রনি কাবিন করে সবার সামনে বিয়ে করেছেন: স্ত্রী দাবি করা ফারজানা
প্রকাশিত :
০৬:৫৪, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ গোলাম মাওলা রনিকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করা ফারজানা আফরোজকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফারজানা আফরোজকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রনি দাবি করেছেন, ওই নারী তার স্ত্রী নন।
রনির ফেসবুক পোস্টের জবাবে ফারজানা আফরোজও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সত্য প্রমাণের জন্য এত কিছু দেখানোর প্রয়োজন নেই। রনি তাকে অস্বীকার করলেই বাস্তবতা বদলে যাবে না।
ফারজানা আফরোজের দাবি, গোলাম মাওলা রনি চট্টগ্রামে গিয়ে তাকে কাবিন করে সবার সামনে বিয়ে করেছেন। এমনকি তার শাশুড়িও ছয় থেকে সাত মাস তার সঙ্গে ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ফারজানা আফরোজ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেটা সত্য, এটার জন্য এতকিছু দেখাতে হয় না। উনি (রনি) অস্বীকার করলে কি আসে যায়। উনি চট্টগ্রামে গিয়ে কাবিন করে সবার সামনে বিয়ে করেছেন। আমার শাশুড়ি ৬-৭ মাস আমার সঙ্গে ছিলেন। এখন এসে যদি এ কথাগুলো বলে, এগুলো সত্যতা প্রমাণের কোনো দরকার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমার স্বামী খুব ভালো মানুষ। আমি তো ওকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। উনি পারিবারিকসহ বিভিন্ন চাপে আছেন। যার কারণে এ ধরনের কথাগুলো বলতে বাধ্য হয়েছেন।’
এর আগে ফারজানা আফরোজ নিজের স্ত্রী নন বলে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন রনি। তিনি ওই নারীর ছবি শেয়ার করে স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘এ মহিলা আমার স্ত্রী নন। সাতকানিয়া জামায়াত নেতা হারুনের সাবেক স্ত্রী। চট্টগ্রামের বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা ঘি বাবুলের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং আমেরিকা প্রবাসী ইলিয়াসের আপনজন।’
কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ, মানতে হবে ৭ দফা নির্দেশনা
প্রকাশিত :
০৬:৪৫, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কারা অধিদপ্তর দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে । নতুন নির্দেশনায় লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অবহেলা ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আকস্মিক পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারী কারা কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনে বদলির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের দাবি, ইতোমধ্যে নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সাত দফা পদক্ষেপ
দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা রোধ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর।
সাত দফা নির্দেশনার আওতায় নেওয়া এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে-
কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ, মানতে হবে ৭ দফা নির্দেশনা
ভারতীয় ভিসায় হঠাৎ পরিবর্তন, আবেদনকারীদের সেসব নির্দেশনা মানতেই হবে
১. লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
২. প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি।
৩. দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
৪. তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৫. দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিং।
৬. বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
৭. নিয়মিত তদারকি ও আকস্মিক পরিদর্শন।
কারা অধিদপ্তরের আশঙ্কা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা এবং বিদ্যমান নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রতিদিন তদারকি, নজরদারিতে অপারেশনাল শাখা
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বাসসকে বলেন, সাত দফা নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সব কারাগারকে নিয়মিতভাবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত জমা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া সারা দেশের কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেলিম জানান, অধিদপ্তর ইতোমধ্যে নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
লকআপের পর কোনো কার্যক্রমে লাগবে লিখিত অনুমোদন
নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কারাগারে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে। এ কাজে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের নিয়োগ দিতে হবে।
যেসব কারাগারে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ নেই, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বে অনুপস্থিতি দেখলেই ব্যবস্থা
কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি প্রতিরোধে দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর।
কোনো প্রহরী বা পাহারাদার কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এরপর বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা বা এড়িয়ে যাওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।
অবহেলাকারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রয়োজনে বদলি
নির্দেশনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য বারবার অভিযুক্ত পাহারাদার কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় এসব কর্মীকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে। এ ছাড়া বিদ্যমান প্রবিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। এ সময় প্রহরীদের অবশ্যই নিজ নিজ নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
পাশাপাশি কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
নউল্লেখ্য, গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল, কারাগারের অভ্যন্তরে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে অবিলম্বে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।