img

নারী কোটা বাতিল, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা

প্রকাশিত :  ০৬:৫৩, ২৯ আগষ্ট ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪৫, ২৯ আগষ্ট ২০২৫

নারী কোটা বাতিল, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা

গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী ও পোষ্য কোটার প্রথা বাতিল করা হয়েছে এবং বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ বছর।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ৯৩ শতাংশ সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের ৮০ শতাংশ পদে সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, যা আগে ৬৫ শতাংশ ছিল। বাকি ২০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী না থাকলে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পদ পূরণ করা হবে।

বিধিমালায় এবার শরীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীত বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগের মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এবং ৮০ শতাংশ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে পূরণ হবে।

নির্দিষ্ট কোটার মধ্যে রয়েছে: ৫ শতাংশ পদ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য, ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য।

কোটা অনুযায়ী প্রার্থী না থাকলে মেধাভিত্তিক প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকলে প্রার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না। শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও থানাভিত্তিক হবে।


img

৪ লাখ ৬৮ হাজার সরকারি পদ শূন্য, নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ০৯:০৮, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি চাকরির বিভিন্ন গ্রেডে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এসব শূন্যপদ পূরণে এরইমধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিএসসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুখস্থ নির্ভর সিলেবাস বাদ দিয়ে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের অনুমতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উত্থাপন করা হয়। সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে, প্রথম শ্রেণি (১ম-৯ম গ্রেড) ৬৮,৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণি (১০ম-১২তম গ্রেড) ১,২৯,১৬৬টি পদ। ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১,৪৬,৭৯৯টি পদ। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড ১,১৫,২৩৫টি পদ। অন্যান্য ৮,১৩৬টি পদ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি তদারকির জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

এমপি হারুন-অর-রশিদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ চলছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পর্যালোচনা করছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর জ্ঞান ও মনোভাব যাচাইয়ে ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ চালু এবং এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছিল। এছাড়া গত সরকারের সময় নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিষয়ে দুদক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে।

চাকরি এর আরও খবর