েছেন, বান্দার প্রাণ কণ্ঠে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। তাই তওবা ও সংশোধনের সময় এখনই।
তৃতীয়ত, ভালো কাজ করার তাওফিক আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে । তিনি নবী শু‘আইব (আ.)-এর কথা উদৃত করে বলেন, “আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই । তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাই।” —সুরা হুদ, ১১:৮৮।
শায়খ মুস্তাফা বলেন, মানুষ মোবাইল ফোন ও গাড়ি চার্জ করতে ভুলে না, কিন্তু হৃদয়কে আধ্যাত্মিকভাবে সচল রাখার কথা প্রায়ই ভুলে যায়। সালাতের সময় হয়ে যাওয়ার পরও নামাজে দাঁড়াতে অনীহা কিংবা রমজানে রোজার প্রতি অনাগ্রহ—এসব আত্মিক অসুস্থতার লক্ষণ।
তিনি বলেন, শরীরের মতো হৃদয়েরও সুস্থতা প্রয়োজন, আর সেই সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া জরুরি।
সবশেষে তিনি দোয়া করেন, “হে আল্লাহ, আমাদের হৃদয়কে গাফেলতা থেকে জাগিয়ে দিন, অন্তরকে সংশোধন করুন, দুনিয়ার দীর্ঘ আশা কমিয়ে দিন এবং আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের দিন আমাদের একটি নির্মল হৃদয় দান করুন। আমিন।”
শায়খ মুস্তাফা আবদুল্লাহ : অতিথি খতীব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।