img

ডেটা সুরক্ষা ইস্যু: টিকটককে ৭ হাজার কোটি টাকা জরিমানা

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ০৫ মে ২০২৫

ডেটা সুরক্ষা ইস্যু: টিকটককে ৭ হাজার কোটি টাকা জরিমানা

ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটককে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। ডেটা সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে না পারায় আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জনপ্রিয় অ্যাপটিকে ৫৩ কোটি ইউরো জরিমানা করেছে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৭ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার সমান)। দ্য গার্ডিয়ানে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন মতে, ইউরোপীয় ব্যবহারকারীদের যেসব তথ্য চীনে পাঠানো হচ্ছে, সেসব তথ্যে চীনা সরকার প্রবেশ বা ব্যবহার করে না এমন নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় টিকটককে এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা করেছে আইরিশ নজরদারি সংস্থা ডেটা প্রোটেকশন কমিশন (ডিপিসি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা চীনের মালিকানাধীন ভিডিও-শেয়ারিং অ্যাপটি সাধারণ ডেটা সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণ (জিডিপিআর) আইন লঙ্ঘন করেছে বলে দেখতে পেয়েছে। চীনে পাঠানো ইইএ ব্যবহারকারীর ডেটা দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুরক্ষিত থাকবে কিনা তা প্রতিষ্ঠানটি বিবেচনা করেনি।

এই কমিশন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলজুড়ে টিকটকের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি আইসল্যান্ড, লিচেনস্টাইন ও নরওয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে টিকটক। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করতে চাইছে কোম্পানিটি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই জাপানের অনলাইন শপিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করবে চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক।

এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে গত সপ্তাহে জাপানের সংবাদপত্র নিক্কেই জানায়, জাপানে নিজেদের ই-কমার্স শাখা ‘টিকটক শপ’-এর জন্য শিগগিরই বিক্রেতা নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিটি। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি টিকটক।


img

ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়াবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১৭:০৯, ২৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৪৫, ২৬ জুন ২০২৬

উচ্চগতির ইন্টারনেট বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। অনলাইন মিটিং, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা সাধারণ ব্রাউজিং—সবকিছুর জন্যই একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, চড়া মূল্য চুকিয়ে বেশ ভালো গতির ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ ব্যবহার করার পরেও কাঙ্ক্ষিত স্পিড বা গতি পাওয়া যায় না।

ইন্টারনেট ডাউন বা ধীরগতির এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের খরচ ছাড়াই কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল অবলম্বন করে ইন্টারনেটের কার্যকারিতা এবং গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।

ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান যে কারণটি কাজ করে, তা হলো ওয়াই-ফাই রাউটারটি ঘরের ঠিক কোন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। অনেকেই রাউটারকে আলমারি, টিভির পেছন বা মোটা দেয়ালের পাশে রাখেন, যা ওয়াই-ফাই সিগন্যালের পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সংযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই রাউটার এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে চারপাশ খোলা থাকে এবং সিগন্যাল সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রাউটারটি মাসের পর মাস দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা একটানা চালু থাকার কারণে এর অভ্যন্তরীণ প্রসেসর ও মেমোরির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা ডিভাইসটির সার্বিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রাউটার বন্ধ করে পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুনরায় চালু করলে এর ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির সমস্যা দূর হয়।

রাউটারের অবস্থানও ইন্টারনেটের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসার এক কোণে রাউটার স্থাপন করলে দূরের কক্ষগুলোতে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ঘরের কেন্দ্রীয় স্থানে রাউটার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুরো বাসায় তুলনামূলকভাবে সমান সিগন্যাল পৌঁছায়।

যদি এসব পদ্ধতিতেও সমস্যার সমাধান না হয়, অন্যান্য উপায়েও ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো সম্ভব। প্রয়োজন হলে রাউটারের রিসেট অপশন ব্যবহার করা যেতে পারে। অধিকাংশ রাউটারে একটি ছোট রিসেট বাটন থাকে, যা চেপে ধরলে ডিভাইসটি ডিফল্ট সেটিংসে ফিরে যায়। এতে অনেক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর হতে পারে। তবে রিসেট করার পর পুনরায় নেটওয়ার্ক সেটআপ করতে হবে।

এ ছাড়া রাউটারের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা উন্নত করতে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে। পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ধীরগতির ইন্টারনেট মানেই যে নতুন বা আরও ব্যয়বহুল প্যাকেজ নিতে হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে রাউটারের সঠিক ব্যবহার, অবস্থান পরিবর্তন, পুনরায় চালু করা, রিসেট করা কিংবা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে সংযোগের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।


 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর