img

মিউজিয়াম অব হোম…

প্রকাশিত :  ১৯:৪৬, ০৮ আগষ্ট ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৫৩, ০৮ আগষ্ট ২০২৫

মনজুরুল আজিম পলাশের নিয়মিত কলাম

মিউজিয়াম অব হোম…

মিউজিয়াম অব হোম! আমার বাসার পাশেই পূর্ব লন্ডনে সর্ডিচ এলাকায় অবস্থিত। এটি একটি বিশেষায়িত মিউজিয়াম। কয়েক শতাব্দীব্যাপি (১৮৭৮-২০৪৯) ব্রিটিশ মধ্যবিত্ত সমাজের জীবনযাপন-বসবাস কিভাবে রূপায়িত-বিবর্তিত হয়েছে বা আগামীতে হতে পারে এই মিউজিয়ামে তা বিন্যস্ত-উপস্থাপণ করা হয়েছে। এর গবেষণা-সূক্ষ্মতা-উপাদান উপকরণের সংগ্রহ তথা কিউরেটিং বিস্ময়কর। বাসাবাড়ি এমনভাবে সাজানো যে তা বিশ্বাস না করে পারা যায়না। খাবার দাবার পর্যন্ত বানানো হয়েছে কৃত্তিমভাবে পরিবেশকে অথেন্টিক করবার জন্যে। ফায়ার প্লেসে যে আগুন জ্বলছে তা লাকড়ির উপর আলো প্রেক্ষপণ ও শব্দ দিয়ে সাজানো হয়েছে। বিশেষ শ্রেণী-গোত্রীয় কিছু মানুষ তাদের ঘরদোর যে অগোছালো রাখতেন তা পর্যন্ত এসেছে এই মিউজিয়ামের নির্দোষ উপস্থাপনে। শিল্প নির্দেশনা-উপস্থাপনে সিনেমার সেট এর চেয়েও বেশি এর এক একটা সেকশন। মানুষের একটা আস্ত জীবন-যাপনকে তুলে নিয়ে এসে কিভাবে মিউজিয়াম এর মধ্যে প্রোথিত করা যায় তার সফল উদাহরন হয়ে আছে এই মিউজিয়াম। আমি জানিনা ‘হোম’ নিয়ে এত সামর্থ্যের সাথে বিশ্বে আর কোথাও এই ধরণের মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত আছে কিনা। ব্রিটিশ সমাজের রক্ষণ-কিউরেটিং যে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি-সম্পদ এই মিউজিয়াম তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। 

এই মিউজিয়াম নানা কর্মকান্ড-কর্মশালায় সক্রিয় থাকে দিনব্যাপী। বিশেষ করে পরিবার-বাচ্চাদের জন্য রয়েছে নানা আকর্ষণীয় কর্মকান্ড। এখন সামার ভেকেশন চলছে। যে কেউ পরিবার-বাচ্চাদের নিয়ে একটি দিন কাটাবার জন্য আদর্শ স্থান হতে পারে মিউজিয়ামটি। ‘মিউজিয়াম অব হোম’ সেই অর্থে একটি জীবন্ত মিউজিয়ামও বটে। আর্ট ড্রইং এর নানা কর্মকান্ড এবং বাসার নানা দ্রব্য সামগ্রী বানাবার কর্মশালা এই প্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক কাজ। 

মিউজিয়ামের সামনে পেছনে অনেক জায়গা। এখানে আছে সময় কাটাবার-বসবার চমৎকার আয়োজন। এছাড়াও এই মিউজিয়ামে আছে পরিচ্ছন্ন রেস্টরুম। মিউজিয়াম ঘুরে কিছুটা ক্লান্ত হলে একটু হাতমুখ ধুয়ে কিছুক্ষন বসে গায়ে রোদ পোহানো যায় এর বাগানে বসে। বাচ্চারা ছুটাছুটি করতে পারে এর উন্মুক্ত পরিসরে। মিউজিয়াম অব হোম—সবার জন্যেই একটি

ঘরোয়া শান্তির হাতছানি হয়ে আছে। 

স্থানীয় মানুষ বা পর্যটক যে কেউ বেড়াতে লন্ডন আসলে এই মিউজিয়ামকে তাদের দর্শন তালিকায় রাখতে পারেন। লন্ডন যে মিউজিয়ামের শহর হিসেবে বিখ্যাত এই মিউজিয়াম তারও প্রমান দেয়। 

img

‘আমি লেখক নই, শব্দের টোকাই’— মানুষের না-বলা বেদনা নিয়েই যার পথচলা

প্রকাশিত :  ০৯:০৬, ১৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫২, ১৪ মে ২০২৬

ড. নাজমুল ইসলাম

নিজেকে লেখক বা সাহিত্যিক পরিচয়ে পরিচিত করাতে তিনি নারাজ। বরং মানুষের ফেলে আসা কষ্ট, নীরব কান্না আর অবহেলিত জীবনের গল্প কুড়িয়ে বেড়ানো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই নিজের ভাষায় তিনি বলেন, "আমি আসলে একজন শব্দের টোকাই।"

তাঁর মতে, সাহিত্য কেবল কল্পনার রঙিন জগৎ নয়; বরং মানুষের বাস্তব জীবনের ক্ষত, না-বলা বেদনা আর নীরব দীর্ঘশ্বাস থেকেই সত্যিকারের লেখনীর জন্ম হয়। শহরের ক্লান্ত ফুটপাত, গ্রামের ধুলোমাখা পথ, হাসপাতালের করিডোরে কান্নায় ভেঙে পড়া কোনো মা কিংবা শেষ ট্রেন মিস করা মানুষের নিঃসঙ্গ প্রতীক্ষা — এসব দৃশ্যই তাঁর শব্দের মূল উৎস।

তিনি বলেন, "আমি গল্প লিখি না, মানুষর ভেতরে জমে থাকা কষ্টের ভাষা খুঁজে বেড়াই।" সারাদিন রিকশা চালিয়ে রাতে সন্তানকে আধপেটা খাইয়ে ঘুম পাড়ানো বাবার চাপা দীর্ঘশ্বাস কিংবা প্রতিদিন হাসির অভিনয় করা কোনো মেয়ের অন্তর্বেদনা — এসব অনুভূতিই তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য।

তাঁর লেখার টেবিলে জমা থাকে ভাঙা স্মৃতি, নির্ঘুম রাত আর অসমাপ্ত স্বপ্নের আখ্যান। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজ যাদের কথা মনে রাখে না এবং ইতিহাস যাদের পাশ কাটিয়ে যায়, তারাই আসলে সবচেয়ে গভীর গল্পের মানুষ।

মানুষের চোখের জলকে তিনি সবচেয়ে 'সত্যিকারের ভাষা' বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, "কান্না শুকিয়ে যাওয়ার পর যে দাগটি থেকে যায়, আমি শুধু সেই দাগের ভাষা পড়ার চেষ্টা করি।"

গভীর রাতে মানুষের যাতনা তাঁকে নির্ঘুম রাখে। কোনো অবহেলিত মানুষের ভাঙা স্বপ্ন বা নীরব দীর্ঘশ্বাস যখন তাঁর সত্তায় শব্দ হয়ে প্রতিধ্বনিত হয়, তখনই তিনি কলম ধরেন। নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি আবারও বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "আমি লেখক নই; আমি কেবল মানুষের ফেলে যাওয়া ব্যথা কুড়িয়ে বেড়ানো এক শব্দের টোকাই।"