img

উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতায় কি আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল বানাচ্ছে ইরান?

প্রকাশিত :  ০৬:৩৮, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪৫, ০৫ মার্চ ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতায় কি আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল বানাচ্ছে ইরান?

ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পারস্পরিক কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও পরমাণু বিস্তার বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস ই. বেকটল জুনিয়র মন্তব্য করেছেন যে, ইরান ইতোমধ্যে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সক্ষমতা অর্জনের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তার মতে, এই কর্মসূচি এগিয়ে নিতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

তার মতে, কিছু বিশ্লেষক দাবি করেন যে ইরানের এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করার মতো আইসিবিএম কর্মসূচি নেই। তবে এই মূল্যায়ন বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ বলছে, উত্তর কোরিয়া ইরানকে শক্তিশালী রকেট প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইরানকে প্রায় ৮০ টন শক্তির রকেট বুস্টার প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। এই প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার হোয়াসং-১৫ আইসিবিএমে ব্যবহৃত হয়, যার পাল্লা প্রায় ৮ হাজার মাইল, ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

এই রকেট প্রযুক্তির সঙ্গে আরডি-২৫০ ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। এই ইঞ্জিন শক্তিশালী থ্রাস্ট তৈরি করে এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ২০১৩ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া ইরানকে এই রকেট প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করছে। এমনকি ২০১৫ সালের দিকে উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে কয়েকবার প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল; যখন একই সময় ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা চলছিল।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রযুক্তি বিনিময়ের কারণে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে। এর মধ্যে হোয়াসং-১২ মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইআরবিএম), যার পাল্লা প্রায় ৪,৫০০ কিমি; হোয়াসং-১৪ আইসিবিএম, যা আলাস্কার অ্যাংকরেজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে; হোয়াসং-১৫ আরও উন্নত আইসিবিএম, যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্লেষকের মতে, যদি এই প্রযুক্তি ইরানের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে ইরানও ধীরে ধীরে উন্নত আইআরবিএম ও আইসিবিএম সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

তবে, মিসাইল প্রযুক্তিতে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা নতুন নয়। অতীতে উত্তর কোরিয়া থেকে স্কাড, নো-ডং এবং অন্যান্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইরানের কাছে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সাল পর্যন্তও উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পাঠানো হয়েছিল।

সূত্র : নাইনটিন ফোরটি ফাইভ


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

জলবায়ু গত পরিবর্তনে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হবে, যাদের প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৪:৫৭, ০২ মে ২০২৬

সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ আমান উল্লাহ: বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত অভিবাসনের অভিযোজন চ্যালেঞ্জ স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধান বিষয়ক কর্মশালয় হয়েছে রাজধানী সিডাপ মিলনায়তনে। সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেট মুভমেন্ট রিসার্চ ( রামরু) এই আয়োজনে, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে,

রামরুর নির্বাহী পরিচালক ডক্টর তাসলিম সিদ্দিক বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ ২৫ কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হবে, যার ৪ কোটি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়, এরমধ্যে বাংলাদেশে স্থানচ্যুত হবে ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ, তিনি বলেন যেখানে ইন্ডাস্ট্রি সেখানে কাজয়, সেখানে লো রেন্টাল হাউজিং দরকার, আর কিচ্ছু দরকার নাই।  তার চেয়ে আমরা যদি লো রেন্টালে তাদের, যেখানে ইন্ডাস্ট্রি সেখানে হাউসিং প্রোভাইড করতে পারি, তাহলে কিন্তু হচ্ছে। তাহলে আমাদের হাউসিং তৈরি করতে হবে, সরকার বলতে পারে আমাদের টাকা নাই, তাহলে গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ন কেন বানাচ্ছো, তা না বানিয়ে এইখানে বানান। আর এ থেকে উত্তরণের জন্য গ্রাম ও শহর ভিত্তিক সঠিক ব্যবস্থাপনা নেওয়ার খুব জরুরী।

সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে জলবায়ু অভিবাসীদের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি, 

মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদেরকে ক্লাইমেট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, বিজ্ঞান এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে এমন কোন গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি, যে এখানে সমস্যা হলে সবাই মিলে সেই গ্রহে চলে যাব , বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত এতটা শক্তিশালী হয়নি, অতএব আমাদের জন্য পথ একটাই খোলা আছে এই গ্রহকে বাসযোগ্য করতে হবে, বাসযোগ্য রাখতে হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি  বলেন, স্থানীয় মানুষদের নিয়ে পরিকল্পনা নেই বলে তারা শহরে পেট্টন প্লান    সংকটে পড়ে, সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার বলেও উল্লেখ করেন ।

তিনি আরো বলেন, সরকার শেষ চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য সর্বোত্তম ভাবে চেষ্টা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে, যারা মূলত ‘জলবায়ু-প্ররোচিত’ আয়ের ক্ষতির কারণে দারিদ্র্যের নতুন শিকার হবে।

শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৪ কোটি ৮৮ লাখে।

বিশ্বব্যাংক আর জানিয়েছে, সাহারা-উপসাহারীয় আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল হবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব অঞ্চলের দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো, সীমিত সামাজিক সুরক্ষা এবং বারবার চরম আবহাওয়ার ধাক্কায় পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। স্থানীয় সরকার ও নাগরিকদের পক্ষে এই অভিঘাত সামলানো হয়ে উঠবে চরম দুরূহ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী এই দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অভিযোজনে সাহায্য করতে হবে।

বিশ্বব্যাংক সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে—জলবায়ু পরিবর্তন যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য হ্রাসের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর