প্রবাসীদের দাবি আদায়ে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের যুক্তরাজ্য শাখার সভা অনুষ্ঠিত
প্রকাশিত :
০৮:০১, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সিলেট প্রতিনিধি: প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি আদায় এবং সিলেট বিভাগের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি বাস্তবায়নের প্রত্যয় নিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার কার্যকরী পরিষদের পরিচিতি ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের নিউ রোডের একটি হলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শাহ মুনিম। সাধারণ সম্পাদক সলিসিটর এস. ইয়াওর উদ্দিনের পরিচালনায় সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রেজারার মাহবুবুর রহমান কোরেশী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন।
শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ ও সৈয়দ মাওলানা তানিম আহমদ।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডক্টর সানাওয়ার চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর ওসমান গনি, সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মানিকুর রহমান গনি, সাংবাদিক রহমত আলী, সাবেক সিভিক মেয়র রহিমা রহমান, সাবেক কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী, আব্দুল গফুর, সৈয়দ তাজির উদ্দিন মান্নান, মো. আব্দুল মুকিত, সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ আলী, সাংবাদিক মোস্তাক আলী বাবুল, আনিছুর রহমান, কয়ছর আহমদ, অধ্যাপক মিসবাহ কামাল, সোয়েব আহমদ, কবির আহমদ, শাহিন চৌধুরী, শাহ আকিকুর রহমান মিজান, আবুল কালাম, রোকন চৌধুরী, কবি আবু হোসেন, সাংবাদিক খালেদ মাসুদ রনি, কাজী বাবর আহমদ, মো. মাহবুব খান, হাসিম আব্দুল্লাহ ও সেলিম খানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা সিলেট বিভাগের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ জনদাবিগুলো তুলে ধরেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।
একই সঙ্গে দাবি আদায়ের আন্দোলন আরও সুসংগঠিত ও জোরদার করার লক্ষ্যে সভায় বিভিন্ন সাবকমিটি গঠন করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সংগঠনের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে সিলেট বিভাগের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
স্টেপনি ও পপলারের নতুন খেলার মাঠ গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা
প্রকাশিত :
০৭:৫৬, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
স্টেপনির শ্যান্ডি পার্কে একটি রঙিন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আধুনিক টডলার (শিশু) খেলার মাঠ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত এই নতুন খেলার স্থান এলাকার পরিবারগুলোর জন্য আনন্দ ও বিনোদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
হারফোর্ড স্ট্রিট এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাদের স্বপ্নের শিশুদের খেলার মাঠ কেমন হওয়া উচিত। তারা একটি প্রাণবন্ত, কল্পনাশক্তি বিকাশে সহায়ক এবং নতুন ধরনের খেলার সরঞ্জামসমৃদ্ধ জায়গার কথা বলেন, যেখানে ছোট শিশুরা নিরাপদে খেলতে ও আনন্দ করতে পারবে।
এই হাফ-টার্ম ছুটিতে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এবং ক্যাবিনেট মেম্বার ফর লেইজার, কালচার এন্ড ট্যুরিজম, কাউন্সিলর মিনারা খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন খেলার মাঠের উদ্বোধন করেন।
