img

খাগড়াছড়িতে সহিংসতায় ৩ মামলা, আসামি হাজারের বেশি

প্রকাশিত :  ০৭:৪২, ০২ অক্টোবর ২০২৫

খাগড়াছড়িতে সহিংসতায় ৩ মামলা, আসামি হাজারের বেশি

খাগড়াছড়ির গুইমারা ও সদর উপজেলায় সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় হাজারেরও বেশি অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা গুইমারা থানায় এবং একটি মামলা খাগড়াছড়ি সদর থানায় দায়ের করা হয়েছে।

কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে অবরোধের সময় খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারা উপজেলায় সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যাসহ তিনটি মামলা করেছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি এবং গুইমারা থানায় দুইটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় হত্যা, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাঙচুর, দাঙ্গা সৃষ্টি ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৬০০/৭০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়।

অপরদিকে গুইমারা থানায় হত্যা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।  

গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে গুইমারার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে আটক শয়ন শীলকে ছয়দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।  

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে সকাল থেকে বাজারে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের লোকজন স্বাভাবিকভাবে আসতে শুরু করেছে। খাগড়াছড়ির সব সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, দোকানপাটও খোলা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখনো ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে।

img

পলাতক অবস্থায় মৃত্যু, সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে যা জানা গেল

প্রকাশিত :  ০৬:২৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর লাশ তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের খোড়া কবরে দাফন করা হয়েছে।

রোববার দিনগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে লাশ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।  

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর লাশ আসলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে মানিকের লাশসহ স্বজনরা। পরে পুলিশের সহায়তায় লাশ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে পুলিশ। 

পরে রাত ১টার দিকে পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় লাশ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করেন। এ সময় কিছু এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। 

মানিকের বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ধস্তাধস্তি হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পর মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই’। 

জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতারা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতারা কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত দুই মাস অসুস্থ থেকে মৃত্যুবরণ করেন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর