img

১৩ মাসে এক হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড, ৫২৯ জন শিশু

প্রকাশিত :  ০৯:৪৮, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

১৩ মাসে এক হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড, ৫২৯ জন শিশু

দেশে ১৩ মাসে এক হাজারের বেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে ৪৪ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। সেই হিসাবে ১৩ মাসে ৫২৯ জন শিশুকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থা, আইন ও সালিশ কেন্দ্র সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সমাজ বিশ্লেষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে সম্প্রতি সারা দেশে খুনখারাবির মতো অপরাধ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ করেও আইনের ফাঁকফোকর গলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পার পাওয়া বা বিচার থেকে রেহাই পাওয়ার বিষয়টিও এতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।

অতি সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৯ বছরের শিশু সানজিদা খাতুন নামের এক শিশুকে হত্যার পর লাশ পুঁতে রাখা হয় ধানক্ষেতে। পাঁচ দিন লাশটি মাটির নিচে থাকায় শরীরে পচন ধরেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ বলছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই শিশুকে তার সত্বাবা হত্যা করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদরের বারোয়ারি বটতলা মহল্লার একটি বাসা থেকে তিনজনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলো ওই এলাকার বিকাশ চন্দ্র সরকার, তাঁর স্ত্রী স্বর্ণা রানী সরকার ও তাঁদের একমাত্র কন্যা ১৫ বছরের পারমিতা সরকার তুষি। তদন্ত সূত্রে পুলিশ জানায়, ব্যবসা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মামা বিকাশ চন্দ্রকে সপরিবারে হত্যা করেন তাঁর আপন ভাগ্নে রাজীব কুমার ভৌমিক।

এসব হত্যার বেশির ভাগ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জের ধরে তুচ্ছ কারণে মানুষ একে অপরকে হত্যা করছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব ঘটনা আরেকবার সামাজিক পরিসরে কুিসত কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্রও সামনে নিয়ে এসেছে। এসব ঘটনার জন্য নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে দায়ী করছেন সমাজবিদ, মনোবিদ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক পরিবর্তন, পারিবারিক মূল্যবোধ ও বন্ধন অনেকটা ভেঙে গেছে। বিশ্বায়নের যুগে মানুষের মধ্যে লোভ ও উচ্চাভিলাষ বাড়ছে। অবক্ষয ঘটছে নৈতিকতার। এ ছাড়া সমাজের বিভিন্ন বিশৃঙ্খল পরিবেশ মানুষের মানসিক সমস্যা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অপরাধ বিশ্লেষক মাওলানা ভাষানি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক  মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সমাজে এখন যে ধরনের অপরাধপ্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তুচ্ছ কারণে একজন আরেকজনকে খুন করছে। বেড়েছে সহিংসতা। এর পাশাপাশি মানুষের আয়-রোজগার কমে যাওয়া, বেকারত্ব, মানবিক ও মানসিক বিপর্যয়ও এই অস্থির পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এ জন্য সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের দায় রয়েছে। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

পুলিশের তথ্যে অপরাধের চিত্র

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর সূত্র বলছে, গত এক বছরে রাজধানীর আটটি ক্রাইম বিভাগের ৫০ থানা এলাকায় হত্যার ঘটনায় ১৬৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক মামলায় সন্দেহে থাকা ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে। বেশির ভাগ মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ডিএমপির এক পরিসংখ্যান বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে খুনের ঘটনা বেড়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, সমাজে মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয় আর পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণেই বেশির ভাগ অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। ফলে খুনখারাবি বেড়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মাসে সারা দেশে এক হাজারের বেশি হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ৬০ শতাংশ পারিবারিক কলহের কারণে ঘটে। নিরপরাধ শিশুরাও স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের কারণে হত্যার শিকার হয়।

যা বলছে মানবাধিকার সংগঠন

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৫ নভেম্বর থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় সামাজিক বিরোধ থেকে সংঘর্ষ, সংঘাত, হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সহিংসতার অন্তত ৭৪৯টি ঘটনায় নিহত ১৫ জন। আহত দুই হাজার ৫১৬ জন। ১০০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ৪৫০টির বেশি গৃহ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতে ৪৫ জন নিহত হয়েছে। এ সময় গণপিটুনিতে ৫১ জন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ২০ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর নারীর প্রতি সহিংসতা ছিল উদ্বেগজনক বিষয়। এ সময়ে সারা দেশে ৫৭৩ জন নারী ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তিন নারীকে। ধর্ষণের শিকার আরো তিন নারী আত্মহত্যা করেন। এ ছাড়া এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২২ জন পুরুষ। প্রতিবাদ করতে গিয়ে আটজন নারী-পুরুষ খুন হন।