নতুন খেলার মাঠে শিশুদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ‘মি অ্যান্ড ইউ’ দোলনা, যেখানে বাবা-মা ও সন্তান একসঙ্গে দোলনায় চড়ার অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, \"আমাদের পার্ক ও খেলার সুবিধাগুলো শিশু, তরুণ ও পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এগুলো মানুষকে সক্রিয়, সুস্থ এবং একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সাহায্য করে। হাফ-টার্মের ছুটিতে এই চমৎকার নতুন খেলার মাঠটি চালু করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, কারণ এ সময় অনেক পরিবার এটি উপভোগ করার সুযোগ পাবে। এটি একটি প্রাণবন্ত ও সবার জন্য উন্মুক্ত স্থান, যেখানে শিশুরা আগামী বহু বছর খেলবে, নতুন কিছু আবিষ্কার করবে এবং বন্ধুত্ব গড়ে তুলবে।\"
খেলার মাঠে নতুন রাউন্ডঅ্যাবাউট যুক্ত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া একটি খেলনা গাড়িও স্থাপন করা হয়েছে, যা শিশুদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল ভূমিকা-ভিত্তিক খেলায় উৎসাহিত করবে।
নতুন খেলার মাঠের নকশা তৈরির সময় সহজপ্রাপ্যতা ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের সেন্সরি প্লে প্যানেল রয়েছে, যা সব সক্ষমতার শিশুদের অনুসন্ধান, শিক্ষা ও অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
লেইজার, কালচার এন্ড ট্যুরিজম বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর মিনারা খাতুন বলেন, \"এই নতুন স্থানটি সব সক্ষমতার শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় খেলার সুযোগ তৈরি করেছে। আমরা পুরোনো ও অপ্রচলিত সরঞ্জামের পরিবর্তে আধুনিক, উচ্চমানের এবং ছোট শিশুদের উপযোগী খেলার উপকরণ স্থাপন করেছি। এর ফলে একটি রঙিন, ইন্টারঅ্যাকটিভ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খেলার মাঠ তৈরি হয়েছে, যেখানে স্থানীয় পরিবারগুলো একত্রিত হতে পারবে এবং শিশুরা খেলাধুলা, শেখা ও আনন্দ করার সুযোগ পাবে।\"
শ্যান্ডি পার্কে উন্নয়নকাজ এখানেই শেষ হচ্ছে না। পরবর্তী ধাপে একটি নতুন জুনিয়র খেলার মাঠ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন খেলার সরঞ্জাম ও সুবিধা সম্পর্কে নিজেদের মতামত দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এর নকশা নির্ধারণে অংশ নিতে পারবেন।
একজন অভিভাবক বলেন, \"আমরা নতুন খেলার মাঠটি খুব পছন্দ করেছি। আমার সন্তানরা এটি দারুণ উপভোগ করছে এবং আমরা নতুন জুনিয়র খেলার জায়গাটির জন্যও অপেক্ষা করছি।\"
শ্যান্ডি পার্কের নতুন খেলার মাঠটি শিশু ও তরুণদের জন্য নির্মিত একাধিক নতুন খেলার স্থাপনার সর্বশেষ সংযোজন। গত ১৮ মাসে কাউন্সিল আটটি নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করেছে এবং ভবিষ্যতে বরো জুড়ে আরও নতুন খেলার মাঠ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পপলারের উইল ক্রুকস এস্টেটে নতুন প্রাণ
পপলারের উইল ক্রুকস এস্টেট দীর্ঘদিন ধরে বহু তরুণ পরিবার ও শক্তিশালী কমিউনিটি চেতনার আবাসস্থল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের খেলার স্থানটি পুরোনো হয়ে পড়েছিল এবং সেখানে থাকা অনেক সরঞ্জাম আর ব্যবহার করা হচ্ছিল না।
স্থানটির সম্ভাবনা বিবেচনা করে কাউন্সিল এটি নতুনভাবে সাজিয়ে এমন একটি স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেয়, যেখানে পরিবার এবং বৃহত্তর সম্প্রদায় একত্রিত হতে পারে।
উন্নত খেলার মাঠে এখন রয়েছে নতুন দোলনা, সি-স, স্লাইডসহ ক্লাইম্বিং ফ্রেম, স্পিনিং বোল এবং সেন্সরি প্লে প্যানেল। নকশা প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, যাতে সব সক্ষমতার শিশুরা সমানভাবে খেলাধুলার সুযোগ পায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। শিশুরা নতুন সুবিধাগুলো উপভোগ করছে, পরিবারগুলো আগের চেয়ে বেশি সময় বাইরে একসঙ্গে কাটাচ্ছে এবং স্থানীয় কিশোর-কিশোরীরাও এটি বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার একটি সামাজিক স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে।