img

টঙ্গীর জোড় ইজতেমার মোনাজাতে মুসল্লিদের ঢল

প্রকাশিত :  ০৫:৫৯, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২১, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

টঙ্গীর জোড় ইজতেমার মোনাজাতে মুসল্লিদের ঢল

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা। সকালে ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে ইজতেমা ময়দানে। দোয়ায় অংশ নেন প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মুসল্লি।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে দোয়া শুরু হয়ে ৯টা ১৩ মিনিটে শেষ হয়। 

২১ মিনিটব্যাপী মোনাজাতে “আমিন… আমিন…” ধ্বনিতে কম্পিত হতে থাকে সমগ্র টঙ্গীর ময়দান। মাঠজুড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। 

দোয়া পরিচালনা করেন পাকিস্তানের মাওলানা আহমেদ বাটলা।

এবারের জোড়ে ২৭টি দেশ থেকে ৭৩২ জন বিদেশি মেহমান অংশগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ হলো— পাকিস্তান, ভারত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, কানাডা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, তিউনিসিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নাইজার, আফগানিস্তান, জার্মানি, জাপান, চাঁদ, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মিশর, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।

জোড় ইজতেমা চলাকালে মোট ৬ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

দোয়া শেষে কয়েক হাজার চিল্লার জামাত ও ৩ চিল্লার জামাত আগামী ০২, ০৩ ও ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য খুরুযের জোড়ের প্রস্তুতির জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যান। বাকি মুসল্লিরা মোকামি কাজ ও আনেওয়ালা জোড়ের মেহনত নিয়ে নিজ নিজ মহল্লায় ফিরে যান।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


ধর্ম এর আরও খবর

img

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র কার্ডিফ ব্রাঞ্চের মেম্বারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১০:৩৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র সাউথ ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্যোগে মেম্বারশিপ কনফারেন্স ২০২৬  ওয়েলসের  রাজধানী কার্ডিফের বাংলাদেশ সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।
সংগঠনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের সভাপতি ক্বারি মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় গত ১১ ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই মহতি পোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম এ কাদির আল হাসান, সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী, ওয়েলস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমেদ, ওয়েলস ডিভিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আলী, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জালালিয়া  মসজিদের ঈমাম ও খতীব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মুক্তাদির, ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার, জেনারেল সেক্রেটারি আনসার মিয়া, সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ট্রেজারার ক্বারী শাহ তসলিম আলী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সৈয়দ শামসুল হক রানু, 

ট্রেনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ আতিকুজ্জামান, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি ক্বারি মুজাম্মিল আলী ও শাহজালাল মসজিদের সহকারী ঈমাম মাওলানা হাফিজ তাওহিদুল হক প্রমুখ।

সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা জালাল উদ্দীনের কোরআন তিলাওয়াত ও সদস্য মাওলানা মাকসুদুর রহমানের নাতে রাসুলের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মেম্বারশিপ কনফারেন্সে অন্যান্যদের মধ্যে সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিহুর রহমান মিজান,ভাইস প্রেসিডেন্ট জিলু মিয়া, এডুকেশন এন্ড কালচারাল সেক্রেটারি হাফিজ ইমরান আহমদ, ট্রেইনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি হাফিজ ইব্রাহিম আলী মাসুদ, ও এক্সিউটিভ মেম্বার সেলিম আহমদ সহ  সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

কনফারেন্সে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, সদস্য বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভার শুরুতেই সম্মানিত প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নব প্রজন্মের সন্তান মেহরাজ আহমেদ সহ কার্ডিফ ব্রাঞ্চ কমিটির নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে  আনজুমানে আল- ইসলাহ ইউকে'র ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্দ্যোগে জালালিয়া মসজিদে মিলাদ এবং ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শেষে দোয়া ও মিলাদ পরিচালনা করেন। 

এর পূর্বে কার্ডিফজালালিয়া মসজিদ কমিটির সাথে অফিস হলে তিনি মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি কার্ডিফের  বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পরিচালিত কার্ডিফ দারুস সুন্নাহ উইকেন্ড মাদ্রাসা ও পরিদর্শন করেছেন। 

মেম্বারশিপ কনফারেন্সে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, সুন্দর ও সফল জীবন গঠনের জন্য মানুষের ভালো কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা, সবসময় ভালো চিন্তা ও কল্যাণকর ভাবনাকে হৃদয়ে লালন করা এবং সত্যবাদী ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভালো মানুষের সঙ্গ মানুষের জীবনকে আলোকিত করে এবং তাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গ মানুষকে ধীরে ধীরে ভুল ও অন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারে। এজন্য আমাদের উচিত সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু মানুষের সান্নিধ্যে থাকা এবং সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে পারে।

তিনি বলেন, একজন মানুষের বাহ্যিক কর্মের পাশাপাশি তার অন্তরের পরিশুদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অন্তরকে অহংকার, হিংসা ও লোভের মতো ব্যাধি থেকে হেফাজত করতে হবে। কারণ এসব কুপ্রবৃত্তি মানুষের আত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে বিভেদ ও অশান্তি তৈরি করে। তাই আমাদের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখার জন্য সর্বদা প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আমাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের কর্ম ও আমলের প্রতি সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনা বা মুহাসাবা করা। প্রতিদিন নিজের কাছে হিসাব নেওয়া প্রয়োজন, আমি আজ কী ভালো কাজ করেছি, আমার দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং আমার চিন্তা ও কর্ম আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হচ্ছে কি না।

মাওলানা হুছামুদ্দীন ফুলতলী আরও বলেন, আনজুমানে আল ইসলাহ কোনো জাগতিক বা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নয়। এটি মূলত মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাজকিয়ায়ে নফসের শিক্ষা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সংগঠনের প্রত্যেক দায়িত্বশীলকেই সর্বপ্রথম নিজের চরিত্র, চিন্তা ও আমলের সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

সংগঠনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে আর ও নিষ্টা ও নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পালনে প্রত্যেককেই দায়িত্বশীলতার ভূমিকা পালন করতে হবে। যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আমানতদারিতার সাথে পালন করতে হবে। মনে রাখবেন, দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধাঁ, প্রতিকূলতা কিংবা সমালোচনার সম্মুখীনও হতে পারেন। কিন্তু সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে ধৈর্য ও সবরের মাধ্যমে দ্বীনের কাজ আনজাম দিয়ে যেতে হবে বলে নিদের্শনা প্রদান করেছেন।

------------------------------