img

কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিল সরকার

প্রকাশিত :  ১২:০০, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিল সরকার

কোনো ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ফলে এ ধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইলিশ মাছের ইনডোর বা কৃত্রিম পরিবেশে চাষ সংক্রান্ত যে আলোচনা ও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে।

এতে বলা হয়, বিশেষ প্রযুক্তি রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম ব্যবহার করে ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ চাষ সংক্রান্ত একটি সভা গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের  উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভার সার্বিক পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ইলিশ মাছ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকার সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নীতিনির্ভর বিষয়।

এতে বলা হয়, আলোচনার প্রেক্ষিতে আরও প্রতীয়মান হয় যে, আরএএস কিংবা অন্য কোনো ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। ফলে এ ধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি প্রদান করা হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইলিশ সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হতে হবে। অনুমোদনবিহীন কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, এ বিষয়ে জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সম্মাননা পেলেন মোস্তাফা ইসলাম ডিউক

প্রকাশিত :  ১১:৩৪, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৮, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিনের অবদান ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন । সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের নেতৃত্বে তৈরি ‘ফ্লোরাব্যাংক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার’ বিশ্বের অন্যতম সেরা কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব লর্ডস ব্যারোনেস মানজিলা উদ্দিন তার হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একই অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি সমাধানে নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউককে সম্মানসূচক ডক্টরেট (অনরারি পিএইচডি) ডিগ্রি প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি।

এই অর্জনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি তার পরিবার, সহকর্মী, মেন্টর এবং বিশ্বজুড়ে থাকা শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই অর্জন আমাকে আগামীতে আরও দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতেও নতুন লক্ষ্য নিয়ে বৈশ্বিক প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদান রাখতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যুক্তরাজ্য সফরের অংশ হিসেবে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্যাচার বিজনেস এডুকেশন সেন্টারে “দ্য ফিউচার অব ব্যাংকিং ইনোভেশন: ইন্টিগ্রেটিং এআই অ্যান্ড মেশিন লার্নিং” শীর্ষক বিষয়ে মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) উপস্থাপন করেন। ব্যাংকিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সম্ভাবনা নিয়ে তার এই গবেষণালব্ধ বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।