পুলিশের সাবেক আইজি মো. শহীদুল হক বলেন, বর্তমানে সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে। এ কারণে খুনোখুনি বাড়ছে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এসব রোধে সমাজের বিজ্ঞজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সাম্প্রতিক আরো হত্যাকাণ্ড

গত ২১ জানুয়ারি গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার পর হাজারীবাগের একটি সাততলা বাড়ির বাথরুমে ফেলে রাখা হয় তানিয়া নামের এক নারীর লাশ। ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা করতেন তিনি।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ বলছে, ১৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে তানিয়াকে হত্যা করা হয়। পারিবারিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে।

এই তথ্য দিয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘তানিয়া হত্যাকাণ্ডে তার কাছেরই কেউ জড়িত থাকতে পারে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর মধ্যপাড়া এলাকায় গত মঙ্গলবার বিকেলে তাছলিমা আক্তার নামের এক নববধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সৌদিপ্রবাসীর সঙ্গে বিয়ের চার দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামীর সংসারে যান এই নারী। 

এর দুই দিন আগে গত রবিবার রাতে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের মুরাদ হোসেনকে তাঁর বাড়ির পাশের সড়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

দেশের সার্বিক এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন বলেন, বেশির ভাগ অপরাধের মূলে রয়েছে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধ।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

শিশু রামিসাকে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা, মূল সন্দেহভাজন আটক

প্রকাশিত :  ১৮:৪২, ১৯ মে ২০২৬

সাত বছরের ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তার স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পথে প্রতিবেশীর লালসার শিকার হলেন। নিজ ফ্ল্যাটে ঢোকার আগেই পাশের ফ্ল্যাটের মাদকাসক্ত সোহেল রানা টেনে বাথ রুমে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তাকে। হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয় বলে ধারণা পুলিশের। 

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ঘটে নৃশংস এ হত্যার ঘটনা। অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩২) রিক্সা মেকানিক। শিশুটাকে হত্যা করে পালায় সোহেল। সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। তবে এর আগেই তার স্ত্রী সম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। 

সোহেল-সম্পা দম্পতির ঘরে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসা ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল। 

রামিসা মিরপুর পল্লবীর পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার সকালে রামিসা বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাইরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী সোহেলের বাসার বন্ধ দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কারও সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ এ বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। 

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বন্ধ দরজা ভেঙে পুলিশ বাসায় ঢুকে সোহেলের ঘরে রক্ত দেখতে পায়। এর পর প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। শরীর বিববস্ত্র ছিল। খাটের নিচে এক কোণায় রঙয়ের খালি প্লাস্টিক বালতির মধ্যে কাটা মাথার সন্ধান মেলে। 

সোহেলের স্ত্রী সম্পা রান্না ঘরে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগেই সোহেল পালিয়ে যান। অপর দুটি কক্ষে তালাবদ্ধ ছিল। 

পল্লবী থানা পুলিশ ছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারি আব্দুল হান্নান পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্লাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। এর পাশের ফ্ল্যাটের তিনটি কক্ষে আলাদা তিন পরিবার বাস করে।

একটি ঘরে বাস করে সোহেল-সম্পা দম্পতি। ওই ঘর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় শিশুটির মাথা শরীর বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। পুলিশের প্রাথমিকভাবে ধারণা, ধর্ষণের পর রামিসাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। 

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, শিশুটি স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। তাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকত ঘাতক মাদকাসক্ত সোহেল। দুই ফ্ল্যাটের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থেকে সোহেল শিশুটিকে টেনে রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়। পরে বাথরুমে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। আমাদের ধারণা ধর্ষণ করে মিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করেছে। 

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় সোহেলের বউ ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। 

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটির লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রথমে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই বাসার ভেতরে একটি বালতির মধ্যে মাথাটি পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, প্রতিবেশী সোহেল শিশুটিকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেলের স্ত্রীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনের কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন সোহেলকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 


বাংলাদেশ এর আরও খবর